জানা-অজানা বিশ্বকাপ

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

– এটি ফিফা বিশ্বকাপের ২১তম আসর।

– ইতালি এবং ব্রাজিলের পর রাশিয়া বিশ্বকাপে জার্মানির টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

– বিশ্বকাপের গত তিন আসরে সর্বোচ্চ গোলকারী দেশ হলো জার্মানি।

– স্বাগতিক রাশিয়ার সাবেক ফরোয়ার্ড ওলেগ সালেনকো এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫টি গোল করেন। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের ওই ম্যাচে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ৬-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছিল রাশিয়া। আর সালেনকো গোল্ডেন বুট পেতে সক্ষম হন।

– প্রায় ৩.২ বিলিয়ন মানুষ গত ব্রাজিল বিশ্বকাপের খেলা দেখেছে। যা পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা।

– ফুটবলারদের মধ্যে জার্মানির টমাস মুলার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০টি গোল করেছেন।

– প্রত্যেক বিশ্বকাপজয়ী কোচসমূহ সে দেশেরই নাগরিক।

– ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ডেভিড ভিয়া, টিম কাহিল এবং রাফায়েল মার্গুয়েজ রাশিয়ায় গোল করতে পারলে টানা চারটি বিশ্বকাপে গোল করার যোগ্যতা অর্জন করবে।

– রাশিয়া এককভাবে এখন পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। স্বাগতিক হিসেবে তারা কি এবার ভালো কিছু করতে পারবে!

– আইসল্যান্ড এবং পানামা প্রথমবারের মতো অংশ নেবে।

– ব্রাজিল হলো একমাত্র দেশ যারা বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে অংশ নিয়েছে এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক শিরোপা পেয়েছে।

– এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ দশবার বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া।

– ইরান নিজেদের ইতিহাসে এবার পরপর দুবার বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

– বিশ্বকাপে অংশ নেয়া সবচেয়ে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হলো আইসল্যান্ড। এ দেশের জনসংখ্যা মাত্র ৩ লাখ ৩৪ হাজার।

– ট্রফি না পাওয়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দেশ হলো নেদারল্যান্ডস। কিন্তু এবার তারা বাছাইপর্ব থেকেই বাদ পড়েছে।

– ১৯৫৮ সালের পর এই প্রথম ইতালি বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব থেকেই ছিটকে পড়েছে।

– শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি ইতালি, নেদারল্যান্ডস, চিলি, ওয়েলস, ঘানা, ইকুয়েডর, ক্যামেরুনের মতো দলগুলো।

– রাশিয়া বনাম সৌদি আরবের ম্যাচের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ২১তম আসরের শুভ উদ্বোধন হবে।

– এই বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের নি¤েœ থাকা দুই দেশ উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে। (রাশিয়া-৬৫ এবং সৌদি আরব-৬৩)

– ১১ অক্টোবর বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার জন্য পানামার রাষ্ট্রপতি ওই দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন।

– রাশিয়া বিশ্বকাপে গত চার বছর আগে অনুষ্ঠিত ব্রাজিল বিশ্বকাপের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা খরচ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

– ১১টি ভিন্ন ভিন্ন শহরে ১২টি স্টেডিয়াম বেশ ব্যয়বহুলভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

– মিসরীয় গোলকিপার এবং অধিনায়ক অ্যাসাম আল হাডারি ৪৫ বছর বয়সে রাশিয়া বিশ্বকাপে অংশ নেবে। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ফুটবলার।

– জার্মানি এবং স্পেন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সবগুলো ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়েছে। স্পেন জিতেছে ২০১০ সালে। আর এবার জার্মানি বাছাইপর্বের সব ম্যাচ জিতেছে।

– এবারই হয়তো যাদের শেষ বিশ্বকাপ হবে- লুইস সুয়ারেজ (৩২ বছর), আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (৩৩ বছর), লুকা মড্রিচ (৩২ বছর), থিয়াগো সিলভা (৩৩ বছর), দানি আলভেস (৩৪ বছর), রাফা মার্কুয়েজ (৩৯ বছর) ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (৩৩ বছর)।

– মিরা¯েøাভ ক্লোসার রেকর্ড ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে টমাস মুলারের।

– ২০০২ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ৩১-০ গোলের ব্যবধানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবারের বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ব্যবধান ১৫-০। ভুটানের বিপক্ষে কাতার করে।

– ১৯৫৮ সালের পর ফের একবার একসঙ্গে একই গ্রুপে অবস্থান করছে জার্মানি ও সুইডেন। সেবার দুদলই সেমিফাইনাল খেলেছিল।

– অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ব্রাজিলের স্কোয়াড সবচেয়ে ব্যয়বহুল। আর কম ব্যয়বহুল স্কোয়াড হলো পানামার।

– বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি ভারত।

– উরুগুয়ের কোচ অস্কার তাবারেজের এটি কোচ হিসেবে চতুর্থ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা।

– বিশ্বকাপের ষোলোটি আসরে অংশ নিয়েও কোনো ট্রফির স্বাদ না পাওয়া একমাত্র দেশ হলো মেক্সিকো। ইন্টারনেট।

স্বাগতিকদের শিরোপা জয় : স্বাগতিক দল যদি ফেবারিট হয় তাহলে তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা থাকে আরো বেশি। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েছে উরুগুয়ে, ইতালি, ইংল্যান্ড, পশ্চিম জার্মানি, আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্স। তারা স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপ জয় করেছে। তবে দুঃখ ব্রাজিলের, ফেবারিট ও স্বাগতিক দুই গুণের সংমিশ্রণ পেয়েও তারা উরুগুয়ের কাছে শিরোপা হারায় নিজ মাঠে (১৯৫০)।

* মেক্সিকো-ফ্রান্সের ম্যাচ পর্যন্ত বিশ্বকাপে গোল হয়েছে মোট ২১০১টি। লা ব্লুজের জেভিয়ার হার্নান্দেজের প্রথম গোলটি ছিল ২১০০তম। আর পেনাল্টি থেকে কতেমোক ব্লুাংকোরটি ২১০১তম। কাকতালীয়ভাবে ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম গোলটিও হয়েছিল ফ্রান্স-মেক্সিকো ম্যাচে! সেবার মেক্সিকোর বিপক্ষে ৪-১ গোলে বিজয়ী ফ্রান্সের প্রথম গোলটি করেছিলেন লুসিয়েন লরেন্ত।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে গনজালো হিগুয়াইনের হ্যাটট্রিকটি বিশ্বকাপের ৪৮তম। তার আগে আরো ২ আর্জেন্টাইন এই কীর্তি গড়েছেন ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার আসরে। ১৯৩০-এ প্রথম আসরে গুইলার্মো স্তাবিলে আর ১৯৯৪ ও ১৯৯৮-এ হ্যাটট্রিক করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। দুটি করে হ্যাটট্রিক আছে মোট চার জনের। তবে দুটি আলাদা বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক আছে শুধু বাতিস্তুতারই।

* ফুটবলে ১০ নম্বর জার্সিটির অন্য রকম মর্যাদা। তবে বিস্ময়করভাবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর ১০ নম্বর জার্সি পরে কোনো আর্জেন্টাইন গোল করতে পারেননি! এক যুগ আগে জ্যামাইকার বিপক্ষে ৫-০ গোলে জেতা ম্যাচে ২ গোল করেছিলেন আর্জেন্টিনার সেবারের ‘নাম্বার টেন’ আরিয়েল ওর্তেগা।

* বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ৬টি আত্মঘাতী গোল হয়েছিল ১৯৯৮-এ। প্রতি আসরে আত্মঘাতী গোলের গড় ১ দশমিক ৯ কিন্তু এবার গ্রুপপর্বের অর্ধেক খেলা শেষ না হতেই পেরিয়ে গেছে এই গড়ের হার। কারণটি বোধ হয় জাবুলানি! ৩৭ বছর ১৫১ দিন বয়সে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করেছেন কতেমোক ব্লুাংকো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার তালিকায় তার অবস্থান এখন তৃতীয়।

* পরপর চারবার বিশ্বকাপ আসরের ফাইনাল (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৭০) খেলেছেন এমন খেলোয়াড় মাত্র ২ জন। এর মধ্যে একজন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে ও অন্য জন পশ্চিম জার্মানির ইউউই স্যালার। বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ‘রজার মিলার’ সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড়। তিনি ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ৪২ বছর বয়সে গোল করে রেকর্ড গড়েছেন।

* ১৯৩০ বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে দ্রুততম সময়ে হ্যাটট্রিক করে রেকর্ড গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বার্ট পাতেনাউদি’।

১৯৮৬ সালে ফুটবল মাঠে শার্ট খোলা নিষেধ করেছিল ফিফা যাতে দর্শকরা খেলোয়াড়দের খোলা বুক না দেখে। দেশ হিসেবে প্রতিটি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়েছে ব্রাজিল। চূড়ান্ত পর্বে ২০টিতে অংশ নিয়ে জয় পেয়েছে ৫টিতে এবং সবশেষ ২০১৪ সালেও চূড়ান্ত পর্বে খেলেছিলেন তারা।

আরও সংবাদ...'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj