বিশ্বকাপে অনাকাক্সিক্ষত ৫ ঘটনা

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

ঈশ্বরের হাত

(আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড, ১৯৮৬)

১৯৮৬ সালের ম্যাক্সিকো বিশ্বকাপকে বলা হয় ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ। এ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে উড়ে আসা একটি বল চেজ করেন ব্রিটিশ গোলকিপার পিটার শিলটন আর ম্যারাডোনা। শিলটন ৮ ইঞ্চি বেশি লম্বা হওয়ার পরও উড়ে আসা বলটি ঠেকাতে ব্যর্থ হন এবং ম্যারাডোনা গোল করেন। ম্যাচ চলাকালে বলা হয়, গোলটি হেড থেকে এসেছে। ওই ম্যাচটি ২-১ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা ও ফাইনালে ৩-২ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে জিতে নেয় বিশ্বকাপ। পরে ওই গোলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে ম্যারাডোনা বলেন, অল্প একটু আমার মাথা আর অল্প একটু ঈশ্বরের হাত! অবশ্য ম্যাচের স্থিরচিত্র, ভিডিও- সব কিছুতেই পরিষ্কার দেখা যায় মাথা নয়, হাত দিয়েই গোলটি করেছেন ম্যারাডোনা। গোলটি পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ব্যাপক পরিচিত হয়। তা বিশ্বকাপের ইতিহাসেরই সবচেয়ে আলোচিত গোলগুলোর একটি।

বিতর্কিত রেফারিং

(দক্ষিণ কোরিয়া-ইতালি, ২০০২)

২০০২ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়া ছিল ওই আসরের অন্যতম চমক। সেমিফাইনাল খেলেছিল তারা। কিন্তু তাদের এই স্বপ্নযাত্রাকে কলঙ্কিত করেছে বিতর্কিত রেফারিং। শেষ ষোলোর ম্যাচে পিছিয়ে থাকা ইতালির অতিরিক্ত সময়ের একটি পরিষ্কার গোল ইকুয়েডরের রেফারি বাইরন মোরেনো বাতিল করে দেন অফসাইড বলে এবং ফ্রান্সিসকো টট্টিকে লাল কার্ড দেখান ড্রাইভ দেয়ার অপরাধে। এতে দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ গোলে ম্যাচটি জেতে আন জুং-হোয়ানের গোল্ডেন গোলে। কোয়ার্টার ফাইনালেও মিসরীয় রেফারি গামাল আল-গান্দোর স্পেনের দুটি পরিষ্কার গোল বাতিল করে দেন ও তার সহকারী লাইনসম্যান একটির পর একটি স্প্যানিশ অ্যাটাক বাতিল করেন অফসাইড বলে। পেনাল্টি শুট-আউটে ৫-৩ গোলে জিতে দক্ষিণ কোরিয়া সেমিফাইনালে যায়। অবশ্য জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়। বিশ্বকাপ শেষে মোরেনোকে অভিযুক্ত করা হয় ম্যাচ ফিঙি এবং গান্দোরকে কোরিয়া থেকে একটি নতুন গাড়ি পাওয়ার জন্য। ফিফা ওই ২ রেফারিকে বাধ্য করে অবসর নিতে।

জিদানের ‘ঢুঁস’

(ফ্রান্স-ইতালি, ২০০৬)

একবিংশ শতকে হওয়া বিশ্বকাপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্ম দেয় ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ‘ফ্রেঞ্জ রূপকথা’র জনক জিনেদিন জিদান প্রায় একক প্রচেষ্টায় ফ্রান্সকে ফাইনালে আনেন এই বিশ্বকাপে। সর্বকালের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডার ফাইনালেও খেলছিলেন দারুণ- পেনাল্টি থেকে অসাধারণ একটি গোল করেন জিয়ানলুইজি বুফনকে বোকা বানিয়ে। কিন্তু ম্যাচের ১১০তম মিনিটে অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলাকালে মাতোরাজ্জিকে ‘ঢুঁস’ দিয়ে লাল কার্ড পেয়ে বেরিয়ে যান মাঠ থেকে। শেষ ১০ মিনিট ফ্রান্সকে খেলতে হয় ১০ জন নিয়ে। এরপর পেনাল্টি শুট-আউটে জিদানবিহীন ফ্রান্সের বিপক্ষে ইতালি জেতে ৫-৩ গোলে। পরবর্তী সময় মাতোরাজ্জি এক টিভি ইন্টারভিউয়ে স্বীকার করেন, জিদানকে রাগাতে তিনি তার মা ও বোনকে গালি দিয়েছিলেন। এর ফল ছিল ওই ‘ঢুঁস’।

৪ লাল ও ১৬ হলুদ কার্ড

(নেদারল্যান্ডস-পর্তুগাল, ২০০৬)

২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে নুরেমবার্গে ‘রাউন্ড অব সিক্সটিন’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয় পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডস। এই ম্যাচে রেফারি ৪টি লাল কার্ড ও ১৬টি হলুদ কার্ড দেখান। এটি ফিফা আয়োজিত যে কোনো টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। খেলার দ্বিতীয় মিনিটে নেদারল্যান্ডসের মার্কো ফন বাস্তেন হলুদ কার্ড দেখেন। পর্তুগালের উইঙ্গার লুইস ফিগো একটি ঢুঁস দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন। এটি স্বাভাবিকভাবেই লাল কার্ড ছিল। এরপর পুরো ম্যাচেই রেফারি খেলার চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন কার্ড দেখাতে। পর্তুগাল ম্যাচটি জেতে ১-০ গোলে।

সুয়ারেজের কামড়

(উরুগুয়ে-ইতালি, ২০১৪)

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ‘যে হারবে, সেই বাদ’ এমন সমীকরণ নিয়ে মুখোমুখি হয় ইতালি আর উরুগুয়ে। ম্যাচের ৭৯ মিনিটের সময় সুয়ারেজ কিয়েলিনির ঘাড়ে কামড় দেন যদিও এটি ম্যাচ চলাকালে রেফারির চোখ এড়িয়ে যায় এবং তিনি নিশ্চিত লাল কার্ডের হাত থেকে বেঁচে যান। কিন্তু ম্যাচ শেষে তদন্তে এটি সত্য প্রমাণিত হয় এবং সুয়ারেজকে ৯ ম্যাচ ও ৪ মাসের জন্য যে কোনো ধরনের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করে ফিফা, সঙ্গে ৬৫,৮০০ পাউন্ড জরিমানাও করা হয়। শাস্তির কারণে সুয়ারেজ দেশে ফিরে যান। দেশে ফেরার পর বিক্ষোভের পরিবর্তে উল্টো তাকে বীরের সম্মান দেয়া হয়, লাখ লাখ মানুষ এয়ারপোর্টে আসেন। উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ডিয়াগো ম্যারাডোনা, উরুগুয়ে দলের কোচসহ অনেকেই ছিলেন সুয়ারেজের পাশে।

-শাজিয়া তাইয়্যেবা

আরও সংবাদ...'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj