বন্যা পরিস্থিতি >> রাঙ্গামাটিতে অপরিবর্তিত : মৌ.বাজারে দুর্ভোগ পানিবন্দি মানুষের

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

কাগজ ডেস্ক : মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পানিবন্দি মানুষজন। পাহাড়ি ঢলের পানিতে ৩টি কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় এবং রাস্তায় পানি থাকায় বন্ধ রয়েছে কুলাউড়ার চাতলাপুর স্থলবন্দরের কার্যক্রম। ফলে আটকা পড়েছেন এপার ও ওপারের বেশ কিছু যাত্রী। অন্যদিকে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বুধবার রাতে বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে একজনের। এ ছাড়া হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনো তা বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাগজ প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

মৌলভীবাজার : ধলই নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নামলেও মনু নদীর পানি এখনো ওপরে রয়েছে। এদিকে আকস্মিক বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও রাজনগরের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। হঠাৎ করে দুই নদীর ৭-৮টি স্থানে বাঁধ ভেঙে দ্রুত পানি প্রবেশ করায় অনেকেই ঘর থেকে বের করতে পারেননি জিনিসপত্র। ছেলেমেয়ে নিয়ে তারা উঠেছেন দূরের কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বেড়িবাঁধে। এদিকে পানির ¯্রােতে কমলগঞ্জ চাতলাপুর সড়কে একটি ব্রিজ এক ফুট ডেবে যাওয়ায় ব্রিজের মুখে বাঁশ দিয়ে রাস্তা বন্ধ করেছেন স্থানীয়রা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে মনু নদীর ৪টি স্থানের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রবেশ করা ঢলের পানিতে ৩টি কালভার্ট ভেঙে গেছে। সড়কের কয়েকটি স্থান ৩ ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। কালভার্ট ভেঙে ও সড়কে পানি থাকায় বুধবার থেকে চাতলাপুর চেকপোস্টের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে ভারতীয় ও বাংলাদেশ অংশে দুই দেশের যাত্রীরা আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে শিকার হচ্ছেন। তা ছাড়া ঈদের কেনাকাটায় হাটবাজারে আসতে পারছেন না শরীফপুর ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের মানুষজন।

শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জুনাব আলী জানান, এ ইউনিয়নে বিগত ২০-২৫ বছরের এ ধরনের অবস্থা হয়নি। অনেক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় ঘরে আটকা পড়ে আছে। তাদের বের করেও আনা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ভিসাধারী মানুষজন ভারতেও যেতে পারছেন না, আবার ভারত থেকে বাংলাদেশেও আসতে পারছেন না। আবহাওয়ার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আগামী ৩-৪ দিনেও চাতলাপুর চেপোস্টের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে না।

চাতলাপুর ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা এসআই জামাল হোসেন বলেন, ৩টি কালভার্ট ভেঙে ও ৩ কিমি. সড়কে পানি থাকায় কেউ চেকপোস্টে যেতে পারছেন না। দুই দেশের অনেক যাত্রী তাকে মুঠোফোনে আটকা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী পার্থ জানান, ধলই নদীর পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে নেমেছে। তবে মনু বিপদসীমার ১৭৫ সেন্টিমিটার থেকে নেমে এসেছে ১২৭ সেন্টিমিটারে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ একটি বড় কালভার্টের প্রায় ৪ ফুট পরিমাণ দেবে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখানে দ্রুত একটি বেইলি সেতু নির্মাণের চেষ্টা চলছে। তা ছাড়া আমতলা এলাকায় আরো দুটি কালভার্ট ভেঙে ও সড়কে পানি থাকায় চেকপোস্টের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। মনু নদীতে পানি না কমলে ও সড়ক থেকে পানি না নামলে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে না।

রাঙামাটি : বাঘাইছড়ির উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ১৪টি গ্রাম সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে আছে। বাঘাইছড়ি হাজীপাড়ায় বুধবার রাতে বন্যার পানিতে ডুবে উত্তম ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এদিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বাঘাইছড়ির দুর্গত এলাকার জন্য ২০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিলেও স্থানীয় প্রশাসন এখনো কোনো ত্রাণ তৎপরতা শুরু করতে পারেনি। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবিরাম বৃষ্টি ও সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ির উপজেলার ১৪টি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। এখনো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় বাঘাইছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মার্কেটসহ বিভিন্ন পাকা ভবনে অবস্থান নিয়েছেন। পাহাড়ি ঢল ও অতি বর্ষণের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি উচ্চতা বাড়তে থাকায় লংগদু, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচরের নি¤œাঞ্চলের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি পানিতে ডুবে গেছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj