বন্দরে টর্নেডো : নোঙর ছিঁড়েছে দুটি জাহাজের

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

চট্টগ্রাম অফিস : প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর দিয়ে টর্নেডো বয়ে গেছে। প্রায় ত্রিশ সেকেন্ড স্থায়ী এই টর্নেডোর আঘাতে চট্টগ্রাম বন্দর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কন্টেইনার ইয়ার্ড। নোঙর ছিঁড়ে জেটি থেকে সরে মাঝ নদীতে চলে গেছে দুটি বিদেশি জাহাজ। এতে আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন শ্রমিক। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এ টর্নেডো আঘাত হানে। কনটেইনার উল্টে যাওয়াসহ চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

বন্দরসূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে ৩০ সেকেন্ডের টর্নেডোতে জেটিতে বেঁধে রাখা ‘এমভি ওইএল স্ট্রেইট’ এবং ‘ভেরি ট্রেডার’ নামে দুটি কনটেইনারবাহী জাহাজ দড়ি ছিঁড়ে মাঝ নদীতে চলে যায়। এ সময় বন্দরের অভ্যন্তরের সিসিটি ইয়ার্ডে অর্ধশতাধিক পণ্যভর্তি ও খালি কনটেইনার এলোমেলোভাবে পড়ে যায়। টর্নেডোর আঘাতে বন্দরের ৯, ১২ ও ১৩ নম্বর শেডের ছাউনি উড়ে যায়। এ সময় বন্দরের ইয়ার্ডে কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উড়ে যাওয়া ছাউনির আঘাতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। আহত শ্রমিকদের ডকবন্দর শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, সকাল পৌনে ৯টার দিকে টর্নেডো আঘাত হানে। ঝড়ের স্থায়িত্ব ছিল এক মিনিটেরও কম। বন্দরের ৯, ১১ ও ১৩ জেটিতে টর্নেডোর প্রভাব পড়ে। এ সময় ৯ ও ১৩ নম্বর জেটির শেডের ছাউনির কিছু টিন উড়ে যায়। ১১ ও ১৩ নম্বর জেটিতে থাকা জাহাজ ওইএল স্ট্রেইট এবং ভেরি ট্রেডার দড়ি ছিঁড়ে জেটি থেকে সরে যায়। টর্নেডোর কারণে বন্দরের জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়নি। নৌ চ্যানেলও স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দরের নিজস্ব টাগবোট দিয়ে জাহাজ দুটিকে পরে আবার ফেরত আনা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু কন্টেইনার পড়ে গিয়েছিল, সেগুলো ঠিক করা হয়েছে। এ ছাড়া শেডের মেরামত কাজও চলছে।

এদিকে প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামসহ অন্যান্য সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আজ শুক্রবারও চট্টগ্রামসহ উপক‚লীয় এলাকায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়াবিদরা।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj