ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট শিমুলিয়া ঘাটে উপচেপড়া ভিড়

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

হিমা বেগম, মুন্সীগঞ্জ থেকে : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের ঢাকামুখী মেঘনা সেতু থেকে দরিবাউশিয়া পাখির মোড় পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার তীব্র যানজট দেখা দেয় গত বুধবার। গাড়ির চাপ থাকার কারণে বুধবার ভোর থেকেই সেখানে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে গজারিয়ার ভাটেরচর এলাকায় যানজটের তীব্রতা বেশি।

ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী লেনে ধীরগতিতে গাড়ি চললেও ঢাকামুখী যানবাহন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে এমন যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানায় ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ। ঈদকে সামনে রেখে গাড়ির চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, গজারিয়ার ভাটেরচর থেকে মেঘনা ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকামুখী গাড়ির চাপে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ৪ লেনের যানবাহনগুলো যখন দুই লেনের সেতুতে উঠে তখন যানজট আরো বেড়ে যায়। গজারিয়ার ভাটেরচর এলাকা থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত গাড়িই যানজটের প্রধান কারণ। আর এ যানজটের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ।

আসছে ঈদকে ঘিরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বুধবার ভোর থেকেই প্রিয় মানুষের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাওয়া মানুষ বাড়ি ছাড়তে শুরু করে। দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম নৌপথ হচ্ছে এ শিমুলিয়া ঘাট।

এ ঘাটে ৭ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সারি দীর্ঘ হতে থাকে বলে জানান বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারী জানান, গত মঙ্গলবার ভোর থেকেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ঘাট এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৭ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।

এর মধ্যে মোটরসাইকেল ও ছোট গাড়ির সংখ্যাই বেশি রয়েছে। ২০টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা করছে। একসঙ্গে অনেক গাড়ি ঘাট এলাকায় আসায় পারাপারে একটু সময় লাগছে। সকাল থেকে প্রায় হাজারের মতো মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার ও বাস পার করা হয়েছে।

যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোকে আগে প্রাধান্য দিয়ে পারাপার হতে দেয়া হচ্ছে। যাত্রীদের যানবাহনের চাপ কম থাকলে পণ্যবাহী যানবাহন যাতায়াত করছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ২০টি ফেরি চলাচল করছে ৪টি ঘাট দিয়ে। বেনাপোলগামী যাত্রী মিথুন সাহা অপু জানান, সকালে স্পিডবোটে করে পার হয়েছি ২০০ টাকা নিয়েছে। বোটগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রী নিচ্ছে।

লঞ্চ ও সিবোট ঘাট এলাকায় যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে গাড়িতে অপেক্ষা এবং ফেরি ছাড়তে দীর্ঘ সময় লাগায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক যাত্রী। গত বুধবার থেকে ৭৬টি লঞ্চ যাত্রী পারপার করছে। দুপুরের পর থেকে অনেক লঞ্চেই ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী উঠতে দেখা গেছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj