মাদকবিরোধী অভিযান : সফলতার শর্ত

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে এর সূচনালগ্ন থেকে সংবাদপত্রে এন্তার লেখালেখি চলছে, একেকজনের একাধিক নিবন্ধ যুক্তি- তথ্যসমৃদ্ধ ন্যায়নীতি বিচারে। কিছু কিছু নিবন্ধ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সে লেখা এখনো বন্ধ হয়নি। এর একট বড় কারণ মাদকবিরোধী এ অভিযানের চরিত্র। অর্থাৎ বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী হত্যা, তাকে বিচারের আওতায় না এনে। আর মূল ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

প্রথম বিষয়টিই এখন বিতর্কের মূল বিষয়। এর আগে আমি মাদকের সূচনা পর্বটির উল্লেখ করতে চাই এর গুরুত্ব বিচারে। কারণ এ ব্যাধি বিশ^মাত্রিক। মেক্সিকো থেকে পানামা-কলম্বিয়া হয়ে গোটা আমেরিকা মহাদেশ- উত্তর ও দক্ষিণ এ সমস্যায় জড়িত ও পীড়িত। মার্কিন প্রশাসন বহু চেষ্টা করে মাদক বিস্তার সীমিত করলেও তা বন্ধ করতে পারেনি, ড্রাগ ডনদের নির্মূল করতে পারেনি। কারণ সীমান্ত পাচার বন্ধ করা চাট্টিখানি কথা নয়।

তা ছাড়া তার চারপাশের দেশগুলোতে রয়েছে মাদক উৎপাদনের বিশাল উর্বরা ভূমি, সেইসঙ্গে এর কৃত্রিম রাসায়নিক উপাদান তৈরির নানামাত্রিক কারখানা। কাজেই হরেক রকম ড্রাগ তথা ভেষজ-মাদক তৈরি হয়ে চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করছে। দূর দেশের কথা থাক। ভারতীয় উপমহাদেশ সংলগ্ন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের উপজাতি অঞ্চলে কী সুন্দর পপি (আফিম) ফুলের চাষ- বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে যার ফলের নির্যাস থেকে মরফিন, কোডিন জাতীয় বেদনানাশক, চেতনানাশক উপাদান ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে একদা। পরে অতিআসক্তি সৃষ্টির জন্য বর্জিত।

কিন্তু ব্যবসা বা মুনাফাবাজি সম্ভবত মানব স্বভাবের একপেশে মজ্জাগত। একে জয় করতে হয়। কেউ পারে, কেউ পারে না। এর টানে আফগানিস্তানের ভয়াবহ এই সোনালি আবাদ ভারতের ব্রিটিশ রাজশাসন অনেক চেষ্টা করে উচ্ছেদ করতে পারেনি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিভিন্ন দেশে এর যাত্রা। চাপের মুখে এ আবাদ সঙ্কুচিত হওয়ার কারণে এর নতুন উৎপাদন ক্ষেত্র, নতুন সোনালি ত্রিভুজ ভূমি ভিয়েতনাম-লাওসের পার্বত্যাঞ্চলের মতো সমিহিত এলাকায়।

স্বভাবতই মাদকাগ্রস্ত দেশের মধ্যে প্রধান হয়ে ওঠে থাইল্যান্ড, ফিলিপিনস, চীন, পাকিস্তান হয়ে ভারত, বার্মা ইত্যাদি দেশ। যে কারণেই হোক বাংলাদেশ তথা পূর্ববঙ্গ এই সোনালি যাত্রাপথের বাইরে অবস্থিত ছিল। পাকিস্তান আমলে পূর্ববঙ্গে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ‘মে অ্যান্ড বেকার’-এর একটি কাশির ওষুধ ‘ফেনসিডিল’ বহু ব্যবহৃত। মূলত এর প্রধান উপাদান কোডিনের মাত্রা একটু বেশি থাকায় কাশি দমনে এর কার্যকারিতা ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে এবং বিনা ব্যবস্থাপত্রে ফেনসিডিলের ছিল ব্যাপক ব্যবহারিক জনপ্রিয়তা। আর সেই ফেনসিডিল কিনা এক সময় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত থেকে চোরা সীমান্তপথে বাংলাদেশে আসতে থাকে ভেজাল ফেনসিডিল হিসেবে। তাতে মেশানো হতো নিষিদ্ধ মাদক হেরোইন। সে এক দীর্ঘ ইতিহাস। আক্রান্ত যুব সমাজ। কিন্তু এর প্রবেশ বন্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অর্থাৎ জিহাদি অভিযান চলানো হয়নি।

এ সময় কড়াকড়ি এড়াতে হঠাৎ করেই সোনালি ত্রিভুজের যাত্রাপথ (রুট) বদল এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়, লক্ষ্য যদিও ভারতসহ একাধিক দেশ। মনে আছে এ সময় একাধিক নিবন্ধে এ যাত্রার ভয়াবহতা উল্লেখ করে লিখেছিলাম, এর প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশ না হলেও এ মাদক-কাফেলা এ পথে যেতে যেতে কিছু না কিছু মাদক বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যেতে থাকবে। এর পরিণাম হবে ভয়ঙ্কর দেশের তরুণ-তরুণী ও যুব সমাজের জন্য। এখনই এ কাফেলা বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক।

কিন্তু কে কার কথা শোনে। বিশেষ করে সংবাদপত্রের কলাম নিবন্ধের বক্তব্য নিয়ে কি কেউ মাথা ঘামায়? তখন মাথা ঘামায়নি প্রশাসন। ফলে ফেলে যাওয়া মাদকই নয়, বিচক্ষণ মুনাফাবাজ ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি সমাজকেই যাত্রাপথের টার্গেট হিসেবে গ্রহণ করে। আমাদের চোখের সামনে মাদক ব্যবহারের বিস্তার ঘটতে থাকে। সবারই চোখে পড়েছে মাদক নেশাগ্রস্ত তরুণ-তরুণীদের তন্দ্রাচ্ছন্ন দশা।

শাসন-প্রশাসন এ অবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলেও মাদক ব্যবসায়ীদের হয়তো মনে হয়েছে এত বড় বিশাল ব্যবসা জগত! এখানে বিন্দুমাত্র লোকসানের ভয় নেই। আছে লাভ, দুর্দান্ত লাভ। স্বভাবতই বৃহৎ মাদক ব্যবসায়ী, কথিত ‘ডন’ থেকে ছোট-বড় বহু সংখ্যক ব্যবসায়ী এই পরম লাভের ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থা তো একদিনে হয়নি। হয়েছে ধীরেসুস্থে, সমাজে যেভাবে ব্যাধির (শরীর) বিস্তার মহামারীতে পরিণত হয়।

আমাদের প্রশ্ন এসব যখন চোখের সামনেই ঘটছে তখন কী করছিল মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? কিন্তু এত বড় বিশাল ব্যবসা বাজার। তাই ফেনসিডিল, হেরোইন (বস্তিবাসীদের ভাষায় ‘হিরন খাওয়া’ হিরন ব্যবসা) গাঁজা, সীসাধূম থেকে শেষ পর্যন্ত ইয়াবা বড়ি। এর ব্যবহার এখন সীমা-পরিসীমাহীন। বাংলাদেশি সমাজ দূষিত, ব্যাধিগ্রস্ত, তেমনি তরুণ ও যুবসমাজ।

দুই.

সমাজ যখন মাদকাসক্তিতে চরম দুরবস্থায়, তখন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদকবিরোধী তথা মাদক নিবারণ অভিযান শুরু হয়েছে কঠোরভাবে। অনেক দেরিতে শুরু হলেও মাদকবিরোধী অভিযানের নির্দেশ অভিনন্দনযোগ্য। কারণ সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করা খুবই জরুরি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অভিযানকারীদের মাদক ব্যবসায়ীদের বন্দুকযুদ্ধে হত্যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক, দেশে ও বিদেশে। আন্তর্জাতিক মহল এতে উদ্বিগ্ন। উদ্বিগ্ন পদ্ধতিগত কারণে।

অভিযানের বিষয়টি জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনারত এবং ব্যাপক ভিত্তিতে। এ স্তরে আমার জানামতে অনেকে খুশি। তরুণদের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থা, এর সঙ্গে যুক্ত রকমারি অপরাধ, খুন, চাপাবাজি ইত্যাদি নিয়ে জনমত ক্ষুব্ধ। মাঝেমধ্যে এমন খবরও সংবাদপত্রে প্রকাশিত যে, ক্ষেত্রবিশেষে এর সঙ্গে পুলিশ যুক্ত, যুক্ত সাংসদ বা জনপ্রতিনিধি। তাই তারা চায় মাদক ব্যবসার মূলোৎপাটন।

বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী হত্যা জনসাধারণের মনে বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি। কিন্তু এটা সমস্যার এক পিঠ। প্রথমত, শিক্ষিত মহলের একাংশে অভিযানের চরিত্র নিয়ে ভিন্নমত পোষণ না করলেও রাজনীতি সচেতনদের এ সম্পর্কে আপত্তি প্রকাশ পাচ্ছে তাদের মন্তব্যে, লেখায় ও আলাপচারিতায়। তাদের বক্তব্য, মাদকবিরোধী অভিযান চলুক, আটক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার চলুক, বিচারে তাদের কঠোর শাস্তি হোক, কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যা সঠিক নয়, নীতিসম্মত নয়, গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ব্যাপারে সর্বাধিক সরব মানবাধিকার সংস্থার নেতানেত্রীরা। তাদের যুক্তি, এতে একটি ভুল হত্যাও অপরাধ হিসেবে বিবেচ্য। কারণ মৃত মানুষ ফিরে আসে না ফলে ভুল শোধরানোর সুযোগ থাকে না। তাদের আরো কথা, এ অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার আন্দোলন গড়ে তোলা হোক সরকারি-বেসরকারি উভয় দিক থেকে।

ইতোমধ্যে জনসাধারণের একাংশে ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। তাদের খেদ, এ অভিযানে ছোট ও মাঝারি শ্রেণির মাদক ব্যবসায়ীরাই ধরা পড়ছে, আটক হচ্ছে বা ক্রসফায়ারে মারা যাচ্ছে, কিন্তু রাঘব বোয়ালরা ধরা পড়ছে না। তাদের প্রশ্ন, কেন এমন হচ্ছে? সম্ভবত সংবাদপত্রের বিভিন্ন খবর ও লেখা পড়ে তাদের এ প্রতিক্রিয়া।

এ সম্বন্ধে আমরা দু’তিনটে সংবাদ শিরোনাম উল্লেখ করতে চাই, যদিও এ জাতীয় শিরোনাম অনেক, অনেক। কয়েকদিন আগে একটি দৈনিকে শিরোনাম ‘ইয়াবা পাচারে আছে/তালিকায় নেই’। অন্য একটি শিরোনাম ‘চাচা-ভাতিজার ইয়াবা ব্যবসা/অভিযানের মধ্যেও চলছে’।

প্রথম শিরোনামটি চট্টগ্রামভিত্তিক। প্রতিবেদকের মতে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় সাধারণদের নাম আছে, কিন্তু বড়দের নাম নেই, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। দ্বিতীয়টির উৎস যাত্রাবাড়ীর ইমাম সাহেব, যিনি বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় ইয়াবা বড়ি বিক্রি করেন। ছোট্ট এ খবরটি থেকে বোঝা যায় মাদক ব্যবসা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে।

ঢাকার মোহাম্মদপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের চিত্রটি গুরুতর অভিযোগের সূত্র বয়ে আনে। শিরোনাম ‘কারবারিরা সা¤্রাজ্য রেখে চম্পট, অন্যরা হয়রানিতে’। প্রতিবেদনে দেখা যায় এই হয়রানির মধ্যে রয়েছে ‘বস্তিবাসী নিরপরাধ’ মানুষও। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম ‘ফাঁস করে দেয়া হচ্ছে অভিযানের তথ্য’। তাহলে অভিযান সফল হবে কীভাবে?

তবে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, সর্ষের মধ্যে ভূত। তিন কলামের একটি সংবাদ শিরোনাম ‘এলাকাভিত্তিক মাদক ব্যবসা/পুলিশের ছত্রছায়ায়।’ এলাকা বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। আরো মারাত্মক তথ্য ‘এর সঙ্গে জড়িত স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি।’ আমরা জানি সংবাদপত্রের একাধিক প্রকাশিত সূত্রে যে জনৈক মাদক ব্যবসায়ী সাংসদ ইতোমধ্যেই বিদেশে। ইনি মাদক ব্যবসায়ের একজন রাঘব বোয়াল। যখন অভিযানের সিদ্ধান্ত হয় তখন তো তাকে আটক করা দরকার ছিল। একজন মাদক স¤্রাটের নাম পুলিশের তালিকায় না থাকার কথা নয়। একটি বিষয়ে আমাদের আশঙ্কা সত্যে পরিণত হয়েছে আর তা হলো শরণার্থী রোহিঙ্গা যুবকদের নানা সামাজিক অপরাধ ও অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়া। ইতোপূর্বে এমন ঘটনা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এবার দেখা যাচ্ছে রোহিঙ্গা যুবকদের মাদক ব্যবসায়ে সংশ্লিষ্টতা। তারচেয়েও মারাত্মক ঘটনা হলো ‘টাকার লোভ দেখিয়ে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের মাদক বহনে ব্যবহার করা।’ বুঝা যায় মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া।

তিন.

আপাতত এ পর্বে আমরা মাদক অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে বিশদ বিচার-বিশ্লেষণে যাচ্ছি না। আমরাও চাই, মাদকবিরোধী অভিযান সফল হোক, সমাজমুক্ত হোক ভয়ানক এ ব্যাধি থেকে। এ মুক্তির একমাত্র শর্ত মাদক ব্যবসার মূল শিকড় উৎপাটন। শুধু চুনোপুঁটি ও মাঝারি স্তরের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ভয়ঙ্কর এ অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে না। এ অনাচারের মূল উৎস ধ্বংস করতে হবে। না হলে পুলিশি অভিযান বন্ধ হলেই অপরাধীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, নেমে পড়বে মাঠে যথারীতি তৎপরতায়। একটি দৈনিকে দেখছি এমনই একটি শিরোনাম ‘ধরতে হবে মূল হোতাদের’। আরেকটি শিরোনাম ‘মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকা ছাড়া’। কিন্তু সমস্যা হলো অভিযান বন্ধ হলেই তারা এলাকায় ফিরে আসবে।

তাই আপাতত ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি ধারায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। বড় কথা হলো অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নীতির মাধ্যমে অভিযান চালু রাখতে হবে। মাদকের স্থানীয় উৎস যেমন বন্ধ করতে হবে, তেমনি মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে, সীমান্ত পথগুলোতে সৎ পাহারা জোরদার করতে হবে, সেইসঙ্গে দলনিরপেক্ষতায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের কুখ্যাত ডনদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাদের রেহাই দিলে চলবে না। এ শর্তগুলো পূরণ না করা হলে মাদক অভিযান সফল হবে না, সমাজ মাদকমুক্ত হবে না।

আহমদ রফিক : লেখক, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj