বিষণœতায় মোড়ানো জেলে খালেদার প্রথম ঈদ

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : এবারই প্রথম কারাগারের নির্জন কুঠুরিতে বিষণœতায় মোড়ানো নিঃসঙ্গ ঈদ কাটবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। একদিক শারীরিক অসুস্থতা অন্যদিকে পরিবারের কাছে থেকে দূরে, সব মিলে এবারের ঈদ স্বাভাবিকতার বাইরে একটু ভিন্ন ভাবেই কাটবে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর। তার অনুপস্থিতিতে বিএনপিতেও এবার ঈদের আমেজ নেই। রাখা হয়নি শুভেচ্ছা বিনিময়ের কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান। তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন নেতা ঈদের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে যাবেন।

জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় জামিন না পাওয়ায় কারণেই এবারের ঈদে খালেদা জিয়াকে ঈদে দিনটিতেও কারাগারেই কাটাতে হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন মানবিক কারণে ঈদের আগে নেত্রীকে প্যারোলে মুক্তির দাবির জানিয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানান, ৭৩ বছর বয়সী দলীয় প্রধানে কারাগারে ঈদ কাটাবেন এটা যেন মানাতে পারছেন না তারা। বিষয়টি তাদের কাছে অস্বাভিক ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাদের মতে, অসুস্থ খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে সরকার চরম অমানবিকতার পরিচিয় দিয়েছে। সব মিলে সবাই তারাও এক ধরনের চাপা ‘বিষণœতায়’ ভুগছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ভোরের কাগজকে বলেন, ক্ষমতাসীনদের প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দলীয় চেয়ারপারসনকে কারাগারে ঈদ করতে হচ্ছে। এরচেয়ে বিএনপির জন্য কষ্টের বিষয় আর কি হতে পারে। এবারের ঈদে আমাদেরও কোনো আনন্দ নেই। ঈদের আগে নেত্রীর অসুস্থতা আমাদের উদ্ধেগ-উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিবছর খালেদা জিয়ার ঈদের দিনটা থাকে অন্যরকম। দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঈদের দিন সাধারণ মানুষ, বিশিষ্ট নাগরিক, ক‚টনীতিকসহ বিভিন্ন স্তারের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এটিকে নেত্রীর সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার মোক্ষম সুযোগ মনে করতেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। কিন্তু এবার দলীয় চেয়ারপারসনের অসুস্থতার খবরে সব আনন্দ যেন বিষাদ হয়ে দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিএনপির খুব অল্প সংখ্যক নেতাকর্মী পরিবার-পরিজনের সঙ্গে নির্বিঘ্নে ঈদ পালন করতে পারছেন। এতে ক্ষমতাসীনদের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঈদ হয়ে উঠে আনন্দের পরিবর্তে বিষাদ ও ব্যঞ্জনার। আর এবারের পরিবেশটি আরো করুণ ও বেদনাদায়ক। কারণ গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় কারাবন্দি রেখে বিএনপি ঈদ আনন্দ করতে পারে না। সরকারের চরম প্রতিহিংসার শিকার বিএনপি নেত্রীকে মুক্ত করেই ভবিষ্যতে তার সঙ্গেই বিএনপির নেতাকর্মীরা ঈদ আনন্দ করবে।

ঈদে দলীয় অনুষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের জানাতে চাই, আমরা প্রত্যেকে বেদনার্ত। যাকে কেন্দ্র করে ঈদের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে, বিদেশি ক‚টনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান হতো, সেটা হবে না। আমাদের নেতাকর্মীরা অনেকেই বলেছেন যে নেত্রীর প্রতি মনের টানে তারা জেল গেটে ?যাবেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের ঈদের দিন কোনো কর্মসূচি নাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের দিনে বিশেষ কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই বিএনপির। এ ছাড়া গত কয়েক বছর ধরে স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে লন্ডনে ঈদ উদযাপন করছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনেই রয়েছেন প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও তার দুই মেয়ে। অবশ্য ঈদের দিন দাদির (খালেদা জিয়া) সঙ্গে নাতনিদের দেখা করাতে আজকালের মধ্যে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারেন।

অন্যদিকে, দলীয় প্রধান কারাগারে থাকার কারণে বেশিরভাগ মধ্যম সারির নেতারা ঈদ করতে এরই মধ্যে এলাকায় চলে গেছেন। অন্যরা আজকের মধ্যেই ঢাকা ছাড়বেন। আর দলের প্রথম সারির নেতারা ঈদের দিন ভোরে নামাজ পড়েই যাবেন দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থল এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর কবরস্থানে। সেখানে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ করবেন তারা। এরপরই যাবেন নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে। সাক্ষাৎ শেষে যে যার এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তারা।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj