একাল সেকাল

শনিবার, ২৮ জুলাই ২০১৮

আফরোজা পারভীন রুমা

ইরাবতী ঘাড় কাত করে কান পেতে রেডিওতে নাটক শুনছেন। মা যদিও কপট রাগ দেখাচ্ছেন কিন্তু ইরাবতীর সব মনোযোগ নাটকে। তখন ইরাবতীর বয়স কত? এই নয় দশ বছর। আর দশজনের কাছে পাকামো মনে হতে পারে। কিন্তু ইরাবতী নাটক খুব না বুঝলেও দুপুরের এই আলসে সময়টুকুন খুব ভালো লাগে। চতুর্দিক একটি সুনসান নীরবতা বিরাজ করে। তখনো টেলিভিশন এত ঘরে ঘরে ছিল না। মাকে খুব ভয় পেত। তারপরও ভরদুপুরে নাটক শোনার লোভে একটু বেয়াড়া হয়ে যেত।

কৈশোরে পা দিতেই গল্পের বইয়ের নেশায় পেয়ে বসল। মা দুপুরে ঘুমিয়ে পড়লে চুপি চুপি নিজ হাতে বানানো এক কাপ চা আর নিহার রঞ্জন, শরৎ বাবু, রবি ঠাকুর এদের সৃষ্টি করা চরিত্রগুলোর মাঝে একাত্ম হয়ে যেত। ব্যালকনির এক কোণে বসে হেলে পড়া রোদের দুপুরটাকে দেখতে কি যে ভালো লাগত। ইরাবতীর ভাত ঘুম বলে কিছু ছিল না। এই অলস দুপুরটা ছিল একান্ত নিজের এবং আজো।

ইরাবতীর বাবার অসুস্থতার অজুহাতে কৈশোর উত্তীর্ণ বয়সে বিয়ে হয়ে গেল। ছোট্ট ইরাবতী কিন্তু বড় সংসার এবং বড় বৌ। সংসার সামলে ওঠা বিরাট ঝক্কি। ইরাবতী সাংসারিক কাজ তেমন পারে না তারপরও চেষ্টা অব্যাহত ছিল। পাশাপাশি নিজেকে শাণিত করতে পড়াশুনাটাও চালিয়ে গেছে কিন্তু দুপুরের এই নিজের সময়টুকু সে কোনো কিছুর সঙ্গে ভাগ করেনি। হুমায়ূন আহমেদ, সুনীল, সমরেশ মজুমদার, সমরেশ বসু, মৈত্রেয়ী দেবী এদের সঙ্গে দারুণ সখ্য গড়ে উঠেছিল বরাবরের মতো সঙ্গে এক মগ গরম চা, কি উপভোগ্য! এসব ইরাবতীর সুখস্মৃতি।

এখন ইরাবতী অনেকটা বয়স পার করে এসেছে। গল্প উপন্যাসের বই হয়তো ধরা হচ্ছে না কিন্তু ইরাবতী তার প্রিয় অলস দুপুরটাকে আগের মতোই উপভোগ করে। আজ ইরাবতী ফেবুতে ব্যস্ত থাকে। দেশ বিদেশে তার অনেক বন্ধু এবং তাদের লেখা সুন্দর সুন্দর গল্প কবিতা মনোযোগ দিয়ে পড়ে।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj