রাশিয়া এখন উৎসব মুখর

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

লেলিনের দেশ রাশিয়ায় শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। পুরো দুনিয়ার ১০ লাখের বেশি ফুটবলপ্রেমী এসেছে আয়োজক দেশটিতে। সাজ সাজ রব উঠেছে। চারদিকে উৎসবের আমেজ। দেশটির ১১টি শহরে বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এসব শহর সেজেছে নতুন সাজে। বলা যায়, পুরো দেশেই বিশ্বকাপের আমেজ বিরাজ করছে।

রাশিয়ানদের আন্তরিকতা চোখে পড়ার মতো। বিদেশিদের দেখলেই মিষ্টি হাসি বিনিময় করছেন। এই হাসিই জানান দেয়, অতিথিদের সাদরেই বরণ করে নিয়েছেন রাশিয়ানরা। এই বিষয়ে দেশটির সরকারও বেশ তৎপর রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ত্রুটি নেই। ফুটবলপ্রেমীরা যাতে খেলাটা উপভোগ করতে পারে, এই আসরে তার সব ব্যবস্থাই করা হয়েছে।

১৩০ দেশের মানুষ ইতোমধ্যে এই বিশ্বকাপ দেখতে রাশিয়া এসেছেন। এদের সবাই ম্যাচের টিকেট পাননি। যারা টিকেট পাননি তাদের জন্যও রয়েছে মাঠের আমেজ পাওয়ার ব্যবস্থা। আয়োজক ১১ শহরে রয়েছে ফ্যানদের মঞ্চ। যার নাম দেয়া হয়েছে ফ্যান ফেস্ট। এখানে বসে খেলা দেখতে পারবে লক্ষাধিক মানুষ।

এই উৎসবের প্রাণ লুঝনিকি স্টেডিয়াম। এই মাঠেই উদ্বোধনী ম্যাচ হয়ে গেল। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক রাশিয়ার সঙ্গে খেলেছে সৌদি আরব। ফুটবলে ব্রাজিলের তীর্থভূমি মারাকানা, আর্জেন্টিনার এস্তাদিও মনুমেন্তাল, ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলি। আর রাশিয়ার জন্য সেটি লুঝনিকি। এই মঞ্চেই ১৫ জুলাই ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে ফুটবল বিশ্বকাপের।

এরই মধ্যে থেমে গেছে মস্কোর ঐতিহাসিক রেড স্কয়ারে টিকটিক করে চলতে থাকা ক্ষণগণনার সেই দর্শনীয় ঘড়িটি। মস্কো এখন বিশ্বকাপের শহর। এই বিশ্বকাপের আয়োজন রাশিয়ার জন্য অন্য রকম চ্যালেঞ্জ। না, দল হিসেবে নয়। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তাদের নেই। সম্ভাবনাও নেই। কিন্তু তারা চ্যাম্পিয়ন হতে চায় আয়োজক হিসেবে।

ফিফার কংগ্রেসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সারা বিশ্বকে স্বাগত জানান তার দেশে বিশ্বকাপকে উপভোগ করার জন্য। তিনি বলেন, এ ধরনের বড় একটি টুর্নামেন্টের আয়োজনের কাজ শুধু মাত্র স্বাগতিক দেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বিশাল পরিমাণে বিশেষজ্ঞ ছাড়া এত বড় একটি কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সারা বিশ্বের ফুটবল পরিবার যেভাবে উৎসাহ জুগিয়ে গেছে, এটা ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া।

পুতিন চান, যারা রাশিয়ায় বিশ্বকাপ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তাদের ভুল প্রমাণ করে দিতে। সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নে পুতিনকে যেন অবিরাম সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন লেলিন। লুঝনিকি স্টেডিয়ামের সামনে লেলিনের সুবিশাল মূর্তি যেন হাত উঁচিয়ে জানান দিচ্ছে, তার দেশের বিশ্বকাপ হতে হবে সবার সেরা।

লুঝনিকি স্টেডিয়াম নিয়ে গর্ব করতে পারেন রাশিয়ানরা। গর্বের অনেক জায়গাও আছে। এখানেই লুকিয়ে রয়েছে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনাল। একুশতম বিশ্বকাপের ট্রফিটা তো এই স্টেডিয়াম থেকেই তুলে দেয়া হবে বিশ্ব বিজয়ী অধিনায়কের হাতে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj