পার হয়ে গেছে দেড় মাস : চট্টগ্রামে উদঘাটন হয়নি তাসফিয়া মৃত্যুর রহস্য

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। নগরীর পতেঙ্গা থেকে চোখ, নাক-মুখ থেঁতলানো অবস্থায় তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধারের দেড় মাসেও মামলার কোনো ক‚লকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। তাসফিয়াকে কারা, কেন হত্যা করেছে সে বিষয়ে খোদ পুলিশই অন্ধকারে। তাসফিয়া হত্যায় তার বাবার দায়ের করা মামলার আসামি ও তাকে বহনকারী সিএনজি ট্যাক্সির হদিসও পাওয়া যায়নি।

এ দিকে গত সোমবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে তাসফিয়ার ভিসেরা প্রতিবেদন জমা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলছাত্রী তাসফিয়া বিষক্রিয়া কিংবা এলকোহলের কারণে মারা যায়নি।

উল্লেখ্য, ২ মে সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর কর্ণফুলী নদীর নেভাল এলাকা থেকে তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আমিন বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় নগরীর মোহাম্মদপুর হামজার বাগ এলাকার ‘সন্ত্রাসী’ ফিরোজ ও তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাসহ ছয়জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। পুলিশ আদনান ও মিজান নামে দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করলেও ‘সন্ত্রাসী’ ফিরোজ কিংবা ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ অবস্থায় আদনান মির্জাকে দ্বিতীয়বারের মতো রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আগামী ২৮ জুন রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

পতেঙ্গা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, ভিসেরা প্রতিবেদনের জন্য সাধারণত স্টমাক, পিত্তথলি, লিভারের অংশ, উভয় কিডনির অংশ পাঠানো হয়। সোমবার তাসফিয়ার ভিসেরা রিপোর্ট এসেছে ঢাকা থেকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাসফিয়ার শরীরে কোনো বিষক্রিয়া বা অ্যালকোহলের আলামত পাওয়া যায়নি। মূলত শরীরে কোনো বিষক্রিয়ার আলামত আছে কিনা তা জানতে ভিসেরা রিপোর্টের প্রয়োজন হয়। জাহেদ বলেন, ভিসেরা রিপোর্ট এলেও আরো বেশ কয়েকটি আলামতের প্রতিবেদন এখনো আসেনি। মৃত্যুর আগে ছাত্রীটি ধর্ষণ বা কোনো শারীরিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে কিনা তা জানতে বেশ কয়েকটি আলামত আমরা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছি। এসব প্রতিবেদন হাতে আসার পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তাসফিয়ার মৃত্যুরহস্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অন্যান্য রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

নগরীর গোলপাহাড় মোড় থেকে তাসফিয়াকে পতেঙ্গা নেভালে বহন করে নিয়ে যাওয়া সেই আলোচিত সিএনজি ট্যাক্সির খোঁজ পেতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। সেই ট্যাক্সির খোঁজ পাওয়া গেলে তাসফিয়ার মৃত্যুরহস্য অনেকটা উদঘাটিত হতো এমনটি দাবি পুলিশ কর্মকর্তাদের। এদিকে মামলার তদন্ত কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে দাবি করে নিহতের বাবা মোহাম্মদ আমিন পুলিশি তদন্তে আস্থাহীনতার কথা জানিয়েছেন। তাসফিয়ার মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে মামলার বাদী আমিন বলেন, এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ কোনো অগ্রগতির কথা জানাতে পারেনি। মামলায় আদনানের কথিত বড় ভাই ফিরোজসহ ছয়জনকে আসামি করা হলেও অন্যদের কেউ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তদন্তে পুলিশের আরো সক্রিয়তা এবং আদনানের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাসফিয়ার বাবা। তিনি বলেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইর তত্ত্বাবধানে তদন্ত চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে। দুয়েকদিনের মধ্যেই এ আবেদন দাখিল করা হবে। তাসফিয়ার মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj