অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ কাফরুলে

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

রাজধানীর থানাগুলোতে কি হয়? যারা প্রতিকারের জন্য যান, কেমন আচরণ করা হয় তাদের সঙ্গে? বিভিন্ন থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের এন্তার অভিযোগ- এসব কি সত্যি? আর আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য যাদের ওপর ভরসা সাধারণ মানুষের, সেই থানা-পুলিশই বা কাজ করে কোন পরিবেশে? জনগণকে সেবা দেয়ার উপযুক্ত সামর্থ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কি আছে তাদের? এসব নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন-

ইমরান রহমান : ১২ জুন, মঙ্গলবার। বিকেল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি, সঙ্গে বজ্রপাত। সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টি একটু কমলেও খানিক পরই আবার বেড়ে যায়। এই তুমুল বৃষ্টির মধ্যেই কাফরুল থানার গেটে বাচ্চা কোলে দাঁড়িয়ে ভিজতে দেখা যায় দুই নারীকে। বাচ্চা দুটি কাকভেজা হয়ে শীতে কাঁপছিল। তাদের কাছে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী মোহাম্মদকে থানা পুলিশ ধরে এনেছে। কী কারণে ধরেছে সেটা জানতে সন্ধ্যা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু পুলিশ ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমাদের কোনো তথ্যও দিচ্ছে না। তাই এখানে দাঁড়িয়ে আছি স্বামীর খোঁজ জানার জন্য। পরে রাত ৯টার দিকে এক আনসার সদস্য এসে তাদের জানান, মামলা হয়েছে। কাল কোর্টে গিয়ে দেখা করবেন। এ কথা শোনার পর ওই দুই নারী চলে যান।

বৃষ্টির মধ্যেই থানার পাশে মেহগনি গাছের নিচে দাঁড়িয়েছিলেন এক যুবক। আলাপকালে ওই যুবক জানান, তার নাম ইকবাল। থাকেন উত্তর কাফরুল এলাকায়। পারিবারিক বিষয় নিয়ে একটি জিডি করেছিলেন। এখন পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের পরামর্শ নিতে এসেছেন। কিন্তু থানায় আসার পর প্রথমে ঢুকতে দেয়া হয়নি। প্রায় ২ ঘণ্টা পর ২ জনকে ঢুকতে দেয়া হয়েছে। তবে তিনি জিডির বাদী হয়েও ভেতরে ঢোকার অনুমতি পাননি। জিডি করতে কোনো টাকা দিয়েছেন? জানতে চাইলে বলেন, ২০০ টাকা নিছে। এখন পরামর্শ নিতে কত নেয় কে জানে?

১৩ জুন সকালেও দেখা যায়, থানার সামনে রাস্তার পাশে বসে রয়েছেন ১০-১২ জন লোক। তারা সবাই থানায় এসেছেন। কিন্তু অনুমতি না মেলায় তাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি কর্তব্যরতরা। দুপুরে জিডি করতে আসা ২ যুবকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিতে দেখা যায় এএসআই কামরুলকে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কাফরুল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আসলাম উদ্দিন ভোরের কাগজকে বলেন, রাজধানীতে জঙ্গিদের বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরে আমরাও জঙ্গি হামলার হুমকিতে পড়ি। এরপর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা থানায় আসবে তাদের বাইরেই আসার কারণ জানাতে হবে। যদি বাইরের জিজ্ঞাসাবাদে কাউকে সন্দেহজনক মনে হয় তাহলে থানায় ঢুকতে দেয়া হয় না। বৃষ্টির মধ্যে অভ্যাগতদের ভেজার কথা জানানো হলে তিনি বলেন, এটা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। থানার পাশে ছাউনি আছে। সেখানে তাদের রাখা যেত। জিডিতে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আসলাম উদ্দিন বলেন, জিডি করে টাকা নেয়া হয় না। যদি কেউ নিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

থানার কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর, মহাখালী, বিজয় সরিণ, তালতলা, আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কচুক্ষেত ও বাইশটেকি এলাকা নিয়ে কাফরুল থানা গঠিত। এ থানায় একজন ইন্সপেক্টর ইনচার্জ (ওসি), ২ জন ইন্সপেক্টর, ২৮ জন এসআই, ৩৫ জন এএসআই ও ৪৪ জন কনস্টেবল রয়েছে। থানাটিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৪৬টি মামলা, ফেব্রুয়ারিতে ৫৮টি, মার্চে ৫২টি, এপ্রিলে ৪৯টি ও মে মাসে ৪১টি মামলা হয়েছে। যার বেশিরভাগই মাদক ও নারী নির্যাতন মামলা।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj