চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি : সমীক্ষা যাচাইয়ে বৈঠক বেইজিংয়ে

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ইস্যুতে আগামী ২০ ও ২১ জুন দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ। বৈঠকে বাংলাদেশের ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম। বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ের সমীক্ষা যাচাই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বেইজিংয়ের সঙ্গে এফটিএ চুক্তির পর ঢাকার শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না- এটা নিশ্চিত হওয়ার পরই চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে বলে একাধিক ক‚টনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সূত্রগুলো আরো বলছে, এফটিএ চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চায় না ঢাকা। কারণ, বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ঢাকা বেইজিং থেকে বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করে মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, এশিয়া প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তির (এপিটিএ) আওতায় ২০১০ সাল থেকে চীনের বাজারে চার হাজার ৮৮৬টি পণ্যেও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, চীনের পক্ষ থেকেই এফটিএ করার প্রথম প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের যুক্তি হলো, এফটিএর মধ্য দিয়ে ঢাকায় চীনের বিনিয়োগ বাড়বে। সেই সঙ্গে ঢাকার রপ্তানিও হবে বহুমুখী। চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ২০১৬ সালের অক্টোবরে ঢাকা সফরে এলে দুদেশের মধ্যে এফটিএ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি যৌথ সমীক্ষা যাচাই কমিটি গঠনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। সে অনুযায়ী, দুই দেশ যৌথ সমীক্ষা যাচাই কমিটি গঠন করে। এই কমিটি এখন এফটিএ চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কাজ করছে।

বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জাও বলেন, এটা সত্য যে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। একাধিক কারণে এই ঘাটতি বিরাজ করছে। তবে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে চীন সব সময় আন্তরিক।

রাষ্ট্রদূত ঝাং জাও আরো বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব অনেক পুরনো। বাংলাদেশে ২৭টি উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে চীনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে, কর্ণফুলী টানেল উন্নয়ন, পয়ঃনিষ্কাশন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নসহ একাধিক খাতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক সামনের দিকে আরো এগিয়ে নিতে চায় চীন। মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে ঢাকার পাশে থাকে বেইজিং।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj