আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : রমজানের রোজার শেষে খুশির সওগাত নিয়ে এসেছে ঈদ। আজ শুক্রবার বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শনিবার সারা দেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে রমজান মাস ৩০ দিন হলে ঈদ হবে আরো একদিন পর আগামী রবিবার।

ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ, শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে বৈঠকে বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় (বাদ মাগরিব) বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ সভা হবে।

গত বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিচের টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা অন্য কোনো উপায়ে জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। টেলিফোন নম্বর ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭। ফ্যাক্স নম্বর ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১। তবে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ শুক্রবার ঈদ হবে। ফলে কাল শনিবার বাংলাদেশে ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক।

প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, চাঁদ দেখে রোজা পালন করবে এবং চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করবে। তিনি বলেছেন, চান্দ্র মাস ২৯ দিনেও হয় আবার ৩০ দিনেও হয়। যদি আকাশে মেঘ থাকায় চাঁদ দেখা না যায় তবে ৩০ দিনের গণনা পূর্ণ করবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এ প্রসঙ্গে এরশাদ করেন, সংযম সাধনার পর ঈদের দিনে রোজাদাররা শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যান।

ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে ঈদ হচ্ছে বান্দার জন্য বিরাট আতিথেয়তা। তাই তিনি ঈদের দিন রোজা পালনকে হারাম করে দিয়েছেন। ফিতর মানে রোজা ভাঙা। ইফতার শব্দও ফিতর থেকে এসেছে। ঈদুল ফিতর মানে রোজা ভাঙার ঈদ। অন্য এক মত অনুযায়ী, ফিতর ফিতরাত শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ স্বভাব প্রকৃতি। রমজানের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনায় কষ্ট ও ক্লান্তির পর স্বাভাবিকভাবেই সুখ ভোগের বিষয়টি এসে যায়। ঈদুল ফিতর রোজাদারদের সেই স্বভাবসমেত সুখ উপহার দেয়।

পবিত্র ঈদ মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে এবং সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। বিশ্ব মুসলিম একই আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ- এ কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ঈদ। ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে এক কাতারে শামিল করিয়ে দেয় এ উৎসব। হিংসা-বিদ্বেষ ও অহঙ্কারসহ সব অন্যায় ও পাপাচার মুছে দিয়ে নতুন করে সুখী পবিত্র জীবনযাপন শুরু করার তাগিদ দেয় ঈদ।

ঈদের দিন আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই আনন্দে মেতে ওঠে। একেকজন একেকভাবে আনন্দ উপভোগ করে থাকে। বিশেষ করে ছোট ও তরুণ-তরুণীদের আনন্দ উপভোগটা সবারই নজরে পড়ে। তারা ঈদের দিন ভোরে গোসল করে নতুন জামা-কাপড় পরে মিষ্টিমুখ করে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে।

ঈদের দিন ভোরে ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করতে হয়। ঈদের নামাজ মাঠে আদায় করাই উত্তম। সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে ঈদে যাওয়াও উত্তম। ভিন্ন পথে ঈদগাহে যাতায়াত এবং ভোরে উঠে খেজুর বা মিষ্টি কিছু খাওয়া রাসুল (সা.)-এর সুন্নাত। ঈদের দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা উত্তম। নতুন পোশাক পরিধান করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj