হজে অংশগ্রহণকারীদের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮

হজের প্রস্তুতি হিসেবে ফিজিওথেরাপির প্রয়োজনীয়তা :

পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে লাখ লাখ মুসলমান পবিত্র মক্কা শরিফে সমবেত হন। এই হজব্রত পালনের জন্য প্রত্যেকটি মানুষই চায় সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্থতা বা ফিজিক্যাল ফিটনেস। সাধারণত আমাদের দেশের পেক্ষাপটে মধ্যবয়সী বা চল্লিশোর্ধ লোকজনই বেশি গিয়ে থাকে যাদের বেশিরভাগই কোনো কোনো ডিজেনারেটিভ ডিজিজ বা হাড় বা অস্থির ক্ষয়জনিত রোগে ভুগে থাকেন যেমন- ঘাড়ে ব্যথা, কোমর ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা, কাঁধে ব্যথা ইত্যাদি যা বেশির ভাগ ৪০ ঊর্র্ধ্ব মানুষের হাড়ের ক্ষয়জনিত কারণে হয়ে থাকে।

যেহেতু পবিত্র হজ একটি শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত সেহেতু এখানে হাজি সাহেব বা সাহেবাদের মহান আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে অনেক হাঁটাহাঁটি, পাথর নিক্ষেপসহ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কিংবা হাঁটাচলা করে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। অতএব এ ক্ষেত্রে একজন হজযাত্রীর শারীরিক সক্ষমতা বিশেষভাবে জরুরি। সে ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে ফিজিক্যাল ফিটনেস আছে কিনা? বা কোনো সমস্যা থাকলে সমাধানের চেষ্টা করা অথবা কি কি ব্যায়াম করলে অথবা কি ধরনের নিয়মকানুন মেনে চললে পবিত্র হজব্রত সঠিকভাবে পালন করা যায় তার জন্য প্রত্যেক হজযাত্রীর হজের প্রস্তুতিস্বরূপ ফিজিওথেরাপির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

কিছু নিয়মাবলি মেনে চললে ব্যথামুক্ত সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে হজ পালন করা সম্ভব সেগুলো হলো :

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কিংবা বসে না থাকা অর্থাৎ ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে আছেন একটু বিশ্রাম নিয়ে নেবেন অথবা ৩০ মিনিট বসে আছেন, ৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করে এরপর বসবেন।

যেহেতু হজে যাওয়ার সময় প্রত্যেক হজযাত্রীর সঙ্গে ভারী লাগেজ থাকে এগুলো খুব সাবধানতার সঙ্গে ওঠানামা করা বিশেষ করে লাগেজ ওঠাতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে ঘাড়ে বা কোমরে ব্যথা পেতে পারেন যার অন্যতম কারণ ডিক্স প্রলেপস অর্থাৎ সামনের দিকে ঝুঁকে ভারী কিছু ওঠাবেন না।

যারা আগে থেকেই ঘাড় বা কোমর ব্যথায় ভুগছেন তারা ঈবৎারপধষ পড়ষষধৎ এবং ষঁসনবৎ পড়ৎংবঃ বেল্ট সঙ্গে নিয়ে যেতে ভুলবেন না। এটা দীর্ঘক্ষণ হাঁটাচলার সময় ও ভ্রমণের সময় ব্যবহার করতে হবে।

যারা হাঁটুর অস্থিক্ষয় বা অস্টিওআর্থাইটিস রোগে ভুগছেন তারা সঙ্গে শহবব পধঢ় নিবেন। এটি হাঁটাচলার সময় ব্যবহার করবেন, কিন্তু বিশ্রামের সময় খুলে রাখবেন এবং চিকিৎসকের নির্দেশিত ব্যায়ামগুলো সঠিকভাবে করলে ব্যথামুক্ত হজ পালন করতে পারবেন ইনশাল্লাহ।

বিশেষ করে যারা অনেক বয়স্ক অর্থাৎ ৬৫ বা ৭০-এর ঊর্ধ্বে বয়স একা চলাফেরা করতে কষ্ট হয় এমন ব্যক্তিরা অবশ্যই ওয়াকিং এইড হিসেবে লাঠি নিতে পারেন যাতে ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়া থেকে প্রতিরোধ করবে।

সর্বোপরি মহান আল্লাহতায়ালার হুকুম পালন করতে যেন অসুবিধা না হয় সে জন্য হজের প্রস্তুতি হিসেবে বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

হজ পরবর্তী শারীরিক সুস্থতায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

যেহেতু পবিত্র হজ পালন করতে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে অনেকেই হজ থেকে আসার পর বিভিন্ন ধরনের ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকেন। তার মধ্যে হাঁটু ব্যথা, কোমর ব্যথা, ঘাড় ব্যথা ও কাঁধে ব্যথা উল্লেখযোগ্য। এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

সে ক্ষেত্রে হজব্রত পালন শেষে দেশে এসে বিলম্ব না করে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে ব্যথার কারণ নির্ণয় করে সে অনুযায়ী ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন।

ডা. এম ইয়াছিন আলী

বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ

সিটি হাসপাতাল, ঢাকা

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj