বৈঠকে মির্জা ফখরুল : ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মরিয়া সরকার

শুক্রবার, ১৩ জুলাই ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : সরকার দেশে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ক্ষমতাসীনরা নিয়মকানুন, ন্যায়-নীতি, সংবিধান কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে তারা একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চাইছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানে হোটেল লেক সোরে বিএনপির উদ্যোগে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি শীর্ষক এই গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এ অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর ‘রাইট টু লাইফ : এ ফার ক্রাই ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে ১৫ মিনিটে প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

বিএনপি মহসচিব মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মানবাধিকারসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য রিয়াজ রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মার্কিন দূতাবাসের মানবাধিকারবিষয়ক সচিব মাইক ক্রেমার, ফ্রান্স দূতাবাসের উপ-প্রধান জ্যঁ-পিয়ের পঁশে, ভারতের রাজনৈতিক বিভাগের শান্তনু মুখার্জিসহ কানাডা, সুইডেন, পাকিস্তান, ইরান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ প্রভৃতি দেশের ক‚টনীতিকরা অংশ নেন। এ ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানাব- বাংলাদেশে এখন কী হচ্ছে তা নোট করুন। আমরা একটি গণতান্ত্রিক জাতি। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল, আমরা গণতন্ত্রের বিশ্বাসী করি। আমি মনে করি বিএনপিকে ছাড়া কোনো নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর সরকারের নিপীড়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের হিসেবে ৫শ অধিক নেতা হারিয়ে গেছেন তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, আমাদের হিসাবে ১০ হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। সারা দেশে আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা হয়েছে এবং এসব মামলায় ১৮ লাখ মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj