রাশিয়ায় মহাযজ্ঞের মহারম্ভ

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গতকাল রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে। এর আগে সারা বিশ্বের সব পথ এসে মিশে গিয়েছিল রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর লুজনিয়াকি স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হয়েছিল রবি উইলিয়ামসের পারফরমেন্স। তার সঙ্গে নাচে গানে মাতিয়ে রাখেন নৃত্যশিল্পীরা। রবি উইলিয়ামসের পারফরমেন্সের মাঝেই মাঠে ঢুকেন রাশিয়ার শিল্পী আইদা গারিফুলিনা। পারফর্ম করেন রবির সঙ্গে। তবে তার মাঠে ঢোকার পর্বটি ছিল আকর্ষণীয়। কৃত্রিম পাখির ডানায় ভর করে মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

এর ফাঁকে এক শিশু নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনাল্ডো। মাস্টক ‘জাবিভাকা’র সম্মুখে বিশ্বকাপের বলে কিক নেয়ার ভঙ্গি করলেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার। কিন্তু কিক নিয়েও নিলেন না রোনাল্ডো। পরে তার সঙ্গে থাকা শিশুটি বলে কিক করলেন মাসকট বরাবর। আর ‘জাবিভাকা’ সেটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলেন।

যেখানে আধুনিকতার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে রাশিয়ার সমাজ, সংস্কৃতি এবং রূপকথার সমাহার। বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। চার বছরের অপেক্ষার পালার অবসান ঘটিয়ে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ রাশিয়া বিশ্বকাপের পর্দা উঠায় এবার শ্বাসরুদ্ধ ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ফুটবলপ্রেমীরা।

গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয় বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরের এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। লুজনিয়াকি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানের পুরো মঞ্চটিই তৈরি করা হয় ফুটবলের আদলে। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক রাশিয়া এশিয়ার প্রতিনিধি সৌদি আরবের মুখোমুখি হয়। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আয়োজত হয়েছে আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো। ২০২২ সালে ২২তম বিশ্বকাপের একক আয়োজক এশিয়ার কাতার। ২০৩০ সালের বিশ^কাপের স্বাগতিক হতে চাইছে ১৯৬৬ সালের বিশ^কাপের আয়োজক দেশ ইংল্যান্ড।

ইতোমধ্যে ২০২২ এবং ২০২৬ সালের বিশ^কাপের আয়োজক দেশ নির্বাচন করা শেষ হয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ^কাপের ২৩তম আসরের স্বাগতিক দেশ তিনটি। এটিই হবে বিশ^কাপের ইতিহাসে তিন দেশের যৌথ অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ^কাপ টুর্নামেন্ট। এর আগে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া একত্রে ২০০২ সালের বিশ^কাপ আয়োজন করেছিল।

ওয়েফার ব্রিটিশ প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার কাপেরিন এবং ফিফার কাউন্সিল প্রতিনিধি ডেভিড গিল ইংল্যান্ডে বিশ^কাপের টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পুরোপুরি উদ্যমী। ব্রিটিশ গণমাধ্যমে তারা জানিয়েছে যে, শুধু ইংল্যান্ডেই নয়, দরকার হলে ইউরোপের কোনো না কোনো দেশে তারা ২০৩০ সালের বিশ^কাপ আয়োজন করবে। প্রয়োজন হলে যৌথভাবে কয়েকটি দেশে এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। তারা মনে করছে এটাই হবে তাদের দেশে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ^কাপ আয়োজনের সুবর্ণ সুযোগ।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকলেও আগ্রহের কমতি নেই এদেশের ফুটবলপ্রেমী মানুষের। রাত জেগে টেলিভিশনের সামনে বসে খেলা দেখার পাশাপাশি প্রিয় দলের সমর্থনে গলা ফাটাতে পিছিয়ে নেই তারা। বিশেষত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব এখন দেশের আনাচে-কানাচে আলোচনার বিষয়।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj