সংসদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী : বিদেশে চিকিৎসাসেবা নেয়ার নীতিমালা হচ্ছে

শুক্রবার, ১৩ জুলাই ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত কতজন রোগী বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিয়েছে ও কত টাকা ব্যয় হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান আপাতত দেয়া সম্ভব নয়। তবে, নীতিমালা প্রণয়নের পর এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য দেয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশের রোগীদের বিদেশ গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেয়ার লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ডা. মো. এনামুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, প্রতিবছর আমাদের দেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কিছু সংখ্যক রোগী বিদেশে যায়। তবে, মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মূলত চারটি কারণে চিকিৎসা নেয়ার জন্য তারা বিদেশে যান। কারণসমূহ হচ্ছে- আর্থিক সচ্ছলতা, বিদেশে চিকিৎসা প্রীতি, হেলথ ট্যুরিজম ও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসা স্বল্পতা। এ প্রবণতা কমিয়ে আনতে দেশে সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালকে আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা সুসজ্জিতকরণের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। তা ছাড়া বেসরকারি পর্যায়েও রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের বেশ কিছু আধুনিক হাসপাতাল যেখানে অন্য দেশ থেকে রোগীরা এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আবদুল মান্নান ও মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের পৃথক পৃথক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে এই মুহূর্তে এক লাখ ডাক্তার প্রয়োজন। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশে সরকার নিবন্ধিত ডাক্তার রয়েছে মাত্র ২৮ হাজার। সরকার অচিরেই আরো ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে। ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ করলেও ডাক্তারের সংকট থাকবে। আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তাই চাইলেও আজকেই সব সমাধান করা সম্ভব হবে না।

জাহান আরা বেগম সুরমার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় মানুষ চারটি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। রোগগুলোর মধ্যে চর্মরোগ, পায়ে ও হাতের আঙুলে পচন ধরা বা গ্যাংগ্রিন, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং লিভার, কিডনি, মুত্রাশয় ও ফুসফুস আক্রান্ত হওয়া ইত্যাদি। এসব রোগ সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করতে সরকার সচেতনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

গোলাম দস্তগীর গাজীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরো দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের জন্য আইন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মো. নুরুল ইসলাম ওমরের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন করে মোট ১২ হাজার ৮৩৭ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কর্মরত আছে। বর্তমানে এক হাজার ৫৬টি সিএইচসিপি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj