অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দের দাবি কোস্ট ট্রাস্টের

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : ২০১৮-১৯ বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব মোকাবেলায় সক্ষম অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ রাখতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন সহিষ্ণু অর্থনীতি এবং উপক‚লীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে পর্যাপ্ত এবং অতিরিক্ত বরাদ্দ দিতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলোর ৯টি নেটওয়ার্ক সংস্থা জাতীয় বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সক্ষম অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বারোপ করার দাবি জানায়। কোস্ট ট্রাস্টের সমন্বয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সাধারণ বাজেটকে জলবায়ু বাজেট হিসেবে উপস্থাপন করায় সরকারের সমালোচনা করেন। তারা জলবায়ু পরিবর্তন সহিষ্ণু অর্থনীতি নিশ্চিত করতে এবং উপক‚লবাসীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে বাজেটে পর্যাপ্ত এবং অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান।

ইক্যুইটিবিডির প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরো বক্তব্য রাখেন ফেডারেশন অব এনভায়রনমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী, ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, বাংলাদেশ পিপলস নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জের মৃণাল কান্তি এবং বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম। ইক্যুইটিবিডির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে সরকারের প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ প্রশংসনীয়, কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে দেখানো ১৮ হাজার ৯শ ৪৮ কোটি টাকা আসলে সাধারণ উন্নয়ন বাজেটেরই অংশ, যে ধরনের উন্নয়ন আগে হয়ে এসেছে। এর আলোকে তিনি চারটি দাবি তুলে ধরেন, ১) সাধারণ বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে হবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায়, ২) প্রবৃদ্ধিমুখী অবকাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সক্ষম অবকাঠামো নির্মাণকে আলাদাভাবে দেখতে হবে এবং জলবায়ু বিপন্ন মানুষকে রক্ষায় সে আলোকেই বরাদ্দ দিতে হবে, ৩) গণমানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা হালনাগদ করতে হবে এবং এর জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে, ৪) বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডসহ সব জলবায়ু তহবিলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কামরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে যে বরাদ্দ বাজেটে রাখা হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তা অপর্যাপ্ত। বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে সুবিধা নিতে সরকার তার ন্যাশনাল ইমপ্লিমেন্টিং এনটিটিসি-এর দক্ষতা বাড়াতে সংকট মোকাবেলা করছে। বৈশ্বিক তহবিলের সুবধিা নিতে তিনি সরকারকে এনআইই-এর দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেন।

রেজাউর করিম চৌধুরী বলেন, জলবায়ু বিপন্নতা নিরসন এবং জলবায়ু সহিষ্ণুতা বাড়াতে বাজেটে নতুন কোনো বরাদ্দ নেই। তিনি সরকারকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে, যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আর্থিক বরাদ্দসহ নিজস্ব জলবায়ু পরিবর্তন কৌশলপত্র গ্রহণের পরামর্শ দেন। জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য তিনি সুপারিশ করেন। বদরুল আলম বলেন, ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ এর সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। তিনি ট্রাস্ট ফান্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং এর কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মোতাহার হোসেন বলেন, জলবায়ু অর্থায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করাই বড় সাফল্য নয়, সাফল্য নির্ভর করবে কত টাকা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ব্যয় করা হলো তার উপর। ঘূর্ণিঝড় আইলা এবং সিডর প্রধান বেড়িবাঁধগুলোর ক্ষতি করেছে, জলোচ্ছ¡াস মোকাবেলায় আমাদের এসব বেড়িবাঁধ নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। লবণাক্ত পানির প্রবেশ আমাদের জন্য আরেকটি সমস্যা। বাজেটে সরকারকে এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj