আ.লীগ চায় আসন ধরে রাখতে, বিএনপির আশা পুনরুদ্ধার

শুক্রবার, ১৩ জুলাই ২০১৮

** ভোটের মাঠে হেভিওয়েট লড়াই : মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) **

বছরের শেষপ্রান্তে জাতীয় নির্বাচন। এরই মধ্যে সারা দেশে বইছে ভোটের হাওয়া। দলগুলোতে প্রস্তুতির তোড়জোড়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে। নির্বাচনী এলাকায় ঘন ঘন ছুটছেন বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট নেতারাও। কেমন তাদের প্রস্তুতি, মাঠের অবস্থাইবা কি? এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন

সালেহ এলাহী কুটি, মৌলভীবাজার থেকে : আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগ আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে সম্মেলনসহ নতুন জেলা কমিটির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিএনপিও হারানো এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে জোরেশোরে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রবাসী অধ্যুষিত এই পর্যটন এলাকায় টাকার ছড়াছড়ি হতে পারে বলে বলছেন স্থানীয়রা। তবে এবার প্রধান দুই দলেই তরুণ প্রার্থীদের নির্বাচনী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এ আসনটি এক সময় বিএনপির ঘাঁটি বলেই পরিচিত ছিল। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমান ছিলেন এখানকার নেতা। মোট চারবার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মহসীন আলীর কাছে পরাজিত হন।

২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী মারা গেলে এ আসনে উপনির্বাচনে তার স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসিন বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদও ছাড় দিতে নারাজ। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বড় একটি অংশ তার পক্ষে। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান বাবুল, সাবেক সদস্য এম এ রহিম (সিআইপি) ও আবদুল মালিক তরফদার শোয়েব এবং পৌর মেয়র ফজলুর রহমান মনোনয়ন চাইতে পারেন।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের ছেলে সাবেক এমপি এম নাসের রহমানের। তিনি নিজ জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। নানা প্রতিক‚ল পরিস্থিতিতে কর্মীদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টি থেকে জেলা সভাপতি সৈয়দ শাহাবউদ্দিন আহমদ ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নূরুল হকও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

মৌলভীবাজার-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর ছিলেন আমার স্বামী সৈয়দ মহসিন আলী। তারই পথ অনুসরণ করে আমিও কাজ করে যাচ্ছি। তাই দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করি আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের মূল্যায়ন করে আমাকে মনোনয়ন দেবে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ বলেন, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি করে এখন আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছি। সংগঠনে আমার কর্মদক্ষতার গুণেই এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। এতদিনের রাজনীতির শেষ পাওয়া হচ্ছে একবার হলেও সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করা। আমি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। নেত্রী আমাদের কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। যেসব মতভেদ আছে আমরা নিজেরাই সেসব দূর করতে পারব। আগামী নির্বাচনে এই মতভেদ কোনো প্রভাব ফেলবে না। সবাই নৌকা প্রতীকে ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে আমার দৃঢ় বিশ^াস।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও চেম্বার সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বলেন, আমি ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার আগে থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নেত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানেন। এলাকার মানুষের কাজে লাগার জন্য আমাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে বলে আমি মনে করি। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলর এম এ রহিম (সিআইপি) বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দীক্ষা নেই। অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। পড়ার জন্য যুক্তরাজ্য গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়েও আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছি। প্রথম বাঙালি কাউন্সিলর হিসেবে যুক্তরাজ্যে নির্বাচিত হয়েছি। ২০০৫ সালে নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরি। দেশে আসার পর বিএনপি সরকার আমাকে জেলে পুরে রাখে। দেশের টানে যুক্তরাজ্যের আরাম-আয়েশের জীবন ত্যাগ করেছি। এলাকায় শিক্ষার প্রসারের জন্য কাজ করছি। যুক্তরাজ্য থেকে নিয়ে আসা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা-শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছি। শত শত বেকার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের জন্য সরকার আমাকে সিআইপি হিসেবে এ বছর নিয়ে দুবার ঘোষণা করেছে। মানুষের জন্য কাজ করছি, করে যাব। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হব।

আরো একজন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক, মৌলভীভাজার কলেজ সংসদের ভিপি আব্দুল মালিক তরফদার সুয়েব। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় এ নেতা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে।

অপরদিকে সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান বলেন, আমার বাবা সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ছিলেন সিলেটের উন্নয়নের রূপকার। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে। তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আমি তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। দল মনোনয়ন দিলে আমি প্রার্থী হব। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন।

দলীয় টিকেট পেতে কেন্দ্রে জোর লবিং করছেন মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি সৈয়দ শাহাব উদ্দিন আহমদ। আগামী নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে তিনি প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন বলে জানান। মনোনয়নের তালিকায় আছেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নূরুল হক। এ ছাড়াও ১৪ দলের শরিক জাসদ (ইনু) এ আসনে নমিনেশন চাইবে। এদিকে খেলাফত মজলিসের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আহমদ বেলালও জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj