সিলেটে নির্বাচনকে ঘিরে সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত

শুক্রবার, ১৩ জুলাই ২০১৮

ফারুক আহমদ ও জাহিদুল ইসলাম, সিলেট ব্যুরো : নিবন্ধন বাতিল হওয়া দল জামায়াতে ইসলামী সিলেটে মেয়র পদে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী দেয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেয়ার কৌশল নিয়েছে। দীর্ঘদিন নগরীর রাজপথে দেখা না গেলেও সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো সংগঠিত হচ্ছে দলটি। তাছাড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনেই বিএনপির ওপর চাপ প্রয়োগ করে জাতীয় নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির বিষয়টা ফয়সালা করতে চায় জামায়াত। এ জন্যই সিসিক নির্বাচনকে বেছে নিয়েছে তারা। অনেকের মতে, সিলেটের নির্বাচনে ভোটের হিসাব-নিকাশ বিএনপিকে হারাতে সরকারও জামায়াতের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল।

যুদ্ধপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়েতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের সাজা হবার পর অনেকটা আত্মগোপনে চলে যায় দলটির বেশিরভাগ নেতাকর্মী। উচ্চ আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন এবং দলীয় প্রতীক দুটোই হারাতে হয়েছে তাদের। এরমধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সহিংসতার অন্যতম শরিকও ছিল জামায়াতে ইসলামী। এতে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী দায়ের হয়েছে অসংখ্য মামলা। ২০১৫ সালে নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে আরেক দফা সহিংস কর্মকাণ্ডে দলটির ভূমিকা ছিল আগের মতোই। ফলাফল- মামলার সংখ্যা আরো বেড়েছে। মোটকথা সারা দেশেই বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত রয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। ফলে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নির্বাসিত হতে হয়েছে ইসলামপন্থী দলটিকে। এ কারণেই দীর্ঘদিন সিলেটের রাজপথেও দেখা যায়নি জামায়াতে ইসলামী বা এর ছাত্র সংগঠনের কাউকে।

এমন অবস্থায় কোনো ধরনের নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে দোটানায় থাকলেও হঠাৎ করেই সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী। এখানে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। যার নিজের নামেই রয়েছে ৩৪টি মামলা। তবুও প্রতীক বরাদ্দের আগে থেকেই অনেকটা নির্বিঘ্নে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া সভা, গণসংযোগ ইত্যাদি চালিয়ে গেছেন তিনি। প্রতীক বরাদ্দের পর গত দু’দিনে তার পক্ষে বেশ কিছু পথসভাও করেছে জামায়াতে ইসলামী।

অথচ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা একদমই নিরব। আর এই নিরবতার সুযোগে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হচ্ছে দলটি।

এ ব্যাপারে গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু বলেন, সিলেটে জামায়াতের শরিক দল বিএনপিরও মেয়র প্রার্থী থাকায় ভোটের নানা হিসাব-নিকাশ রয়েছে, এজন্য প্রশাসন জামায়াতকে ছাড় দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে অন্য যে কয়টি সিটি নির্বাচন হয়েছে সেগুলোতে জামায়াতের কাউকে অংশ নিতে বা প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি, কিন্তু সিলেটে সরকার তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছে। এ কারণে জামায়াত সুসংগঠিত হবার সুযোগ পাচ্ছে।

বাংলাদেশ গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরস আলী বলেন, সরকার বা ইসি জামায়াতকে ছাড় দিচ্ছে বলা যাবে না, জামায়াতকে তো নিষিদ্ধ করা হয়নি। জামায়াত নিঃসন্দেহে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন, যুদ্ধপরাধী সংগঠন, এদের প্রতিরোধ করা উচিত। দল উল্লেখ না করে স্বতন্ত্র হিসেবে নমিনেশন নিলেও তিনি কিন্তু প্রচার চালাচ্ছেন জামায়াত হিসেবেই। তার সঙ্গে প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়েতেরই নেতাকর্মীরা। এটা ইসিকে দেখতে হবে। আর প্রশাসনকেও খেয়াল রাখা দরকার যাতে নির্বাচনী কার্যক্রমের আওতায় জামায়াত আবারো সংগঠিত হতে না পারে।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মেয়র প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় পথসভা ও উঠোন বৈঠক করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ বাধা দেয়নি। তবে আমাদের নেতাকর্মীদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে শুনেছি। তিনি আরো বলেন, সরকারের রোষানলে পড়ে বিগত কয়েক বছর থেকে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক নির্বাসনে থাকলেও বর্তমানে সিসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে দলীয় নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়েই নির্বাচনী কাজ করে যাচ্ছে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj