সাহিত্যে ফুটবল

শুক্রবার, ১৩ জুলাই ২০১৮

** মোহীত উল আলম **

ব্রায়ান গø্যানভিল লন্ডনস্থ দ্য টাইমস পত্রিকার ক্রীড়া সাংবাদিক। আশির দশকের শুরুর দিকে আমি যখন ব্যাপকভাবে বিশ^ ফুটবলের খবরাখবরের দিকে ঝুঁকে পড়ি, তখন ভারত থেকে প্রকাশিত স্পোর্টাইমস সাপ্তাহিকীটা রাখতাম যেখানে ব্রায়ান গø্যানভিলের একটি কলাম থাকতো ফুটবলের ওপর। মুগ্ধ হয়ে পড়তাম তাঁর লেখাটা। মনে হতো, ফুটবল যেন একটা খেলা নয়, একটা সর্বপ্লাবী আবেগ- যে আবেগের কারণে বিশ^কাপের সময় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকায় ভরে ওঠে বাংলাদেশ। এই গø্যানভিলের সম্প্রতি প্রকাশিত দ্য স্টোরি অব দ্য ওয়ালর্ড কাপ : ২০১৮ বিশ^কাপ ইতিহাসের তথ্য জানার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। ফুটবলের ইতিহাস বই ছাড়াও গø্যানভিলের অনেকগুলো ফুটবল উপন্যাসও আছে যার মধ্যে একটি উপন্যাসের নাম হলো দ্য ডাইয়িং অব দ্য লাইট, ২০১১ সালে প্রকাশিত। এ উপন্যাসের নায়ক হলো লেন রলিংস নামক একজন সাবেক গোলরক্ষক, যার শেষের দিনগুলো নিদারুণ দুঃখকষ্টে কাটে। তার ছেলে তাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং সে স্ত্রীকে নিয়ে একটি গরিব এলাকায় থাকে। তার মেয়ে জেনি স্কুল শিক্ষক। মেয়ের সঙ্গে বাবার কোনোকালেই মিল ছিল না। কিন্তু এখন মেয়ের মন পরিবর্তন হয়। সে বুঝতে পারে তার বাবা যখন খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল, তখন সবাই তার বাবার প্রতিভার সুযোগ নিয়েছে, কাপের পর কাপ জিতেছে, নিজেরা ধনবান হয়েছে, অথচ এখন তার বাপকে দেখতে কেউ আসে না। জেনি তখন বাবার দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেয় এবং যদিও তার নিজের বিবেচনায় ফুটবল সামান্য একটা ব্যাপার মাত্র, কিন্তু তার বাবার কাছে যে ফুটবলই জীবন, এবং জীবনই ফুটবল, সে সম্পর্কে সে সচেতন হয়। এককালের খ্যাতিমান খেলোয়াড় শেষ জীবনে দারিদ্র্যে নিপতিত হওয়া পশ্চিমা সমাজের নিয়মিত ঘটনা না হলেও আমাদের সমাজে সচরাচর এমনটিই দেখা যায়। বলাবাহুল্য, এমন জীবনই গল্প-উপন্যাসের কাক্সিক্ষত উপজীব্য।

কিন্তু আমাদের সমাজে প্রাক্তন খেলোয়াড়দের উপদ্রুত জীবন যেন কোনো ব্যাপারই নয়। ষাটের দশকে চট্টগ্রামের প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে দুটি পরাশক্তি ছিল চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রাস্ট আর চিটাগাং রেলওয়ে। বাঘে-মহিষে যুদ্ধ ছিল লীগ ফাইনাল। কখনো পোর্ট ট্রাস্ট জেতে, কখনো রেলওয়ে। রেলওয়ে দলের একজন দক্ষ মিডফিল্ড ছিলেন ম্যাকওয়া। এ ম্যাকওয়ার খেলা বর্তমানে যত ওয়ার্ল্ড কাপের খেলা দেখছি এদের সেরাদের সেরা ছিল। এত ক্ষিপ্রগতিতে চার-পাঁচজনকে ড্রিবলিং করে বল সহ-খেলোয়াড়ের দিকে এগিয়ে দিতেন, না দেখলে বিশ^াস হতো না। কিন্তু এ ম্যাকওয়া বা তাঁর অন্য সহ-খেলোয়াড় শংকর বা ইয়াং স্টারের আবু তাহের পুতু বা পোর্ট ট্রাস্টের দিলিপ সিং এদের কাউকে নিয়ে চট্টগ্রামের কোনো কবি-সাহিত্যিক কখনো সাহিত্য রচনা করেননি।

পরবর্তী সময়ে আবু তাহের পুতুর সঙ্গে আমার সখ্য হওয়ার সুযোগ হয়। তিনি চট্টগ্রামের একটি অতি প্রাচীন সম্ভ্রান্ত ও ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান ছিলেন। এবং ইয়ং স্টার ক্লাবের সমস্তরকম ব্যয়ভার তিনি বহন করতেন। পুতু ভাই অবিবাহিত ছিলেন। ফুটবলই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। বছর দশেক আগে মারা গেছেন। কিন্তু তাঁর চরিত্রের মধ্যে উপন্যাসের নায়ক হওয়ার সমস্তরকম বৈশিষ্ট্য উপস্থিত ছিল। মেজাজে, আবেগে, হৃদয়ে, ব্যক্তিত্বে এবং কৌতুকপ্রিয়তায় তিনি খুব আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। খেলোয়াড়দের মধ্যে যে মহত্ত্ব বা গ্রেইটনেস থাকে পুতু ভাইয়ের চরিত্রের সঙ্গে সেটা ছিল অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু সে পুতু ভাইকে অবলম্বন করেও- আমার এত ফুটবল সাহিত্যপ্রীতি সত্ত্বেও কখনো তো আমি কিছু গল্পচ্ছলেও লিখিনি!

বস্তুত পুরো বাংলা সাহিত্যে ফুটবলের স্থান প্রায়শই শরৎচন্দ্রের ঐ দুঃখজনক সাম্প্রদায়িক বর্ণনার মধ্যে আটকে আছে, যেটি তিনি শ্রীকান্ত উপন্যাসে লিখেছিলেন যে কোথায় যেন বাঙালি আর মুসলমানেরা মিলে ফুটবল খেলছিল। এই অনিভিপ্রেত উল্লেখ ছাড়া আমার জানা মতে বাংলা সাহিত্যে ফুটবল নিয়ে উপন্যাস-গল্পতো দূরের কথা, বসন্তের কোকিলের মতোও ফুটবলের উপস্থিতি নেই।

ক্রিকেট যে অর্থে সাহিত্যে আনা যায়, যেমন শংকরীপ্রসাদ বসু এনেছিলেন তাঁর বিশিষ্ট গ্রন্থ রমণীয় ক্রিকেট-এ কিংবা চট্টগ্রাম নিবাসী বদরুল হুদা চৌধুরী লিখেছিলেন তবু ক্রিকেট ভালোবাসি, বা মতি নন্দীর উপন্যাস ননীদা নট আউট- সেরকম ফুটবল সংক্রান্ত বইয়ের কথা আমার জানা নেই।

তাহলে কি ক্রিকেট ফুটবলের চেয়ে সৃজনশীল মনকে নাড়া দেয় বেশি? কিন্তু সেটাতো হওয়ার নয়, সারা বিশ^ এক কথায় ফুটবল পাগল। এমনকি বাংলাদেশ ক্রিকেটে দীক্ষা নেয়ার আগে এ ক্রিকেটই ষাটের দশকে বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে অপরিচিত খেলা ছিল। ফুটবলের আবেগের সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো খেলার আবেগের তুলনা করা যাবে না। এটা এতটাই সার্বভৌম। কিন্তু তারপরও কেন ফুটবলের সাহিত্য এত কম, এমনকি ইংরেজি ভাষাতেও, যেখানে ক্রিকেটের ওপর লিখিত গল্প-উপন্যাস হাজারে হাজার!

একটা কারণ এটা হতে পারে যে ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলে তাৎক্ষণিকতা অনেক বেশি। ক্রিকেটের একটা ওভার পুরোটাই বর্ণনা করা যায় কিংবা কেবল একটি বলেরও বর্ণনা করা যায় সৃজনশীলতা মিশিয়ে। ক্রিকেট খেলার ধর্মের মধ্যে এক ধরনের প্রলম্বিত আয়েশী ভাব আছে যার কারণে লেখায় এটিকে রেকর্ড করা সহজ। কিন্তু ফুটবলের খেলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা কবিতার মতো দ্যুতিময়, দ্যুতির ছটায় ভরপুর। ম্যারাডোনার খেলাকে ক্রীড়া-লেখকেরা ‘পোয়েট্রি-ইন-মোশন’ বা চলমান কবিতা বলেছেন, কিন্তু ম্যারাডোনা কোনো উপন্যাসের মূল চরিত্র হয়েছেন সেটা আমার জানা নেই।

বোধহয় অসুবিধাটা ওইটায় যে ক্রিকেটকে যেমন মাঠ থেকে বইয়ে আনা যায়, ফুটবলকে সেরকম আনা যায় না। এ পার্থক্য ভাষ্যকারদের তরফ থেকে বললে আরো পরিষ্কার হবে। যেমন ক্রিকেটে ভাষ্যকারের প্যানেল থাকে, দুজন থেকে তিনজনের, তারা প্রতি বলে ভাষ্য দেবার ফাঁকে ফাঁকে নিজেদের মধ্যেও নানা টুকটাক আলাপ করতে পারে। টিভি দর্শকের বা মাঠের দর্শকের সামনে টিভি থাকলে, সে খেলাও দেখতে পারে আবার ভাষ্যকারদের ধারাবিবরণীসহ নিজেদের মধ্যে আলাপও শুনতে পারে। কিন্তু ফুটবলের ধারাভাষ্যের সময় ভাষ্যকারের টিভির পর্দায় নিজেকে দেখানোর সুযোগ নেই এবং সে কারো সঙ্গে আলাপও করতে পারে না। বরঞ্চ তার লক্ষ থাকে দর্শকরা খেলা দেখলেও যেন তার ধারাবিবরণীতে কান দিয়ে থাকে। ধারাভাষ্যকার এবং দর্শক একই খেলা দেখছে, কিন্তু ধারাভাষ্যকার এমনভাবে ভাষ্য দিতে হবে যেন দর্শক নিজের চোখে দেখলেও সে যেটা কানে শুনবে সেটাকে প্রাধান্য দেবে। দর্শকের সঙ্গে ভাষ্যকারের বিরোধ সৃষ্টি হয় ফুটবলের আপন বৈশিষ্ট্যের কারণে- তার তাৎক্ষণিকতা। কিন্তু ক্রিকেট দেখার সময় ভাষ্যকার এবং দর্শকের মধ্যে এমন বিরোধের সৃষ্টি হয় না। ক্রিকেটের আপন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে এমন কোনো উপাদান নেই যে ভাষ্যকার যা বলছে আর দর্শক যা দেখছে তার মধ্যে বিরোধ হবে। কারণ বোলার যখন বল করলই সে বল করল, আর ব্যাটসম্যান যখন সেটা মারল বা মারতে পারল না, এ দুটো অ্যাকশনের মধ্যে পরম্পরা আছে কিন্তু সমকালীনতা নেই। অর্থাৎ বলটা ছোড়া হলেই কেবল ব্যাট কাজে নামতে পারবে তার আগে নয়। এই কর্মে একটার মধ্যে আরেকটা ঢুকে যায় না। একটা শেষ হলেই কেবল আরেকটার শুরু হয়। অ্যারিস্টটলের সংজ্ঞা অনুযায়ী সাহিত্যের যে কোনো কিসিমে একটা শুরু, মধ্যভাগ ও শেষ থাকতে হবে। সে অর্থে ক্রিকেটের মধ্যে আরম্ভ, মধ্যবর্তী পর্যায় এবং শেষ আছে। সেই জন্য এটিকে সাহিত্যে সহজে আনা যায়। অনদিকে ফুটবলে সবচেয়ে অনিশ্চিত হচ্ছে এর গন্তব্য বা ডিরেকশন। একজন খেলোয়াড় বলে লাথি মারার জন্য পা তুলল কিন্তু বিদ্যুৎবেগে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় এসে পা চালিয়ে বলটাকে অন্যখানে পাঠিয়ে দিল। অর্থাৎ প্রথম খেলোয়াড়ের অ্যাকশন আর দ্বিতীয় খেলোয়াড়ের অ্যাকশনের মধ্যে সমকালীনত্ব তৈরি হলো বা এমনকি সংঘাতও তৈরি হলো। ফুটবলে তাই আরম্ভ, মধ্যভাগ বা শেষভাগ বলে কিছু নেই। এই দিকের বল ঐদিকে চলে যাওয়াটা হরহামেশাই হচ্ছে। গোল নিশ্চিত হবে, কিন্তু গোল হলো না। বা গোল হবে না, কিন্তু গোল হয়ে গেল। ক্রিকেটেও এ অনিশ্চয়তার ব্যাপারটা আছে। যেমন বল উইকেটে লাগবে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে লাগল না। ক্যাচ নিশ্চিত ধরা হবে, কিন্তু ক্যাচটা পড়ে গেল মাটিতে। কিন্তু এই প্রতিটা অনিশ্চয়তায় দুটো অ্যাকশন এসে একটা আরেকটার সঙ্গে সংঘাত তৈরি করছে না। ফলে এ অনিশ্চয়তাগুলোর একটা ব্যাখ্যা আছে যে বলটা শেষ মুহূর্তে সুইং করে ঘুরে গেছে বা ফিল্ডার ঠিক মতো বলটা খামচে ধরতে পারেননি। আর ফুটবল বিপুলভাবে অনিশ্চয়তার খেলা আর ছোট ছোট লক্ষ লক্ষ দ্যুতি মিলে ফুটবলের সামষ্টিক চেহারাটা তৈরি হয়। খুব ভালো কল্পনাশক্তি না থাকলে এবং ভাষার ওপর ভালো দখল না থাকলে ফুটবলকে বইয়ে নিয়ে আসা কঠিন। এ জন্যই ফুটবলের ওপর রচিত সাহিত্য তুলনামূলকভাবে কম। আমার এ বক্তব্যের সমর্থনে দুজন ইংরেজ সাংবাদিকের উদ্ধৃতি দিই : দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার ২৭ মে ২০১৭ সংখ্যায় ডি, জে, টেইলর একটি প্রবন্ধ ছাপালেন এ ধরনের শিরোনাম দিয়ে যে ফুটবলের ওপর রচিত উপন্যাস কখনো পুরো ফুটবলের ওপরে হতে পারে না। প্যাট্রিক ডেভিডসন রবার্টস নামক আরেকজন ক্রীড়া-সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক পাঁচ বছর আগে প্রকাশিত দ্য লিটেরেটুর পত্রিকায় ছাপানো “‘হোয়ের দ্য রিয়্যাল ফুটবল ইজ’: লিটেরেচার অ্যান্ড ফুটবল, আ কশনারি টেইল”-এ এডি এজার্ডকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলছেন, কার চেইজ নিয়ে যেমন বই লেখা যায় না, তেমনি ছাপার লেখায় ফুটবলকে তুলে ধরা কঠিন।

টেইলরের লেখায় আরেকটা তথ্য পেলাম যে নলিনাক্ষ চট্টোপাধ্যায় নামক একজন ভারতীয় ১৯৯২ সালে হেম এ্যান্ড ফুটবল নামক একটি উপন্যাস লিখেছিলেন, যেখানে কাহিনীর মূল চরিত্র হেমপ্রভা তার বিরক্তিকর সামাজিক ও পারিবারিক জীবন থেকে বের হয়ে আসার জন্য ফুটবলকে বেছে নিয়েছিলেন। হেমপ্রভা যে দলটিতে যোগ দিলেন সেটি ছিল ভারতীয় মহিলাদের প্রথম পেশাদার দল। তাদের কোচ ছিলেন মার্ক্সবাদী একজন মহিলা, নাম মিস নাগ। তিনি খেলোয়াড়দের খেলতে যাওয়ার আগে এ বলে উদ্বুদ্ধ করতেন যে মনে করবে আমরা হলাম প্রলেতারিয়েত আর আমাদের প্রতিপক্ষ হলো বুর্জোয়া। তা হলে লড়াইটা জমবে। এ উপন্যাসটির ওপর ভিত্তি করে পরে বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম নামে একটি চলচ্চিত্রও তৈরি হয়।

বহুদিন আগে বার্নার্ড মালামুডের দ্য ন্যাচারাল নামে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম। কাহিনীটা ছিল একজন বেইসবল খেলোয়াড়ের ওপর। তেমন কিছু মনে নেই, শুধু মনে আছে খেলোয়াড়ের বেইসবল খেলোয়াড় হিসেবে নাম করার সাধনার কথা বারবার বলা হয়েছে।

এ সাধনার প্রসঙ্গে বর্তমানে বেলজিয়াম দলের তারকা খেলোয়াড় রোমেলু লুকাকুর কথা আনা যায়। কঙ্গোর বংশোদ্ভূত লোকাকুর পরিবার বেলজিয়াম চলে আসে। তার ছয় বছর বয়স যখন, স্কুল থেকে ফিরে এসে সে দেখে তার মা তাকে দুধ খেতে দিতে গিয়ে দুধের মধ্যে পানি মেশাচ্ছে। কারণ বাসায় দুধের কেবল ছিটেফোঁটা ছিল। সেদিনই লোকাকু ঐ বাচ্চা বয়সেই ঠিক করে ফেলে যে সে তার মায়ের দুঃখ ঘোচাবে। কী ভাবে? বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় ফুটবল দল হচ্ছে এ্যান্ডারলেক্ট। লোকাকু খবর নিল এ্যান্ডারলেক্টে ঢোকার বয়সই হচ্ছে ১৬। কিন্তু সে হাল ছাড়ল না। তীব্র দারিদ্র্যের মধ্যে আরো দশটি বছর কাটিয়ে লুকাকু এ্যান্ডারলেক্টের জুনিয়র দলে ঢুকলো, এবং ক্রমান্বয়ে প্রথম দলে ঢোকে, জাতীয় দলেও জায়গা পেল। এবারের বিশ^কাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত গোলের সংখ্যা ৪। ম্যারাডোনার জীবনটাও লোকাকুর মতোই শৈশবে দারিদ্র্য-ক্লিষ্ট। বুয়েনোস এয়ার্সের বস্তি পরিবারের ছেলে ছিলেন তিনি। ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের ছাড়া ল্যাতিন আমেরিকার খেলোয়াড়দের অধিকাংশেরই আসলে খুব দরিদ্র অবস্থা থেকে উত্থান হয়েছে। ফলে এদের জীবনীনির্ভর কোনো উপন্যাস লেখা হলে বলাবাহুল্য সেটিতে নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে বলা হবে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে ফুটবল সেরা একটি উপলক্ষ। সেরকম হলে তখন বলা যাবে ফুটবল নিয়ে রচিত সাহিত্যে নৈতিকতার একটি জোর ভিত্তি থাকে।

আবারও এ্যারিস্টোটলের কথা বলি। তিনি বলেছিলেন, সাহিত্য আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখায়। কোনো উপন্যাসে ম্যারাডোনা বা লুকাকুর মতো চরিত্র যদি তৈরি হয় নিশ্চিত বলা যাবে সে কাহিনীতে নৈতিক শিক্ষাও থাকবে- কীভাবে সৎপথে নিজের প্রতিভায় বড় হওয়া যায়।

তবে নৈতিকতার বিষয়টি ফুটবল সাহিত্যে কতটুকু জরুরি বা জরুরি নয় সে সম্পর্কে টেইলরের নি¤েœাক্ত ব্যাখ্যাটি অনুসরণযোগ্য। বিল নটন নামক একজন লেখকের দ্য গোলকিপারস রিভেঞ্জ-এর ওপর তিনি মন্তব্য করছেন যে, ফুটবল খেলাকে অনেকে খুব রোম্যান্টিক ব্যাপার হিসেবে দেখে, যেন এটি এমন একটি খেলা যেটা খেলে বা দেখে মানুষের নৈতিক উন্নতি হয়। টেইলর বলছেন, ইংল্যান্ডের পাবলিক স্কুলগুলোতে ফুটবলকে খেলানো হয় নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি করার জন্য। কিন্তু আসলে কি তাই? প্রকৃত খেলাচলাকালীন নৈতিকতাবোধ কি কাজ করে!

টেইলরের কথার আলোকে আমরা বিভিন্ন প্রসঙ্গ আনতে পারি, ফুটবলের সঙ্গে নৈতিকতার সম্পর্কের বিষয়ে। যেমন আমরা বলতে পারি যে ছোট দল হয়েও বড় দলের বিরুদ্ধে জেতা যায়। এবার যেমন দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপ স্টেজে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রাক্তন শিরোপাধারীদের মাঠ ছাড়া করল। তাতে এই নৈতিক শক্তিরই উদ্বোধন হলো যে মনোবল ও দেশপ্রেম অটুট থাকলে যে কোন দুর্বল দেশ যে কোনো সবল দেশের বিপক্ষে জিততে পারে। যদিও এই ধরনের সিদ্ধান্ত টানা লোভনীয় সন্দেহ নেই, কিন্তু এই ধরনের ধারণা আসলে প্রকৃত অর্থে ফুটবলের সঙ্গে যায় না। অন্তত খেলার মাঠে না। ক্রিকেটে যে সমস্যা নেই, ফুটবলে সেটিই হলো বড় সমস্যা। ক্রিকেটে একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আরেকজন খেলোয়াড়ের গায়ে গায়ে লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই- যদিও দু’একবার তা হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ফুটবল খেলায় গায়ে গায়ে লেগে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। কাজেই সেখানে ফুটবলের ঐন্দ্রজালিক দক্ষতার সঙ্গে মিলন হয় নির্ভেজাল আশুরিক শক্তির। তখন সংঘর্ষ হলেই নৈতিক সহনশীলতার কথা আর মাথায় থাকে না। পাল্টা ফাউল করার ইচ্ছা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। নেইমারের অভিনয় ক্ষমতা নিয়ে যতই টিটিকারি হোক না কেন, বা তাকে নিয়ে যতই ভিডিও ট্রল হোক না কেন, এটাতো সত্য যে নেইমার তার ফুটবলের দক্ষতা মোটেও প্রদর্শন করতে পারেনি তার ওপর প্রচুর ফাউল হবার কারণে। সে খুব হালকা-পাতলা গড়নের। প্রতিপক্ষ দলের রক্ষণভাগের দানবীয় ফিগারের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পলকা ধাক্কা লাগলেও নেইমার মাটিতে পড়ে কাতরেছে। মনে পড়ছে ম্যারাডোনার ১৯৮২ সালের কথা। স্পেইনে বিশ^কাপ চলছে। আর্জেন্টিনার কোচ সিজার লুই মেনোত্তি ১৭ বছরের ম্যারাডোনাকে ১৯৭৮ সালের বিশ^কাপে নিতে পারেননি, কিন্তু ’৮২-র বিশ^কাপে তাঁকে নিলেন, এবং আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের সঙ্গে খেলতে নামে। ৪০ মিনিটের মধ্যে জিকো-সক্রেটিস-ফালকাওয়ের স্বপ্নের ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। এ সময় ব্রাজিলের সিলভা ম্যারাডোনার সহ-খেলোয়াড়কে ফাউল করে, যেটা রেফারির দৃষ্টিগোচর হয় না। তখন ম্যারাডোনা যেন বিচারক হয়ে গেলেন, নিজেই শাস্তির বিধান করলেন সিলভার পেট বরাবর লাথি কষে। ম্যারাডোনাকে রেফারি লাল শাস্তি দিলেন, আর আর্জেন্টিনাও প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে। তা হলে ম্যারাডোনা যে লাথি মারলেন এটাকে যদি প্রতিশোধ বলি, তা হলে বলতে হয়, প্রকৃত অর্থে ফুটবলের মাঠে নৈতিকতা কাজ করে না। বরঞ্চ কাজ করে প্রতিশোধ। ১৯৮৬ সালের বিশ^কাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘ঈশ^রের হাত’ গোলটাকে যতই নৈতিকতার নিক্তি দিয়ে অভিশাপ দেয়া হোক না কেন, ঐটাকে ফুটবল খেলার অংশ হিসেবে না দেখে উপায় নেই। রেফারি যদি না দেখে খেলোয়াড়ের কী করার আছে? উপরন্তু ’৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপ বা মালভিনাস নিয়ে বৃটেনের সঙ্গে যুদ্ধে আর্জেন্টিনা যে হেরেছিল অনেকেই তাতে বলতে থাকেন, ম্যারাডোনা বা আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধ নিল মাঠে।

তাই মনে হয়, ফুটবলে নৈতিকতা স্কুল ছাত্রদের নৈতিক স্তর উন্নতি করার লক্ষ্যে অভিযোজিত হলেও প্রকৃত ফুটবলের বিষয় নৈতিকতা নয়, বরঞ্চ দক্ষতা, ক্ষিপ্রতা, বুদ্ধি, শঠতা এবং প্রতিশোধস্পৃহা এবং সর্বোপরি নিজের জন্য, দলের জন্য, দেশের জন্য সর্বদিক আচ্ছন্ন করা মনোবাসনা দিয়ে খেলার প্রয়োজন পড়ে। এগুলোই সাহিত্যের বিষয় হবে।

এ প্রসঙ্গে টেইলরের উদ্ধৃত আরেকটি ইংরেজি ফুটবল উপন্যাসের আলোচনায় আসা যায়। বইটি গর্ডন উইলিয়াম রচিত সিনস লাইক দীস, যেটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে। বইটির নায়ক ১৫ বছরের খামার বালক ডানকান লোগান (‘ডাংকি’), যে ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ডের একটি অপেশাদার দলে মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেলে। লেখক তার মুখ দিয়ে বলাচ্ছেন : ‘স্কুলে যখন খেলেছি, আমাদের শেখানো হয়েছিল মনে রাখবে জেতার জন্য খেলছো না, আর বলা হয়েছিল কখনো যেন ফাউল না করি। . , . কিন্তু যে মাত্র ফুটবল খেলার প্রকৃত জগতে নামলাম, দেখলাম যে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ উল্টো।’) লেখক দেখাচ্ছেন, ডাংকি যখন মাঠে খেলতে নামে তখন তার মনে দুটো চিন্তার প্রবাহ পাশাপাশি চলতে থাকে। একটি হলো, খেলাটি নিয়মমতো খেলে যাও, কাউকে মেরো না, কারো মারও খেও না। আরেকটা হলো, নিয়মটিয়ম বড় কথা নয়, ‘ব্যথা-ট্যথার পরোয়া করো না। তুমি তখনই ব্যথা পাবে যখন তুমি আধা-মন নিয়ে খেলবে। বাঁচা অথবা মরা- এভাবে খেলে যাও।’ লেখক কৌতুক মেশানো ভঙ্গি নিয়ে ডাংকির শেষটাও বর্ণনা করছেন। ডাংকির খেলোয়াড়ি জীবন বেশিদিন চলতে পারেনি। প্রতিপক্ষ দলের ইনসাইড-লেফটের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। তার নিজের নাক ভেঙে যায়, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়টির হাতের হাড় ভেঙে যায়, আর প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় তাকে পাল্টা লাথি মারলে তার সামনের সারির দুটো দাঁত খসে পড়ে। গর্ডন উইলিয়ামের এই উপন্যাসটির সন্তোষজনক ব্যাপার হলো ফুটবলকে প্রাধান্য দিয়ে উপন্যাসটি লেখা হয়েছে। বইটি ‘বুকার পুরস্কার’ ক্ষুদ্র তালিকায় মনোনয়ন পেয়েছিল।

টেইলর ধারণা করছেন যে ইংল্যান্ডে ফুটবল উপন্যাস লেখার হিড়িক পড়েছিল ১৮৯০ থেকে ১৯৩০ পর্যন্ত। আর্নল্ড বেনেট তাঁর ১৯১০ সালে প্রকাশিত উপন্যাস দ্য কার্ড-এ একটি ফুটবল ম্যাচের বর্ণনা করেছিলেন। আর পি, জি, উডহাউজ তাঁর উপন্যাস স্মিথ ইন দ্য সিটি উপন্যাসে তাঁর স্বভাবসুলভ কৌতুকবোধ নিয়ে বর্ণনা করছেন কীভাবে স্মিথ এবং তার বন্ধু মাইক জ্যাকসন একজন উচ্চপদস্থ লোকের কাছ থেকে সুবিধা পাবার জন্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মেকী সমর্থক হিসেবে নিজেদের উপস্থাপিত করে। উডহাউজ মূলত ছিলেন গলফ খেলা আর রাগবির সমঝদার, তারপরও তাঁর ফুটবল প্রসঙ্গে ঐটুকু বর্ণনাকে টেইলর ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে, ১৯৯২ সালে নিক হর্নবির ফিভার পিচ বইটি সাড়া জাগায়, যদিও এটির সাহিত্যগুণ খুব কম। ফুটবল রাজনৈতিক বিবেচনা ব্যতিরেকে বাঁচতে পারে না। ২০০৯ সালে প্রকাশিত এ্যান্টনি কার্টরাইটের উপন্যাস হার্টল্যান্ড ব্যক্ত করছে ইংল্যান্ডের ব্লু্যাক কাউন্টিতে একটি ইংরেজ-প্রধান দলের সঙ্গে একটি মুসলমান-প্রধান দলের খেলা হলে টনি বেøয়ারের আমলে বহুজাতি সমন্বিত দেশটির স্থিতাবস্থা কী ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

প্যাট্রিক ডেভিডসন রবার্টস ফুটবল নিয়ে উপন্যাস রচনার ক্ষেত্রে দুটো সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। একটি হলো, উপন্যাস যখন কোনো একজন বাস্তব খেলোয়াড়ের জীবনের ছায়ার ওপর রচিত হয় তখন ভেরিসিমিলিটিউড বা বাস্তবানুগতার প্রশ্নে জটিলতার সৃষ্টি হয়। আরেকটি হলো, লেখক আর খেলোয়াড়ের মধ্যে অর্থনৈতিক পার্থক্য।

তিনি ফুটবলের ওপর ইংরেজি ভাষায় এ যুগের সবচেয়ে স্বীকৃত লেখক ডেভিড পিস-এর দুটি উপন্যাসের আলোচনা করেন। একটি হচ্ছে ২০০৬ সালে প্রকাশিত দ্য ড্যামন্ড ইউনাইটেড, আরেকটি হলো ২০১৩ সালে প্রকাশিত রেড অর ডেড। প্রথমটি লিডস ইউনাইটেড ক্লাবের ম্যানেজার ও কোচ ব্রায়ান ক্লাফ-এর জীবনী অবলম্বনে, আর পরেরটি লিভারপুল ক্লাবের প্রবাদপ্রতীম কোচ বিল শ্যাংকলির ওপর। ডেভিড পিসের জাদুকরী গদ্যের প্রশংসা করে রবার্টস লিখছেন, দ্য ড্যামন্ড ইউনাইটেড-এর বাহাদুরী হলো ফুটবলের যে শরীর-নিষিক্ত ঘামের ব্যাপারটি আছে সেটি বইটিতে বাক্যে বাক্যে জড়িয়ে আছে। ক্লাফের আত্মীয়স্বজন, দলের খেলোয়াড়েরা এবং ভক্তেরা পিসের লেখার সমালোচনা করে বলেছেন যে ক্লাফ কখনো ঐ অর্থে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করতেন না। কিন্তু রবার্টস বলছেন, ক্লাফ আসলে করতেন, এবং সেটি পিস চরিত্রায়নের মধ্যে এমনভাবে সমন্বিত করেছেন যে সেটি দোষ মনে না হয়ে তাঁর (ক্লাফের) চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়। মুখ থেকে সিগারেট ঝুলছে, হাতে ধরা কড়া মদের গøাস- এই হলো ক্লাফ, যার অনেকগুলো উদ্ধৃতিযোগ্য বাক্যের একটি হলো : ‘সবাই বলে রোম নাকি একদিনে তৈরি হয়নি, কিন্তু আমিতো ঐ কাজের দায়িত্বে ছিলাম না।’

ক্লাফের ফুটবল দর্শনে প্রতিহিংসা ছিল প্রধান অস্ত্র। পিস লিখছেন, ‘ইউ উইল হ্যাভ রিভেঞ্জ- দ্যাট ইজ হাউ ইউ শ্যাল লিভ- ইন প্লেইস অব আ লাইফ, রিভেঞ্জ।’ ক্লাফের জন্য পুরো পৃথিবীর অর্থ ছিল কেবল একটাই- ফুটবল। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় ছিল না ক্লাফের। এবং সেটিই (ক্লাফের মেজাজ) এই উপন্যাসের উপজীব্য।

ডেভিড পিস বড় মাপের লেখক। ২০০৩ সালে তিনি গ্রান্টার তালিকায় গ্রেট বৃটেনের সবচেয়ে নবীন প্রতিভাবান ঔপন্যাসিক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। তাই তাঁর পরের উপন্যাস রেড অর ডেড-এ তিনি বিল শ্যাংকলির চরিত্রায়নের সময় লক্ষ রাখলেন যে ক্লাফের সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্র যে শ্যাংকলি সেটা যেন উপন্যাসে পরিষ্কার হয়। শ্যাংকলি নিজেকে সম্পূর্ণ নিবেদন করেছিলেন লিভারপুলের প্রতি, তথা ফুটবলের প্রতি। ওপরে উদ্ধৃত ব্রায়ান গø্যানভিলের দ্য ডায়িং অব দ্য লাইট উপন্যাসের নায়ক লেন রলিংস-এর মতোই শ্যাংকলিও কখনো ধারণা করতে পারেননি যে তাঁর কাছ থেকে সব কিছু শুঁষে নিয়ে তাঁকে কলার খোসার মতো ছুড়ে ফেলবে নিষ্ঠুর পেশাদার ফুটবল সমাজ। রবার্টস বলছেন, শ্যাংকলির জীবনের ট্র্যাজেডিটা পিস এত গভীর ভালোবাসার নিগড় দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন যে তাতে এ কথাই ব্যক্ত হয়ে ওঠে যে জীবনে ভালো লোকেরা টাকার কাছে, বোর্ডরুমের সিদ্ধান্তের কাছে কেবলই মার খেয়ে যায়।

আর অর্থের ব্যাপারটা হচ্ছে পেশাদারি ফুটবলে তারকা খেলোয়াড়েরা এখন এত টাকার মালিক তাদের নিয়ে যারা লিখবেন তারা আর কিই বা টাকা পাবে! ব্যাপারটা এরকম : একটা বয়স্ক লোক, যে হয়তো কোনোদিন স্কুলও পাস দেয়নি, সে লোক বাচ্চা ছেলের মতো একটা চামড়ার বলে লাথালাথি করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছে, অথচ একজন শিক্ষিত লেখক ঐ তারকাকে নিয়ে যিনি লিখবেন তিনি তার তুলনায় কীই বা টাকা পাবেন। এ সমস্যাটাও একভাবে আছে ফুটবল সাহিত্য রচিত হবার বেলায়।

সে যা হোক, আমি যদি স্প্যানিশ ভাষা বা পর্তুগিজ ভাষা শিখতাম, তা হলে নিশ্চয় ফুটবলের জাদুকর পেলে বা ম্যারাডোনার জীবনের ছায়া অবলম্বনে রচিত উপন্যাস পড়তে পারতাম, এবং ওয়ালর্ড কাপ শিরোপা অর্জনের মতো কত না স্বস্তিদায়ক হতো ব্যাপারটা!

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj