শহীদ সেলিনা পারভীনের ছেলের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার : হত্যার অভিযোগ পরিবারের

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের ছেলে সুমন জাহিদের (৫২) খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁও বাগিচা এলাকায় রেললাইনের পাশে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটিও। ব্যাংক কর্মকর্তা সুমন জাহিদ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। বিচারে যুক্তরাজ্যে পলাতক চৌধুরী মঈনুদ্দীন ও যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক আশরাফুজ্জামান উভয়কেই শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। রেল পুলিশ জানায়, গতকাল সকালে খিলগাঁও বাগিচা এলাকায় হিকমাহ আই হসপিটালের পাশে রেললাইন ঘেঁষেই সুমন জাহিদের লাশ পড়েছিল। তিনি ট্রেনের নিচে পড়েন বলে স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সুমন জাহিদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন কমলাপুর জিআরপি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, শাহজাহানপুর থানা পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করি। তার শরীর ও মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। এ ছাড়া ডান কানের ওপরে ও কপালে দুটি ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের কোনো যন্ত্রাংশ লেগে ক্ষতগুলো সৃষ্টি হয়েছে।

জিআরপি থানার ওসি ইয়াসিন মজুমদার জানান, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তার দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর তার মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাস্থলে শাহজাহানপুর থানা থেকেও পুলিশ গিয়েছিল। শাহজাহানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম মোল্লা জানান, তারা গিয়ে খণ্ডিত লাশ দেখেন। তার মাথা থেকে দেহ বিচ্ছিন্ন ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, কয়েকজন বলেছেন, ওই ব্যক্তি রেললাইন পার হওয়ার সময় হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। এরপরই কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন তার শরীরে ওপর দিয়ে চলে যায়। ঢাকা জেলা রেলওয়ে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি একটি দুর্ঘটনা। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ দিকে ঢামেক হাসপাতালে নিহতের বড় ভায়েরা এটিএম এমদাদুল হক বুলবুল সাংবাদিকদের জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কে বা কারা তাকে উত্তর শাজাহানপুরের বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপরই রেললাইনের পাশে তার লাশ পাওয়ার খবর শোনা যায়। সুতরাং তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এটিএম এমদাদুল হক বুলবুল আরো বলেন, সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে অফিসে চলে যাই। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে সুমন জাহিদের স্ত্রী টুইসির ফোন পেয়ে দ্রুত ছুটে যাই তাদের বাসায়। তার পরিবারের কাছ থেকে যতটুকু শুনেছি, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তার দাবি, দুবছর ধরে তিনি অনেকবার হুমকি পেয়েছেন। তাই আমরা ধারণা করছি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সুমন জাহিদের শ্যালক সারোয়ার জানান, সুমন জাহিদ ফারমার্স ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার সেকেন্ড অফিসার ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী। উত্তর শাহজাহানপুরে স্ত্রী-দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন তিনি। তার স্ত্রীর নাম টুইসি। তাদের দুই ছেলের মধ্যে স্মরণ টিএন্ডটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আরেক ছেলে সুমন্দ্র আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। এদিকে সুমন জাহিদের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা, না পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj