মেসি-রোকুজ্জো দুজন দুজনার

মঙ্গলবার, ২৬ জুন ২০১৮

মেসি এবং রোকুজ্জোর প্রেমকাহিনী রূপকথার গল্পকেও হার মানাবে। বাল্যকালেই রোকুজ্জোর প্রেমে মজেছিলেন লিওনেল মেসি। বিয়ের বয়স এক বছর পার না হলেও তিন সন্তানের জনক-জননী এ জুটি। দুদিন আগে ৩১-এ পা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড মেসি ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ^কাপ খেলতে এখন রাশিয়াতে অবস্থান করছেন তিনি। তবে মেসি ভক্তরা ভুলেননি প্রিয় তারকাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে। জন্মদিনের উপহার হিসেবে মেসির জন্য রাশিয়ার মস্কোতে অবস্থিত একটি কনফেকশনারি তৈরি করেছে তার চকোলেট ভাস্কর্য। জন্ম দিনের আয়োজন কি এখানেই শেষ? নিঃসন্দেহে নয়। কেননা মেসির অনুপস্থিতিতে সন্তানদের নিয়ে কেক কেটেছেন পাঁচবারের বেলন ডি’অর জয়ীর স্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে জন্মদিন উপলক্ষে মেসিকে জড়িয়ে ধরে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। এ ছবির ক্যাপশনে রোকুজ্জো লিখেছেন, আমি দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী নারী এবং তা মেসির মতো একজন জীবনসঙ্গী থাকার কারণেই। এতে আর্জেন্টাইন সুন্দরী আরো লিখেছেন, ভালোবাসা আমার, আমি তোমাকে সব সময় সুখী দেখতে চাই। সব শেষে মেসিকে উদ্দেশ করে রোকুজ্জো বলেন, শুভ জন্মদিন ভালোবাসা আমার। আমরা সবাই তোমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। আমাকে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী নারী বানানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। প্রিয়তমা স্ত্রীর হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এ সব কথা নিশ্চয় নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে অনুপ্রেরণা জোগাবে মেসিকে।

মেসি এবং রোকুজ্জোর প্রেমকাহিনীটা সত্যিই হার মানাবে রূপকথার গল্পকেও। ২০ বছর বয়সে রোকুজ্জোর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালেও মাত্র ৫ বছর থেকেই তার পেছনে ঘুরেছে বার্সা সুপারস্টার মেসি। রোকুজ্জো ছিলেন মেসির এক আত্মীয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই থেকে তার সঙ্গে পরিচয়। দীর্ঘদিন গোপনে ভালোবেসে গেলেও মনের কথা মনেতেই সুপ্ত অবস্থাতে রয়ে যায়। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি রোকুজ্জোর কাছে তার ভালোবাসার কথা জানান ২০০৮ সালে। এরপর থেকেই এক সঙ্গে রয়েছেন এ দম্পতি। তবে এক বছর গোপন থাকার পর ২০০৯ সালে এক টিভি সাক্ষাৎকারে তাদের কথা প্রকাশ করেন। এরপর দুজনের হাতে হাত রেখে পথ চলা। ২০১২ সালের ২ জুন ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেসি একটি গোল করেন ও একটি গোলে সহায়তা করেন। গোল করার পর তিনি বলটি তার জার্সির ভেতর ঢুকিয়ে নেন, যা তার রোকুজ্জের গর্ভবতী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। রোকুজ্জো তার টুইটারে পোস্ট করেন যে সে বছর তিনি সন্তান জন্ম দিতে যাচ্ছেন। মেসি নিশ্চিত করেন যে এটি একটি ছেলে শিশু আর সে অক্টোবরে জন্মগ্রহণ করবে এবং তিনি ও তার স্ত্রীর শিশুটির নাম থিয়াগো রাখার পরিকল্পনা করেছেন। তবে থিয়াগোর জন্ম একটু পরেই হয়। স্পেনের বার্সেলোনায় ২০১২ সালের ২ নভেম্বর তাদের প্রথম সন্তান থিয়াগো জন্মগ্রহণ করে এবং মেসি সন্তানের বাবা হন। বার্সেলোনার দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করা হয়, লিওনেল মেসি একজন বাবা। এর পাশাপাশি মেসি তার ফেসবুক পাতায় পোস্ট করেন, আজ আমি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ, আমার সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে এবং এই উপহারের জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। এরপর ২০১৫ সালের ১১ মে মেসি-রোকুজ্জোর সংসারে দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়। এ দম্পতি তার নাম রাখেন মাতেও। ১৫ অক্টোবর ২০১৭ সালে রোকুজ্জো তার তাদের তৃতীয় সন্তানের কথা নিশ্চিত করেন। ২০১৮ সালের ১০ মার্চ তাদের সংসারে জন্ম নেয়া তৃতীয় সন্তানের নাম রাখা হয় চিরো। এদিকে রাশিয়া বিশ^কাপে আসার পর মেসিকে শুভকামনা জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন রোকুজ্জো। শুধু বিশ^কাপে নয়, সব সময় মেসিকে অনুপ্রেরণা দেন তিনি। এদিকে মেসিও সব সময়ে রোকুজ্জোর সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। ছুটি পেলেও বাড়িতে চলে আসেন পাঁচবারের বেলন ডিঅর জয়ী। সব কিছু মিলিয়ে চিন্তা করলে এ কতা মানতেই হবে যে মেসি আর রোকুজ্জো দুজন দুজনরা।

এদিকে মেসিকে ঘিরেই তৃতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়া বিশ^কাপে খেলতে এসেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি সম্পাওলির দল। দলের মতো ব্যর্থ হয়েছেন লিওনেল মেসিও। এখনো পর্যন্ত রাশিয়া বিশ^কাপে কোনো গোল পাননি তিনি। তবে রাশিয়ার মেসি ভক্তরা এই তারকার জন্য বিশেষ কিছু করবেন না তা তো হতে পারে না। মস্কোর আলতুফিয়োভো নামে একটি কনফেকশনারির ৫ জন কর্মী প্রায় এক সপ্তাহ পরিশ্রম করে মেসির একটি চকোলেট ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। এজন্য ৬০ কেজি চকোলেট প্রয়োজন হয়েছে। এ বিষয়ে কনফেকশনারির প্রধান দারিয়া মালকিনা বলেন, আমরা কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই জানতে পারি মেসির জন্মদিন ২৪ জুন। এরপর আমরা ভাবলাম প্রিয় তারকাকে আমাদের কিছু উপহার দেয়া উচিত। সে ভাবনা থেকে আমরা এ চকোলেট ভাস্কর্য তৈরি করেছি। রাশিয়া বিশ^কাপ উপলক্ষে মস্কো থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে ব্রোনিতিসি শহরে আর্জেন্টিনা তাদের অনুশীলন ক্যাম্প গড়েছে। এই ভাস্কর্যটি সেখানে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হবে। শুধু তাই নয়, শহরটির কর্তৃপক্ষ মেসির জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ উৎসবেরও আয়োজন করেছে। তবে ভক্তদের এত ভালোবাসার মাঝেও মেসির এবারের জন্মদিনটা যে খুব একটা ভালো কাটবে না সেটি বলা যায়। কেননা তার দল আর্জেন্টিনার সামনে এখন বিশ^কাপে টিকে থাকার শঙ্কা। মেসির এমন দুর্দিনে তাকে অনুপ্রেরণা দিতে চেষ্টার যেন কমতি রাখছেন না তার প্রিয়তমা স্ত্রী এন্তোনেলা রোকুজ্জো। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ হারার পরও মেসিকে সাহস এবং অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন রোকুজ্জো।

:: মুকুল মুর্শেদ

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj