আমার দুপুর

শনিবার, ২৮ জুলাই ২০১৮

বন্দনা আমীর

অলস দুপুরের কথা মনে করতে গেলে আমার খুব মনে পড়ে সেই ছোট্টবেলার অলস দুপুরগুলোকে। স্কুল থেকে ফিরে গোসল সেরে ভাত খেয়ে উঠবার পরই শুরু হতো আমার অলস দুপুর। আজিমপুর কলোনিতে আজিমপুর কমিউনিটি সেন্টারের ঠিক উল্টো দিকের বিল্ডিংটিতে কেটেছে আমার শৈশব। আর এই আজিমপুর কমিউনিটি সেন্টারে সে সময় দিন-রাতই লেগে থাকত কোনো না কোনো বিয়ে- সেই বিয়ের বর আসা, গেট ধরা নিয়ে ঝগড়া-ঝাটি, হট্টগোল দেখা –দূর থেকে কনের ঘোমটা ঢাকা না দেখা মুখটা দেখবার দুর্দান্ত চেষ্টা করা- এ সবই ছিল আমার অলস দুপুরের প্রহর কাটানোর এক চরম বিনোদন।

যেসব দুপুরে বিয়ে থাকত না সেসব দুপুরে বেবি আইসক্রিমওয়ালার সাইকেল গাড়ি আর তার ঘণ্টার আওয়াজ মিলত খুব সহজেই। চার আনা নিয়ে জানালায় বসে থাকতাম কখন আসবে সেই আইসক্রিমওয়ালা। কি যে সুস্বাদু ছিল খেতে সেই বেবি আইসক্রিম। রং তুলি হাতেও কেটেছে আমার অনেক অলস দুপুর। দুপুরের খাঁ খাঁ রোদ আমার বিষণœ মনটাকে যখন আরো বিষণœ করে তুলত আমি তখন মন ডুবাতাম রং তুলিতে।

কখনো আবার আলনা থেকে শাড়ি নিয়ে তা পরে নিজের মনে একা একাই খেলতাম ‘টিচার-টিচার খেলা’। ঘরের দরজা ভেজিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্কুলের টিচারদের অনুকরণে নিতাম ক্লাস। আরেকটু বড় হওয়ার পর অলস দুপুরে রেডিওতে ওয়ার্ল্ড মিউজিক শুনে কাটানো সময়গুলো আজ যতদূরেই থাকুক না কেন মনে হয়ে যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে এখনই!!

স্কুলজীবনের পর অলস দুপুরের দেখা আর মেলেনি কখনো। কলেজ আর ভার্সিটি জীবনের দুপুরগুলো তো কেটেছে কলেজ-ভার্সিটির ক্লাসে, মাঠে কিংবা কমন রুমই। আর এখন কাটে অফিসের টেবিলে। শুধু মাঝখানে কিছুটা সময় কেটেছে মেয়ের সঙ্গে, মেয়ে যখন ছোট তখন, সংসারের সব কাজ শেষ করে মেয়েকে নিয়ে দুপুর বেলায় অল্প একটু ঘুম! আহা!!

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj