ফ্রান্স না ক্রোয়েশিয়া? শক্তির বিচারে দুদল সমান হলেও ইতিহাস ফ্রান্সের পক্ষে

শুক্রবার, ১৩ জুলাই ২০১৮

খেলা ডেস্ক : ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে ২১তম বিশ্বকাপের পর্দা নামছে ১৫ জুলাই। গ্রুপ পর্ব, দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের লড়াই শেষ। এখন বাকি রয়েছে আর মাত্র ২টি ম্যাচ। যেখানে একটি হচ্ছে তৃতীয়স্থান নির্ধরণী ম্যাচ, স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচটি নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই ফুটবলপ্রেমীদের। সবার দৃষ্টি এখন মস্কোর লুজনিয়াকির ফাইনাল ঘিরে।

আগামী রবিবার স্বপ্নের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া। ফ্রান্স এর আগে আরো তিনবার বিশ^কাপের ফাইনালে খেলেছে। যেখানে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ সালের বিশ^কাপের শিরোপাও জিতেছে তারা। তবে ক্রোয়েশিয়া এবারই প্রথমবারের মতো বিশ^কাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছে। ১৯৯৮-এর বিশ^কাপে জিনেদিন জিদানরা যেভাবে সৌরভ ছড়িয়ে শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল এবার কি কিলিয়ান এমবাপ্পেরা সেভাবে ফরাসি সৌরভ ছড়িয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতার আনন্দে মাতিয়ে তুলতে পারবেন নিজ দেশের সমর্থকদের, নাকি তাদের হারিয়ে প্রতি ২০ বছর পরপর নতুন একটি দেশের বিশ^চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ধারাবাহিতা ধরে রেখে ক্রোয়েশিয়াই জিতবে বিশ^কাপের শিরোপা- তা দেখার অপেক্ষায় এখন সারা বিশে^র অগণিত ফুটবলপ্রেমী। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের অধিনায়ক হুগো লরিস নাকি ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মড্রিচের হাতে উঠবে শিরোপা সে আলাচনা এখন সর্বত্র?

লুজনিয়াকি স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচটিকে ইতোমধ্যে ফ্রান্সের ওপর ক্রোয়েশিয়ার প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ বলে অভিহিত করেছেন অনেকে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ^কাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছিল লুকা মড্রিচদের পূর্বসূরিরা। তবে সেবার জিদানদের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ডেভর সুকারদের। এরপর দুদল এবারই প্রথম বিশ^কাপের ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। তাই এ ম্যাচে এন্তোনি গ্রিজম্যানদের হারাতে পারলে ১৯৯৮ সালের বিশ^কাপের সেমিফাইনালে হারের প্রতিশোধ যেমন নেয়া হবে তেমনি প্রথমবারের মতো শিরোপাও জিততে পারবে কোচ জøাতকো ড্যালিচের শিষ্যরা। অতীত রেকর্ড অবশ্য বলছে কাজটি মোটেই সহজ হবে না ক্রোয়েশিয়ার জন্য। কেননা এর আগে ক্রোয়াটরা মোট ৫ বার ফরাসিদের মুখোমুখি হয়েছিল। যেখানে ফ্রান্সের ৩টি জয়ের বিপরীতে ক্রোয়েশিয়ার কোনো জয় নেই। এ ছাড়া ড্র হয়েছে বাকি ২টি ম্যাচ। অতীত রেকর্ডে ফ্রান্স ফেভারিট হলেও সাম্প্রতিক পারফরমেন্স বলছে পিছিয়ে নেই ক্রোয়েশিয়াও।

রাশিয়া বিশ^কাপে এখন পর্যন্ত খেলা সবকটি ম্যাচেই জিতেছে মড্রিচরা। ফাইনাল পর্যন্ত আসার পথে তারা হারিয়েছে আর্জেন্টিনা, ডেনমার্ক, রাশিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে। অন্যদিকে ফাইনালে আসার পথে কোচ দিদিয়ের দেশ্যামের শিষ্যরা হারিয়েছে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও বেলজিয়ামের মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে। এ ছাড়া গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও পেরুকেও হারিয়েছে তারা। সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলকে হারানো ফ্রান্স নিঃসন্দেহে রাশিয়া বিশ^কাপের শিরোপার অন্যতম দাবিদার। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ^কাপের ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলে শিরোপা জিতেছে তারা। তবে ২০০৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ^কাপের ফাইনালে উঠলেও ইতালির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাদের। এবার ১২ বছর আগের সে আক্ষেপ পূরণের পালা ফরাসিদের। অন্যদিকে এ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে আত্মবিশ^াস জোগাবে একটি বিষয়। ইতিহাস বলছে প্রতি ২০ বছর পর নতুন দল বিশ^চ্যাম্পিয়ন হয়। যেখানে ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ^কাপের শিরোপা জেতে উরুগুয়ে। ১৯৫৮ সালে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে ব্রাজিল। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের কারণে মাঝখানে দুটি বিশ^কাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। ব্রাজিলের শিরোপা জেতার ২০ বছর পর ১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা ও তার ২০ বছর পর ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে ফ্রান্স। এবার কি তাহলে ক্রোয়েশিয়ার পালা?

এ ম্যাচে অবশ্য এমবাপ্পে, গ্রিজম্যান, জিরোদ, পগবাদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে। তবে ক্রোয়েশিয়ার ভরসা মাঝমাঠ; যেখানে আছেন লুকা মড্রিচ, ইভান রাকিটিচ, আন্তে রেভিচের মতো তারকারা। লড়াইটা অবশ্য দুই দলের গোলরক্ষকের মধ্যেও হবে। বিশ^কাপে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়ানো দুই গোলরক্ষক সামলাবেন দুই দলের গোলপোস্ট। যেখানে ফ্রান্সের গোলপোস্ট সামলাবেন হুগো লরিস ও ক্রোয়েশিয়ার গোলপোস্ট সামলাবেন ডেনিয়েল সুবাসিচ। নতুন দেশ হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার হাতে উঠবে বিশ^কাপ, নাকি দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতবে ফ্রান্স- তা দেখার অপেক্ষা এখন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj