আ.লীগ জাপা বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাই মাঠে

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

বছরের শেষপ্রান্তে জাতীয় নির্বাচন। এরই মধ্যে সারা দেশে বইছে ভোটের হাওয়া। দলগুলোতে প্রস্তুতির তোড়জোড়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে। নির্বাচনী এলাকায় ঘন ঘন ছুটছেন বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট নেতারাও। কেমন তাদের প্রস্তুতি, মাঠের অবস্থাইবা কি? এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন

জাকির হেসেন, সুনামগঞ্জ থেকে : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাপার সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান করে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে চলছে লবিং ও গ্রুপিং। তবে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ঐক্যজোট হলে কাকে কোন দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। স্ব স্ব অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে এ আসনে ২০ দলীয় জোটের অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ অথবা জাতীয় পার্টির প্রার্থীরই চূড়ান্ত লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণসংযোগ, শোডাউন ও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের দাবি, জেলা সদরের আসনটি জোটের অন্য কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না। কারণ দলীয় সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই জেলা সদরের আসনটি আ.লীগের দখলে থাকা খুবই জরুরি। অপরদিকে জাতীয় পার্টি মনে করে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর আসনটি দীর্ঘকাল ধরে জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। এ আসনে ইতোপূর্বে জাপার মেজর ইকবাল ও মেজর ইকবালের স্ত্রী মমতাজ ইকবাল নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ৫

জানুয়ারি জাতীয় পার্টির টিকেটে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ এমপি হয়েছেন। জাতীয় পার্টির এই সাংসদ সবার কাছে নিজের ক্লিন ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এমপি মিছবাহ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর তার নেতৃত্বে পার্টি এখন সুসংগঠিত। এ ছাড়া তিনি এলাকার বেশ উন্নয়ন করেছেন যা অন্য সময়ের চেয়ে বেশিই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী মেজর ইকবালের ছেলে ইনান ইসমাম হোসেন চৌধুরী প্রিয় জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চাইতে মাঠেঘাটে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় দলের নেতাকর্মীরা দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন। দুজনই আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির টিকেট পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে প্রচারাভিযান পরিচালনা করছেন। এ দিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক হুইপ এডভোকেট ফজলুল হক আসপিয়া, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে জানান দিচ্ছেন নিজেদের প্রার্থিতার কথা। সেই সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নজর কাড়তে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর শওকত ও বিএনপি নেতা নাদির আহমদের নামও শোনা যাচ্ছে।

প্রার্থিতার ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান জানান, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি থাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে নানামুখি সমস্যায় পড়তে হয়েছে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট এক সমাবেশে বলেন, জাতীয় পার্টির সাংসদ থাকায় সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় কোনো রকম উন্নয়ন হচ্ছে না। তিনিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দাবি করেন।

জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও বর্তমান সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ বলেন, বিগত দিনে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমি ব্যাপক কাজ করেছি। এলাকার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রয়েছে। ফলে আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণের মধ্যে আমার জন্য একটা আস্থা-ভালোবাসার জায়গা তৈরি হয়েছে। তাই আমি আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হব। তিনি আরো বলেন, মহাজোট না থাকলেও জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব। বিজয় নিশ্চিত বলে আশাবাদী পীর মিছবাহ।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪০ হাজার ১৬ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৩ জন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj