স্মৃতিমাখা দুপুর

শনিবার, ২৮ জুলাই ২০১৮

মাসুদা আখতার

তখন আমি দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। আমরা থাকতাম পাথরঘাটা আশরাফ আলী রোড। আমাদের বাসার আশপাশে অনেক দালান, বাড়িঘর, বাড়ির সামনে খোলা জায়গা। স্কুলের বন্ধুরা অনেকে থাকত। মাঝে মাঝে দ্বিধায় পড়ে যেতাম কোন বন্ধুর পাড়ায় গিয়ে খেলব। স্কুল থেকে ফিরেই ভাত খেয়ে মায়ের পাশে ঘুমের ভান করে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকা। ব্যস, ঝিমুনি দুপুর বেলা দৌড়ে যেতাম বন্ধুদের ভিড়ে।

বিশাল কিশোর-কিশোরীর দল, হৈচৈয়ের মাঝে চলে চিঁ বুড়ি, রুমাল চোর, খেলায় খেলায় কবিতা শেখা আরো কত নাম না জানা খেলা। কখনো মার্বেল, ডাঙ্গুুলি, ফুটবল, ছাদে ভাইয়াদের সঙ্গে মাঞ্জা লাগানো ঘুড়ি উড়ানো, ঘরে বসে লুডু, দাবায়।

আবার কোনো কোনো দিন কিছু বন্ধু মিলে হাঁটতে হাঁটতে চলে যেতাম এলাকার বাইরে। মনের ভেতরে অজানা ভয় কাজ করত। অবাধ্য হওয়ার ভয়। কিছু দূরে ছিল গির্জা। ভরদুপুর বেলা, দুরু দুরু বুকে নির্জন কবরস্থানে আমরা ঘুরছি।

গির্জার ভেতরে প্রার্থনারত মানুষগুলো, একপাশে মা মেরির কোলে শিশু যিশু, সব মিলিয়ে কেমন গম্ভীর ভয় লাগার পরিবেশ, মনে মনে গির্জায় ঢোকার অপরাধ কতটুকু হিসাব মেলাতে অস্থির। বাসায় যদি জানতে পারে! হঠাৎ ঢং ঢং ঢং গির্জার ঘণ্টা বেজে ওঠে, নীরবতা খান খান করে আকস্মিক ঘণ্টার শব্দ শুনে ভয়ে এমন ভোঁ দৌড়। এভাবেই দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামত।

২.

সকাল হলে জানালা খুলে রাখা আমার প্রতিদিনের রুটিন। খোলা জানালায় তাকিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যাই। শূন্যে তাকানো নির্থক, হিসাবের গরমিল আলসে দুপুরে অস্থির জীবন। থমকে যাওয়া দুপুর, স্মৃতিরা কড়া নাড়ে হর্ষে বিষাদে। গভীর ঘুম চোখে হঠাৎ চোখ খুলে যায় কোথাও কিছু হলো!

অস্থির মন ভার লাগে আলসে দুপুর। কে সে যেন তাড়া করে, কারো শূন্যতা মনের কোণে হু হু করা বিষাদ সময়। কি নেই! কি নেই!

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj