ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা : অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে

মঙ্গলবার, ২৬ জুন ২০১৮

বিশ^কাপে আর্জেন্টিনা দলের হতাশাজনক পারফরমেন্সের অন্যতম কারণ যে দলের খেলোয়াড় এবং কোচের মধ্যে অন্তর্কোন্দল সেটি জানা গেছে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পরপরই। তবে শুধু আর্জেন্টিনা দলেই যে অন্তর্কোন্দল চলছে তা নয়; অন্তর্কোন্দল চলছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের আরেক দেশ ব্রাজিল দলেও। ষষ্ঠবারের মতো বিশ^কাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়া বিশ^কাপে খেলতে এসেছে ব্রাজিল। অন্যদিকে দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি লিওনেল মেসিরা বিশ^কাপে খেলতে এসেছে তৃতীয়বারের মতো বিশ^ সেরার মুকুট জয়ের লক্ষ্যে। রাশিয়া বিশ^কাপে নেইমারদের পারফরমেন্স সমর্থকদের প্রত্যাশা কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারলেও এখন পর্যন্ত আর্জেন্টাইন সমর্থকরা যথেষ্ট হতাশ কোচ জর্জ সাম্পাওলির দলের পারফরমেন্সে।

গত ২১ জুন রাতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারে দুবারের বিশ^ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচের পর সাম্পাওলির দলের সমালোচনায় মেতে ওঠেন সবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। এমনকি বর্তমান আর্জেন্টিনা দলটিকে তৃতীয় সারির দল বলেও অভিহিত করেন তারা। বিশেষ করে লিওনেল মেসির সমালোচনা করে কয়েকজন সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার বলেন, তার পারফরমেন্স দেখে মনে হয় যেন সে কোচের প্রতি প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে খেলছে। সে নিজের পছন্দের খেলোয়াড়দেরই দলে নিতে প্রলুব্ধ করে। কেবল মাত্র মেসির অপছন্দের বলেই দলে সুযোগ পাওয়ার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন ভালো ফুটবলারকে রাশিয়া বিশ^কাপের জন্য ঘোষিত আর্জেন্টিনা দলে রাখা হয়নি। বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের ওপর মেসির যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। এমনকি মেসি যদি আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনকে বলে সে সাম্পাওলিকে আর চাচ্ছে না, তবে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগেই হয়তোবা নতুন কোচ নিয়োগ দেয়া হবে বলে বিশ^াস করেন সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের এমন বক্তব্যেই স্পষ্ট যে বর্তমানে আর্জেন্টিনা দলে অন্তর্কোন্দল চরম পর্যায়ে। এ ছাড়া কোচ সাম্পাওলির ওপরও ক্ষুব্ধ আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। তারা কোচের দ্রুত অব্যাহতি চান এমন দাবি গণমাধ্যমকর্মীদের। সাম্পাওলি প্রতি ম্যাচে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে দল সাজান এবং তার অধীনে আর্জেন্টিনা কখনো টানা দুটি ম্যাচে একই একাদশ নিয়ে খেলতে নামেনি। যা মোটেই পছন্দ নয় ফুটবলারদের। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে লজ্জাজনক হারের পর কোচ জর্জ সাম্পাওলির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। সে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এমনকি দেশটির ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়াকে খেলোয়াড়রা জানিয়ে দিয়েছেন, সাম্পাওলিকে আর দরকার নেই তাদের। ফুটবলারদের দাবি মেনে নিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনও জানিয়ে দিয়েছে রাশিয়া বিশ^কাপের পর সাম্পাওলির পরিবর্তে নতুন কোচ নিয়োগ দেবে তারা। এ বিষয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে রাশিয়ায় অবস্থানকারী আর্জেন্টাইন কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে জানিয়েছে, ম্যাচ শেষেই খেলোয়াড়রা বৈঠক করেছে এবং সাম্পাওলির বিদায় চান তারা। এতে স্পষ্ট যে কোচের সঙ্গে বর্তমানে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সম্পর্কটা মোটেই ভালো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার কোচ জর্জ সাম্পাওলিকে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ডাগ আউটে কেমন দেখাবে কিংবা আদৌ দেখা যাবে কিনা তা দেখার জন্যই মুখিয়ে রয়েছে ফুটবলপ্রেমীরা। সাম্পাওলি আইসল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিশ^কাপের প্রথম দুই ম্যাচের মতো উত্তেজিত, ক্ষণে ক্ষণে চিৎকার করবেন নাকি শান্ত হয়ে ডাগআউটে বসে থাকবেন সেটিই এখন দেখার পালা।

অন্যদিকে একই চিত্র বিরাজ করছে ব্রাজিল দলেও। এখন পর্যন্ত বিশ^কাপে দুটি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। প্রতি ম্যাচেই আলাদা আলাদা ফুটবলার নেতৃত্ব দিয়েছেন ব্রাজিল দলকে। যেখানে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল দলের অধিনায়ক ছিলেন মার্সেলো এবং কোস্টারিকার বিপক্ষে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিজ্ঞ থিয়াগো সিলভা। অধিনায়কের দায়িত্ব খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে বলেই প্রতি ম্যাচে ভিন্ন ভিন্ন ফুটবলারের কাঁধে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তুলে দিচ্ছেন কোচ তিতে। তবে তিতের এ সিদ্ধান্তটি দলের সিনিয়র কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করেছে বলে দাবি ইউরোপের কয়েকটি গণমাধ্যমের। এ ছাড়া দ্ব›দ্ব তৈরি হয়েছে ব্রাজিল দলের দুজন সেরা তারকা নেইমার এবং থিয়াগো সিলভার মধ্যেও। কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে অধিনায়ক থিয়াগো সিলভাকে নাকি নেইমার মাঠেই অপমান করেছেন। ওই ম্যাচের শেষ দিকে সময় নষ্ট না করার জন্য রেফারির নির্দেশে কোস্টারিকার খেলোয়াড়দের বল দিয়ে দেন সিলভা। তখনই নেইমার অপমানসূচক কথা বলেন এ ডিফেন্ডারকে। এ বিষয়ে সিলভা বলেন, নেইমার আমার কাছে একজন ছোট ভাইয়ের মতো এবং সব সময় আমি তার খেয়াল রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে তার আচরণ আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আমি বিষয়টি ম্যাচ শেষে নেইমারকে জানিয়েছি। আশা করি সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে। নেইমাররের আচরণে কষ্ট পেলেও নিজেরও ভুল আছে বলে স্বীকার করছেন থিয়াগো সিলভা। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ এ ডিফেন্ডার বলেন, নেইমারের আচরণে আমি কষ্ট পেয়েছি ঠিকই, তবে আমার মনে হয় সে ঠিক ছিল। কারণ আমার মনে হয়, তারা ম্যাচের গতি কমিয়ে দিচ্ছিল।

:: এস এম সায়েম

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj