পুঠিয়ায় ভিজিএফের চাল বিতরণে বাধা জনরোষের মুখে আ. লীগ নেতা

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের আ. লীগের সভাপতি ফজলুর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে ভিজিএফের চাল বিতরণ বন্ধ করার নির্দেশ দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। চাল দিতে বিলম্ব হওয়ায় চাল নিতে আসা দুস্থ ব্যক্তি ভোগান্তিতে পড়েন। তবে অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হওয়ায় উত্তেজিত জনতা তাকে দেড় ঘণ্টা অরুদ্ধ করে রাখেন।

আ. লীগ সভাপতি ফজলুর রহমান পরে তার ভুল স্বীকার করেন। পরে ৫ ঘণ্টা পর দুপুর ১টায় চাল বিতরণ শুরু হয়। এতে দূর দূরান্ত থেকে চাল নিতে আসা হাজারো দুস্থ মানুষ ভোগান্তির স্বীকার হয়। গত বুধবার উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন আ. লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান গত বুধবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে এসে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের কাল্পনিক অভিযোগ এনে চাল বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করেন।

এ সময় ফজলুর রহমান বলেন, আমাকে না জানিয়ে চাল বিতরণ করার সাহস কে দিয়েছে? কীভাবে চাল বিতরণ করা হয় আমি সেটাই দেখে ছাড়ব। পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেন।

তবে ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, চাল দেয়ার ব্যপারে সকালে ফোন করে সভাপতিসহ সবাইকে জানানো হয়েছে এবং চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফজলুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদে আসেন এ সময় চাল নিতে আসা সব মানুষ তাকে ঘিরে ধরে পরে তাৎক্ষণাৎ সেখান থেকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আল ওয়াদুদের উপস্থিতিতে ফজলুর রহমানের অভিযোগের ব্যাপারে সত্যতা পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর দুপুর ১টার দিকে জিউপাড়া ইউনিয়নে ভিজিএফের চার বিতরণ শুরু হয়। চাল দিতে বিলম্ব হওয়ায় রোদের মধ্যে দূর দূরান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ ভোগান্তির স্বীকার হয়ে বসে ছিলেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা জিউপাড়া ইউনিয়নে চাল বিতরণ বন্ধ রেখে ভোগান্তির সৃষ্টি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আ. লীগের নেতারাও। তারা বলেন, এ সব নেতার কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে ইউনিয়ন আ. লীগের সভাপতি ফজলুর রহমানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাল বিতরণ বন্ধের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কে বলেছে আমি চাল বিতরণ বন্ধ করেছি? তার নাম আমাকে বলেন অথবা তাকে প্রমাণ করতে বলেন। তিনি বলেন, চাল বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে আমি এর প্রতিবাদ করেছি মাত্র।

এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আল ওয়াদুদকে ফোন করলে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত রেশ থেকেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লা আল মাহমুদ বলেন, অবরুদ্ধ করে রাখা নয় সেখানে ইউপি সদস্যদের নিয়ে আলোচনা চলছিল সেখানে লোকজন ভিড় করেছিল। তবে সব সমস্য সমাধান হয়েছে। উল্লেখ্য, এবার উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৯শ দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj