সংসদে রওশন এরশাদ : সহানুভূতির দৃষ্টিতে কোটার বিষয়টি বিবেচনা করুন

শুক্রবার, ১৩ জুলাই ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়ে তারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তারা তো আমাদের সন্তান। তারা তো আবদার করবেই। তারা তো চাকরি চাইবেই। যেমন করে হোক তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সচেতন আছেন। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, তিনি যেন সহানুভূতির দৃষ্টি নিয়ে এ বিষয়টি বিবেচনা করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের একুশতম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার জনগণের চাহিদা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে, তা চিন্তাভাবনা করতে হবে। আমরা বেকার যুবকদের চাকরি দিতে পারছি না। সংসদে আসলাম, বসে সময় কাটালাম, তাহলে তো হবে না। এ সময় চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছরে উত্তীর্ণ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশকে ভালোবাসেন। জাতিকে ভালোবাসেন। তিনি এটা পারবেন।

বিদেশে চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে রোগী দেখেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশের চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে রোগী দেখেন না। এখানে তাড়াহুড়া করা হয়। অনেক সময় রোগী সম্পর্কে ডাক্তার জানতেই চান না। ওষুধের চেয়ে ডাক্তারের আন্তরিকতা বেশি প্রয়োজন। আন্তরিকতার ঘাটতির কারণে অনেকে বাইরে চলে যান।

রওশন এরশাদ বলেন, মাদকের ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। অনেক প্রভাবশালী লোক মাদকে জড়িয়ে পড়েছে। মাদকের ব্যবসা করছে। কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকে মাদক ব্যবসায় জড়াচ্ছে। তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে। এদের বাঁচাতে হবে। কাজ দিতে হবে।

রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী চলাচল করলে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়। রাস্তায় যানজট ছাড়তে ছাড়তে রাত হয়ে যায়। অন্য রাস্তায় যাওয়াই যায় না। বৃষ্টিতে সব রাস্তা ভাঙা। এখানে যারা আছেন, সবাই জানেন। কিন্তু কারও সাহস নেই বলার। সবাই যানজটে নাকাল থাকে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচন করে আপনাদের দায়িত্ব দিয়েছি। সব সমস্যাগুলো তো আপনাকে দেখতে হবে। এই সমস্যাগুলো না দেখলে সরকারের ভালো কাজগুলো ফুটে উঠবে না।

বাজেটে প্রণোদনা নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, ব্যাংক লুটপাটকারীদের কর কমানো হয়েছে। ব্যাংক খাতে লুটপাট চলছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। ব্যাংক খাতের নৈরাজ্য বন্ধ করতে হলে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। ১৬ লাখ মানুষ ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj