পিছুটান

শনিবার, ১৪ জুলাই ২০১৮

** আল-মাসুদ হক মিঠুল **

সময়ের প্রতিক‚লতায় চলতে চলতে যখন হাঁপিয়ে ওঠে মনটা, ব্যাকুলতায় কুঁকড়ে ওঠে রঙিন স্বপ্নগুলো তখন ভীষণ ছন্নছাড়া লাগে নিজেকে!

খুঁজে ফিরি একটু সুখ, শান্তজ পরিবেশ! চলার পথে স্মৃতি হাতড়িয়ে দেখি প্রিয়তমার মুখ, বড্ড স্বার্থপর মনে হয় নিজেকে! প্রিয় মানুষটির সেই চাওয়া স্বপ্নের সারথী হয়ে ভেসে ওঠে বারবার! বাস্তব পৃথিবীর বাস্তব নিষ্ঠুরতা, সকল ক্লান্তি অবসান হয়, মনটাকে শীতল করে এক চিলতে- স্বর্গীয় হাসি!

শ্রাবণীর সেই হাসিটুকুই নিয়ে যায় এক অন্যরকম আবেশে। স্বার্থহীন ভালোবাসা বুঝি একেই বলে?

বারবার অনুভূত হয় ফেলে আসা অতীত স্মৃতিগুলোকে, শ্রাবণীকে আদর করে ডাকতে ইচ্ছে করে, বলতে ইচ্ছে করে তুমি শুধুই আমার।

হঠাৎ ফোন বেজে ওঠার শব্দে ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে এল রমজান। এতক্ষণ থেকে সে নিজের সঙ্গে নিজেই কথা বলছিল।

ফোনটা একবার বেজে কেটে গেল, পুনরায় রিং হচ্ছে।

ফোনটা রিসিভ করতেই ও পাশ থেকে একটি মেয়ে কণ্ঠ ভেসে এল

-কে রমজান?

-জী রমজান বলছি।

তুমি আমায় ক্ষমা করে দিও প্লিজ, বলেই ফোনটা কেটে গেল।

রমজান প্রায় মিনিটখানেক বোবা হয়ে রইল।

কল ব্যাক করতে গিয়ে দেখল সুইচড অফ।

আজ সাত মাস পর শ্রাবণীর ফোন পেয়ে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না রমজান।

চার বছরের প্রেমটা এমন করে একটি পথের বাঁকে হঠাৎ থমকে গিয়ে এলোমেলো হয়ে যাবে রমজান আদৌ ভাবেনি,

চার বছর আগে শরতের এক শান্ত সকাল বেলায় রমনার বটমূলে যে প্রেমটার শুরু হয় সেই জায়গাতেই শেষ দেখা ও কথা হয় দুজনার যাবার বেলায় বেশ ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল শ্রাবণী।

রমজান ঠায় হাত ধরে রেখেছিল সে কোনোভাবেই শ্রাবণীকে যেতে দিবে না, এক প্রকার জোর করেই শ্রাবণী হাত ছাড়িয়ে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চলে গিয়েছিল। রমজান ছোট শিশুর মতো তার চলে যাওয়ার পথে চেয়ে চেয়ে ডুকরে কেঁদেছিল।

তবু শ্রাবণীর কথায় রমজান সান্ত¡না খুঁজে পেয়েছিল এই ভেবে যে শ্রাবণী তার জন্মদাতা বাবা-মাকে অসম্মান করেনি, যারা ছোট থেকে এত বড় করেছে তাদের কথাকে অগ্রাহ্য করে রমজানকে বিয়ে করতে চায়নি।

শ্রাবণী চেয়েছিল তার মা-বাবার সম্মতি নিয়েই রমজানকে বিয়ে করবে কিন্তু তখনো রমজান প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি তাই তার বাবা-মা সম্পর্কটা মেনে নেয়নি যার জন্য শ্রাবণীকে অন্যত্র বিয়ে দিতে হয়।

শ্রাবণীর জায়গায় রমজান হলেও তাই করত, তাইতো রমজান ধীরে ধীরে পরিস্থিতিকে মানিয়ে নিয়েছিল তবু মাঝেমধ্যে নিজের মনকে সামলাতে পারে না ডুকরে কেঁদে উঠে ঠিক কি যেন নেই সব যেন শূন্যতায় ভরা। আজ আবার শ্রাবণীর ফোন পেয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, গভীর একটা শূন্যতা অনুভব করছে সে, দুচোখ বেয়ে টপটপ করে ঝরে পড়ছে জল হাতের উল্টো পিঠে চোখ মুছতে মুছতে বিড়বিড় করে বলে চলল, আমার ভালোবাসা সার্থক যা আজো তোমাকে আমায় ভুলতে দেয়নি, ক্ষমা কেন চাচ্ছো পাগলি, ভালোবাসায় ক্ষমা থাকতে নেই যা আছে পুরোটাই ভালোবাসা।

:: চাপারহাট, লালমনিরহাট

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj