টাইফয়েড জ্বর

শুক্রবার, ১৩ জুলাই ২০১৮

সেদিন চেম্বারে একজন মধ্যবয়সী রোগী এসে বলল, তার সাত-আট দিন ধরে জ্বর। জ্বরের ওষুধ খাচ্ছে তবুও ভালো হচ্ছে না। জ্বরটা একটু কমে আবার তীব্র আকার ধারণ করে। এর সঙ্গে তীব্র মাথা ব্যথা, পেটেরও গোলমাল। প্রথমে কোষ্ঠকাঠিন্য ছিল এখন নরম পায়খানা হচ্ছে, সঙ্গে পেটে ব্যথা। কিছুদিন আগেও আমার টাইফয়েড জ্বর হয়েছিল, এবারো কি তাই হলো নাকি ডাক্তার সাহেব?

রোগীর ইতিহাস শুনে টাইফয়েড জ্বর হতে পারে মনে হলেও গতবার যে তার টাইফয়েড জ্বর হয়েছিল সেটা কীভাবে নির্ণিত হয়েছিল জিজ্ঞাসা করলাম। লোকটা বলল, একটা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এবং সে রিপোর্টটা দেখালো। আমি দেখলাম সেটা একটা ডরফধষ ঞবংঃ-এর পজিটিভ রিপোর্ট। আমি বললাম, হতে পারে আপনার জ্বরটা টাইফয়েড জ্বর। আবার অন্য কোনো কারণেও জ্বরটা হতে পারে। সেটাই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

টাইফয়েড জ্বর কি?

এটা অত্যন্ত পরিচিত একটা নাম। এর ইতিহাস দীর্ঘ। এটি ঝধষসড়হবষষধ ঞুঢ়যর নামক ব্যাকটেরিয়াজনিত পানীয় ও খাদ্যবাহিত রোগ। মল দ্বারা এর বিস্তার ঘটে।

টাইফয়েডের ইতিহাস :

মেরি মেলন আইরিশ বংশোদ্ভূত আমেরিকা প্রবাসী একজন গৃহপরিচারিকা। উনি ভালো রাঁধুনী ছিলেন। ১৯০০-১৯০৭ সালে নিউইয়র্ক শহরে উনি যে যে বাসায় রান্না করতেন তাদের অনেকেই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্বাস্থ্যকর্মীরা এই জ্বরের উৎস খুঁজতে গিয়ে মেরি মেলনকে সন্দেহ করে এবং তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আনে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মেরিকে আপাত সুস্থ মনে হলেও তার মলে টাইফয়েডের জীবাণু পাওয়া যায়। সেই থেকে উনি টাইফয়েড মেরি নামে পরিচিত হয় এবং টাইফয়েড রোগ বিস্তারে সুস্থ বাহক হিসেবে তার ভূমিকার জন্য তাকে একটি দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়।

উপসর্গসমূহ :

১ম সপ্তাহ-

* জ্বর (প্রথম ৪/৫ দিন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়)।

* মাথা ব্যথা।

* গা ব্যথা।

* কোষ্ঠকাঠিন্য।

* পাতলা পায়খানা ও বমি (শিশুদের ক্ষেত্রে)।

২য় সপ্তাহ-

* শরীরে গোলাপি দানা (জড়ংব ঝঢ়ড়ঃ)

* কাশি।

* পেট ফুলে যাওয়া।

* পাতলা পায়খানা।

* প্লীহা বৃদ্ধি।

৩য় সপ্তাহ-

* ভুল বকা।

* অসংলগ্ন আচরণ।

* জটিলতাসমূহ।

* অজ্ঞান হওয়ার পর মৃত্যু (যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়)।

জটিলতাসমূহ :

* অন্ত্রে ছিদ্র ও রক্তক্ষরণ।

* অস্থি ও অস্থিসন্ধিতে ইনফেকশন।

* পিত্তথলিতে প্রদাহ।

* মস্তিষ্কের পর্দায় প্রদাহ।

* হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিতে প্রদাহ।

* কিডনিতে প্রদাহ।

* পিত্তথলিতে স্থায়ী ইনফেকশন।

রোগ নির্ণয়ের উপায় :

১ম সপ্তাহে রোগ নির্ণয় কঠিন।

* ঈইঈ- ঘবঁঃৎড়ঢ়বহরপ খঁপড়ঢ়বহরধ (ঘবঁঃৎড়ঢ়যরষ নামক শ্বেতকণিকা কমে যায়)।

* ইষড়ড়ফ ঈঁষঃঁৎব সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

২য় সপ্তাহে-

* ডরফধষ ঃবংঃ (সড়ংঃ ঢ়ড়ঢ়ঁষধৎ ঃবংঃ).

৩য় সপ্তাহে-

* ঝঃড়ড়ষ ঈঁষঃঁৎব

৪র্থ সপ্তাহে-

* টৎরহব ঈঁষঃঁৎব

চিকিৎসা :

যথাসময়ে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন এবং সঠিক এন্টিবায়োটিক সঠিক সময় পর্যন্ত গ্রহণ করবেন।

প্রতিরোধ :

* স্যানিটেশন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।

* খাবার আগে হাত ভালোভাবে ধোয়ার অভ্যাস।

* বিশুদ্ধ পানীয় পান।

* টায়ফয়েড ভ্যাকসিন নেয়া।

ডা. জয়ন্ত কুমার সাহা

এমবিবিএস, ডি-কার্ড, এফসিপিএস (মেডিসিন)

সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন)

শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj