শিল্পকলায় বাংলাদেশ ও নেপালের শিল্পীদের অনন্য পরিবেশনা

শুক্রবার, ১৩ জুলাই ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : হিমালয় কন্যা নেপাল বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র। দুই দেশের সাংস্কৃতির পরিবেশনায় বন্ধুত্ব আর সম্প্রীতির বন্ধনের কথা উঠে এলো অন্যরকম আলোয়। দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন বসেছিল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে। আয়োজন করেছে বাংলাদেশের নেপাল দূতাবাস।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করে আয়োজনের উদ্বোধন করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. চুপ লাল ভূষাল ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ধন বাহাদুর অলি।

ভোজপুরি নৃত্যে ভোজপুরিদের উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা তুলে ধরেন শিল্পীরা। জাউর নৃত্য নেপালের সবচেয়ে জনপ্রিয় নৃত্যধারার একটি। এটিতে শিল্পীরা তুলে আনেন নেপালের সংস্কৃতি।

বাংলাদেশি শিল্পীদের মধ্যে অংশ নেন তনুশ্রী মাঞ্জি গোর্কা ও আমিনুল আশরাফ। তনুশ্রীর পরিবেশনার শুরুতেই ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রেম

পর্যায়ের গান ‘তুমি রবে নীরবে’র সঙ্গে নৃত্য। এরপর মণিপুরী নৃত্যে ছন্দে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমাখ্যান তুলে ধরেন দুই শিল্পী।

বহ্নিশিখার রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন :

সাংস্কৃতিক সংগঠন বহ্নিশিখা উদযাপন করল ‘রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী’। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন সাজানো হয় কথামালা, সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তিতে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও বহ্নিশিখার সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

আনিসুজ্জামান বলেন, রবীন্দ্র ও নজরুল তাদের রচনায় সবার ওপরে মানুষকে প্রাধান্য দিয়েছেন, মানুষের জয়গান গেয়েছেন। সমগ্র মানুষ জাতিকে এক করে দেখেছেন।

আয়োজনের শুরুতেই ছিল দুইটি দলীয় সঙ্গীত। বহ্নিশিখার শিল্পীরা প্রথমেই কণ্ঠে তুলে নেন নজরুলের ‘গগনে সঘন চমিকেছে দামিনী’। এর তারা গেয়ে শোনান রবীন্দ্রনাথের ‘বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারো’। এরপর ছিল বহ্নিশিখার শিল্পীদের দলীয় নৃত্য। তারা ‘গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। দলীয় কণ্ঠে পরিবেশিত হয় নজরুলের ‘মোর ঘুম ঘোরে এলো মনোহর’, ‘মেঘের ডম্বরু ঘন বাজে’ ও ‘আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন’ এবং রবীন্দ্রনাথের ‘তোমার খোলা হাওয়ায় লাগিয়ে পালে’। গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের সমন্বয়ে পুরো আয়োজনটি পরিকল্পনা করেন আবিদা রহমান সেতু।

মঞ্চে রাজরক্ত :

গতকাল সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাক্টিং এন্ড ডিজাইন মঞ্চস্থ করেছে নতুন নাটক ‘রাজরক্ত’। প্রতিষ্ঠানটির ৩৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা সমাপনী প্রযোজনা হিসেবে নাটকটিতে অভিনয় করেছেন। মোহিত চট্টোপাধ্যায় রচিত নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রদুৎ কুমার ঘোষ। নাটকটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাইফুল ইসলাম জার্নাল। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন নাট্যজন কেরামত মওলা ও জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ।

সুন্দরের চর্চায়-মানবতার গান গাই :

‘সুন্দরের চর্চায়-মানবতার গান গাই’ শিরোনামে নাটুকে তাদের ১২ বছরে পদার্পণ দুই দিনব্যাপী নাট্য আয়োজন করল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি ভবনের ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এসব আয়োজনের মধ্যে ছিল নাট্যকর্মী ফরহাদ হোসাইন মিঠুর কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনে সাহায্যার্থে নাটক প্রদর্শনী, নাটুকে প্রণোদনা পদক এবং আলোচনা অনুষ্ঠান। আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এডভোকেট সানজিদা খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইটিআইর সম্মানিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালি উর রহমান, শিল্পী সবিহ উল আলম, নাট্যজন লাকী ইনাম প্রমুখ।

আলোচনা পর্ব শেষে বিশ্বখ্যাত নাট্যকার মলিয়্যের রচিত, অরূপ রুদ্র রূপান্তরিত ও অসীম দাশ নির্দেশিত ‘বিয়ে বিড়ম্বনা’ নাটকের শততম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। আজ শুক্রবার আয়োজনের শেষদিনে মঞ্চস্থ হবে মার্ক ক্যামোলতি রচিত এবং আল নোমান অনূদিত ও নির্দেশিত ‘ঠাকুর ঘরে কে রে…!’র ৫০তম প্রদর্শনী।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj