ফিরে দেখা ২০ বিশ্বকাপ

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

১৯৩০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপের আসরে অনেক খেলোয়াড় খেলে গেছেন। নান্দনিক ফুটবল কারিশমায় ফুটবলপাগল দর্শকদের হৃদয়ে ঝড় তুলেছেন অনেকে। কেউ কেউ স্থায়ী বসত গড়েছেন সমর্থকদের হৃদয়ে। কেউ বা কালের গহŸরে হারিয়ে গেছেন। বিশ্বকাপে যারা নজর কেড়েছেন, আসরে যারা সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তারা কখনো হারিয়ে যাবেন না। হারিয়ে যেতে পারেন না। কারণ ইতিহাস রচয়িতারা হারিয়ে গেলেও ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। ইতিহাস তাদের পক্ষে কথা বলে। যতদিন ফুটবল থাকবে, এই বিশ্ব থাকবে, ততদিন সবার হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন তারা। ফিরে দেখা ২০ বিশ্বকাপের কথা জানাচ্ছেন তাসলিমা হক

প্রথম বিশ্বকাপ : উরুগুয়ে-১৯৩০

চ্যাম্পিয়ন : উরুগুয়ে

প্রথম বিশ্বকাপের আসর বসেছিল উরুগুয়ে। ১৩টি দল নিয়ে ৩টি ভেন্যুতে খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৩ দলের মধ্যে ৭টি ছিল দক্ষিণ আমেরিকার, ইউরোপের ছিল চারটি দেশ। অবশিষ্ট দুটি দল ছিল উত্তর আমেরিকার দল। প্রথম বিশ্বকাপের ১৮ ম্যাচে গোল হয়েছিল ৭০টি। এর মধ্যে ৮টি গোল করে আর্জেন্টিনার স্টাবিল সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হন। ফাইনালে স্বাগতিক উরুগুয়ে ৪-২ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বকাপ : ইতালি-১৯৩৪

চ্যাম্পিয়ন : ইতালি

১৯৩৪ সালের ২৭ মে থেকে ১০ জুন ইতালিতে বসেছিল দ্বিতীয় বিশ্বকাপের আসর। ১৬ দলের এ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৮টি ভেন্যুতে। ১ম সেমিফাইনালে ইতালি ১-০ গোলে অস্ট্রেলিয়াকে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে চেকোসøাভাকিয়া ৩-১ গোলে জার্মানিকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। ১০ জুন রোমে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ইতালি ২-১ গোলে চেকোসøাভাকিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। দ্বিতীয় আসরে ওল্ডরিচ নেজেডি ৫টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন।

তৃতীয় বিশ্বকাপ : ফ্রান্স-১৯৩৮

চ্যাম্পিয়ন : ইতালি

১৫টি দল নিয়ে ১৯৩৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় বিশ্বকাপ। ফেবারিট ইতালি প্রথম সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে হাঙ্গেরি ৫-১ গোলে সুইডেনকে হারায়। ফাইনালে ইতালি ৪-২ গোলে হাঙ্গেরিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নেয়। ফ্রান্সের দশটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বিশ্বকাপে গোল হয়েছে ৮৪টি। এর মধ্যে ৭টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন লিওনিডাস।

চতুর্থ বিশ্বকাপ : ব্রাজিল-১৯৫০

চ্যাম্পিয়ন : উরুগুয়ে

বিশ্বযুদ্ধের কারণে মাঝে দুটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৫০ সালে চতুর্থ বিশ্বকাপের আয়োজক হয় ব্রাজিল। এ বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৫টি দেশ। ব্রাজিলের ৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গোল হয়েছিল ৮৮টি। ফাইনালে উরুগুয়ে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয়। ব্রাজিলের এডিমির ৯ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

পঞ্চম বিশ্বকাপ : সুইজারল্যান্ড ১৯৫৪

চ্যাম্পিয়ন : পশ্চিম জার্মানি

১৯৫৪ সালের ১৬ জুন থেকে ৪ জুলাই সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম বিশ্বকাপ। ১৬ দলের এ বিশ্বকাপে ২৬ ম্যাচে গোল হয়েছে ১৪০টি। যা আগের বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানি ৩-২ গোলে হাঙ্গেরিকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ আস্বাদন করে। সান্ডোর ক্যাসিস ১১ গোল করে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। পঞ্চম আসরে তৃতীয় হয় অস্ট্রেলিয়া আর চতুর্থ স্থান লাভ করে হাঙ্গেরি।

ষষ্ঠ বিশ্বকাপ : সুইডেন-১৯৫৮

চ্যাম্পিয়ন : ব্রাজিল

১৯৫৮ সালে ষষ্ঠ বিশ্বকাপের আসর বসেছিল সুইডেনে। ১৬ দলের এ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে ব্রাজিল। পেলের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে একের পর এক ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠে ব্রাজিল। সেমিফাইনালে ব্রাজিল ৫-২ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারায়। ফাইনালে ব্রাজিল ৫-২ গোলে সুইডেনকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে ব্রাজিলের পক্ষে গোল করেন পেলে। ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন ১৩টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

সপ্তম বিশ্বকাপ : চিলি-১৯৬২

চ্যাম্পিয়ন : ব্রাজিল

আগের বিশ্বকাপের মতো চিলি বিশ্বকাপেও অংশ নেয় ১৬টি দেশ। চিলির ৪ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত সপ্তম বিশ্বকাপের ৩২ ম্যাচে গোল হয়েছে ৮৯টি। এর মধ্যে গারিঞ্চা, ভাভা, লিওনেল সানচিজ, জারকোভিচ, আলবার্ট, ইভানোভ প্রত্যেকে ৪টি করে গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হন। সেমিতে ব্রাজিল ৪-২ গোলে চিলিকে হারায়। ফাইনালে ৩-১ গোলে চেকোসøাভিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নেয় ব্রাজিল।

অষ্টম বিশ্বকাপ : ইংল্যান্ড-১৯৬৬

চ্যাম্পিয়ন : ইংল্যান্ড

১৯৬৬ সালের ১১ থেকে ৩০ জুলাই ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম বিশ্বকাপ। আগের বিশ্বকাপের মতো এ বিশ্বকাপেও দলের সংখ্যা ছিল ১৬টি। অষ্টম বিশ্বকাপের ৩২ ম্যাচে গোল হয়েছিল ৮৯টি। পর্তুগালের ইউসিওবি ৯ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হন। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ইংল্যান্ড ৪-২ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে নেয়। ৯৮ হাজার দর্শক ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করে। এ বিশ্বকাপে পর্তুগাল তৃতীয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন চতুর্থ স্থান লাভ করে।

নবম বিশ্বকাপ : মেক্সিকো-১৯৭০

চ্যাম্পিয়ন : ব্রাজিল

১৯৭০ সালে নবম বিশ্বকাপের আসর বসে মেক্সিকোতে। এ বিশ্বকাপেও যথারীতি দলের সংখ্যা ছিল ১৬টি। ৫টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত নবম বিশ্বকাপের ৩২ ম্যাচে গোল হয়েছে ৯৫টি। জার্মানির গার্ড মুলার ১০টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ফাইনালে ব্রাজিল ৪-১ গোলে ইতালিকে হারিয়ে তৃতীয় বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয়। তৃতীয়বার জেতায় বিশ্বকাপের আসল ট্রফি জুলেরিম নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় ব্রাজিল। ফাইনালের আগে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল পেরুকে ৪-২ গোলে এবং সেমিফাইনালে উরুগুয়েকে ৩-১ গোলে হারায়। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানি ১-০ গোলে উরুগুয়েকে হারায়।

দশম বিশ্বকাপ : ১৯৭৪

চ্যাম্পিয়ন : জার্মানি

বিশ্বকাপের দশম আসর বসেছিল পশ্চিম জার্মানির নয়টি শহরে। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল জুলেরিম ট্রফি চিরতরে নিয়ে নিলে ১৯৭৪ সাল থেকে প্রবর্তিত হয় ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ। জার্মান হল্যান্ডের দশম আসরের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে দর্শকরা ৩০ মার্কের টিকেট কালোবাজার থেকে পনেরশত মার্কে কিনে মাঠে বসে খেলা দেখেছে। টোটাল ফুটবলের উদ্ভাবক ক্রুয়েফের দেশ হল্যান্ড ফাইনালে প্রথম গোল করেও শেষ পর্যন্ত ১-২ গোলে জার্মানির কাছে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হয়। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় পোল্যান্ড ১-০ গোলে ব্রাজিলকে পরাস্ত করে। ব্রাজিল চতুর্থ হয়ে দেশে ফিরলে তাদের ললাটে জুটেছিল লাঞ্ছনা। পোল্যান্ডের লাটো ৭টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা মনোনীত হন।

একাদশ বিশ্বকাপ : ১৯৭৮

চ্যাম্পিয়ন : আর্জেন্টিনা

প্রথম বিশ্বকাপে ফাইনালিস্ট এবং ফুটবলের দেশ আর্জেন্টিনায় ১৯৭৮ সালে একাদশ বিশ্বকাপের আসর বসে। দুবছর আগে জেনারেল জর্জ ভিজেল্লা দেশটির কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৬টি দলকে চার গ্রুপে ভাগ করে খেলানো হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে নকআউটের স্থলে চার গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ অর্থাৎ শীর্ষস্থানীয় দুদলকে নিয়ে পরবর্তীতে লীগ পদ্ধতির খেলা। সবাইকে টেক্কা দিয়ে দুগ্রুপে শীর্ষস্থান লাভ করে আর্জেন্টিনা এবং হল্যান্ড। নিয়মানুযায়ী এই দুই দল ২৫ জুন বুয়েন্স আয়ার্সে প্রায় আশি হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়। ফাইনালে ৩৮ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনার কেম্পেস গোল করে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন। এক গোলের লিডকে ধরে রেখে ৯০ মিনিটের খেলা প্রায় শেষ হবার পথে এমনই সময়ে বদলি ডাচ স্ট্রাইকার নাননিঙ্গা গোল করে খেলায় ১-১ গোলে সমতা ফিরিয়ে আনেন।

অতিরিক্ত সময়ের খেলায় হল্যান্ড কিছুটা পরিশ্রান্ত হলে সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে কেম্পেস পুনরায় গোল করে দলকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন। খেলায় ফিরে আসার তাগিদে গতি বাড়িয়ে দেয় হল্যান্ড। পাল্টা আক্রমণ থেকে আর্জেন্টিনার বার্তেনি গোল করলে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। সমগ্র স্টেডিয়াম আনন্দে ফেটে পড়ে।

একাদশ বিশ্বকাপও ছুঁয়ে দেখতে পারলো না হল্যান্ড। আর্জেন্টিনার কেম্পেস ৬টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

দ্বাদশ বিশ্বকাপ : ১৯৮২

চ্যাম্পিয়ন : ইতালি

১৯৮২ সালে স্পেন ছিল ১২তম বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ। প্রথম রাউন্ডের তিনটি ম্যাচে কোনো রকমে ড্র করে ভাগ্যের জোরে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে ইতালি। ইতালি দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের রাস্তা নির্মাণ করে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে পাওলো রসির দেয়া ২ গোলের সুবাদে সেমিফাইনালে পোল্যান্ডকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে। ১১ জুলাই মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী খেলায় ইতালি ৩-১ গোলে জার্মানিকে পর্যুদস্ত করে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয়। ইতালির পক্ষে ফাইনালে গোল করেন পাওলো রসি, তাদেলি, আলতোবলি। জার্মানির পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন ব্রেইটনার। ইতালির পাওলো রসি ৬টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

ত্রয়োদশ বিশ্বকাপ : ১৯৮৬

চ্যাম্পিয়ন : আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের ১৩তম আসর বসেছিল মেক্সিকোতে । সেই বিশ্বকাপকে ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ বললেই যথার্থ হবে। যে ফুটবলারটি কোচের একগুঁয়েমির কারণে স্বদেশে অনুষ্ঠিত একাদশ বিশ্বকাপ (১৯৭৮ সালে) খেলতে পারেননি, ১৯৮২ সালের দ্বাদশ বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা, যে খাটো মানুষটির পূর্ণশক্তিতে জ্বলে উঠতে দেয়নি। সেই ম্যারাডোনাই ১৯৮৬ সালে দেখিয়ে দিলেন কাপ জয়ের জন্য একজন ফুটবলারই যথেষ্ট। ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা একের পর এক দলকে বিধ্বস্ত করে চললো। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হলো ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে ম্যারাডোনা সবচেয়ে বিতর্কিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ গোল করার দুটি নজির স্থাপন করলেন। প্রথম গোলটি তিনি ইংল্যান্ডের গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে উড়ন্ত বলে হাত লাগিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ছিলেন। ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘ওটি ছিল ঈশ্বরের হাত’। ৩০ জুন মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জার্মানিকে পরাস্ত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে। ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার ৬ গোল করে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

চতুর্দশ বিশ্বকাপ : ১৯৯০

চ্যাম্পিয়ন : জার্মানি

১৯৯০ সালের ১৪তম বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ইতালি। এর আগে ১৯৩৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বকাপের আয়োজন করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি। ১৪তম আসরের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইতালি গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে ৩-৪ গোলে পরাজিত হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ লাভ দৌড় থেকে ছিটকে পড়ে। ইতালি আসরে আফ্রিকার ক্যামেরুন অঘটন ঘটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পৌঁছেছিল। প্রথম সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে ইতালিকে পরাস্ত করে ফাইনালে ওঠে। অপর সেমিফাইনালের নিষ্পত্তিও হয় টাইব্রেকারে। জার্মানি ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে খেলার সুযোগ পায়। ফাইনালে রেফারি বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে ১-০ গোলে জয়ী হয় জার্মানি। জার্মানির পক্ষে ব্রেহমে গোল করেন। ১৪তম আসরে ইতালির শিলাচি ৬টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার লাভ করেন।

পঞ্চদশ বিশ্বকাপ : ১৯৯৪

চ্যাম্পিয়ন : ব্রাজিল

বিশ্বকাপের পঞ্চদশ আসরের আয়োজক ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই আসরের চাঞ্চল্যকর ঘটনা হলো ম্যারাডোনার বহিষ্কার। নিষিদ্ধ মাদক সেবনের দায়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত আসর থেকে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের বিদায় ফুটবল অনুরাগীদেরকে হতবাক করে দেয়। প্রথম রাউন্ডে গ্রিস এবং নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে খেলার পর তৃতীয় ম্যাচে বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ম্যারাডোনার মূত্রে নিষিদ্ধ ড্রাগ এফড্রিনের অস্তিত্ব ধরা পড়লে তাকে আসর থেকে বহিষ্কার করা হয়। প্রথম সেমিফাইনালে ইতালি ২-১ গোলে বুলগেরিয়াকে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ব্রাজিল ১-০ গোলে সুইডেনকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। দুযুগ পর ল্যাটিন আমেরিকার ব্রাজিল ফাইনালে উঠেই চমক দেখিয়ে জিতে নেয় বিশ্বকাপ। পেলের দেশ ব্রাজিলকে চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়নশিপের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৪ বছর। ফাইনালে ব্রাজিল ইতালিকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে কাপ জিতে নেয়। পঞ্চদশ আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন দুজন। রাশিয়ার ওলেগ সালিঙ্কো এবং বুলগেরিয়ার স্টয়চকভ উভয়ে ৬টি করে গোল করেন।

ষষ্ঠদশ বিশ্বকাপ : ১৯৯৮

চ্যাম্পিয়ন : ফ্রান্স

বিশ্বকাপের ষষ্ঠদশ আসরের স্বাগতিক দেশ ছিল ফ্রান্স। দেশ্যামের নেতৃত্বে দুর্দান্ত ফ্রান্স প্রথম রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩-০ গোলে, সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে ও ডেনমার্ককে ২-১ গোলে পরাস্ত করে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে। দ্বিতীয় রাউন্ডে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালির সঙ্গে সাক্ষাতে টাইব্রেকারে ৩ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে ৩-৪ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে ফ্রান্স। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ফ্রান্স। প্রথম সেমিফাইনালে ১৯৯৪-র চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল হল্যান্ডকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে পর্যুদস্ত করে ফাইনালে ওঠে। প্রথমবার ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স চারবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জিতে নেয় শতাব্দীর শেষ বিশ্বকাপ। ফাইনালে ফ্রান্সের পক্ষে জিনেদিন জিদান ২টি এবং ইমানুয়েল পেটিক্টের ১টি গোল করেন।

সপ্তদশ বিশ্বকাপ : ২০০২

চ্যাম্পিয়ন : ব্রাজিল

সপ্তদশ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল এশিয়ার দেশ জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া। এর আগে কোথাও বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ছিল না। এশিয়া বিশ্বকাপে তুরস্ক চমক দেখিয়ে তৃতীয় স্থান লাভে সক্ষম হয়। স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে কোরিয়া। সেমিফাইনালে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ হারায়। ফাইনালে ব্রাজিল জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় । রোনাল্ডো ৮টি গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

অষ্টাদশ বিশ্বকাপ : জার্মানি ২০০৬

চ্যাম্পিয়ন : ইতালি

২০০৬ সালে অষ্টাদশ বিশ্বকাপের আসর বসেছিল জার্মানিতে। ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইতালি এবং ফ্রান্স। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা। টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে ইতালি চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয়। ইতালি-ফ্রান্স ফাইনাল ম্যাচে ফরাসি অধিনায়ক জিদান ইতালির ডিফেন্ডার মাতরাজ্জিকে মাথা দিয়ে গোত্তা মেরে ফেলে দিলে রেফারি তাকে লালকার্ড দেখিয়ে বহিষ্কার করলে দশজনের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স। ২০০৬ বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন জিনেদিন জিদান।

উনিশতম বিশ্বকাপ : দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০

চ্যাম্পিয়ন : স্পেন

২০১০ সালে বিশ্বকাপের আসর বসে দক্ষিণ আফ্রিকায়। ফাইনালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ও ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেন তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে আসা নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল করে স্পেনের শিরোপা নিশ্চিত করেন। সেই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন।

বিশতম বিশ্বকাপ : ব্রাজিল ২০১৪

চ্যাম্পিয়ন : জার্মানি

২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ২০তম আসর বসে ব্রাজিলে। এর আগে ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপের আয়োজক হয়েছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। ৩২ দলের অংশগ্রহণে এ বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুলে জার্মানি। দলের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন ম্যারিও গোটেজ। সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারায় জার্মানি। অপর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে হল্যান্ডকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হল্যান্ড ৩-০ গোলে ব্রাজিলকে হারায়। ৬ গোল করে কলম্বিয়ার হামেস রুদ্রিগেজ সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হয়।

আরও সংবাদ...'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj