বিশ^কাপের নায়ক-খলনায়ক

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশে^র সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল বিশ^কাপের ২১তম আসর। হাতে মাত্র আর কয়েক দিন বাকি রয়েছে, এর পরই জল্পনা-কল্পনার মধ্য দিয়ে রাশিয়া বিশ^কাপের পর্দা উঠবে। আসর শেষে খুঁজে পাওয়া যাবে নিজের দেশকে চ্যাম্পিয়ন করা নায়ককে। নায়কের পাশাপাশি ২১তম আসরের খলনায়ককেও আমরা দেখতে পাব। অতীতের ২০টি আসরেও নায়ক এবং খলনায়কদের নজির এখনো স্পষ্ট।

১৯৩০ সালের বিশ^কাপ : ১৯৩০ সালের বিশ^কাপে উরুগুয়ে শিরোপা জিতলেও আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি গোলের্মো স্ট্যাবিল সর্বোচ্চ ৮টি গোল করে সেবারের বিশ^কাপের নায়ক ছিলেন। ফিফা বিশ^কাপের প্রথম আসরে একমাত্র লাল কার্ড পেয়ে পেরুর মিডফিল্ডার প্লাসিডো গ্যালিনডো ভিলেনে পরিণত হন।

১৯৩৪ সালের বিশ^কাপ : সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে হাঙ্গেরিকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ায় ১৯৩৪ সালের বিশ^কাপের নায়ক ছিলেন ওলড্রিচ নিজেডলি। সেবার সর্বোচ্চ ৫টি গোল করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় আসরে একমাত্র লাল কার্ড পেয়ে সেবার খলনায়ক হন হাঙ্গেরির এমরে মার্কোস।

১৯৩৮ সালের বিশ^কাপ : সর্বোচ্চ ৭টি গোল করে ১৯৩৮ সালের বিশ^কাপের নায়ক হয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার লিওনিদাস। সেবার একটি হ্যাটট্রিক করতে সক্ষম হন তিনি। ব্রাজিলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ৮৯ মিনিটের খেলায় ফাউল করার পর বাকদণ্ডে লিপ্ত হওয়ায় লাল কার্ড দেখেন চেকো¯øাভিকিয়ার জান রিহা।

১৯৫০ সালের বিশ^কাপ : সর্বোচ্চ ৪টি গোল করে ১৯৫০ সালের বিশ^কাপের নায়ক হয়েছিলেন ব্রাজিলের আদেমির। সেবার একটি হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার মোয়াসির বারবোসার ছোট্ট ভুলে প্রথম শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয়।

১৯৫৪ সালের বিশ^কাপ : ১৯৫৪ সালের বিশ^কাপে সর্বোচ্চ ১১টি গোল করে সেবারের নায়ক হয়েছিলেন হাঙ্গেরির সোন্ডার কোরসিস। সেবার তিনি দুটি হ্যাটট্রিক করতে সক্ষম হয়েছিলেন। হাঙ্গেরির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ৭৯ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড হুম্বার্তো তোজ্জি।

১৯৫৮ সালের বিশ^কাপ : ১৯৫৮ সালের বিশ^কাপে সর্বোচ্চ ১৩টি গোল করে ফুটবল বিশে^ এখনো আলোচিত হয়ে আসছেন ফ্রান্সের জাস্ট ফনটেইন। সেবার তিনি দুটি হ্যাটট্রিক করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সুইডেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ইরিচ জুসকোউইক লাল কার্ড পান। সেবার তিনি খলনায়ক ছিলেন।

১৯৬২ সালের বিশ^কাপ : পুরো আসরে ৪টি গোল করে ১৯৬২ সালের বিশ^কাপে নায়ক ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ভাভা। তার অসাধারণ কৃতিত্বে ব্রাজিল টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিততে সক্ষম হয়। সেবার সেমিফাইনালে চিলির বিপক্ষে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি গারিঞ্চা লাল কার্ড পেয়ে ভিলেনে পরিণত হন।

১৯৬৬ সালের বিশ^কাপ : ১৯৬৬ সালের বিশ^কাপে একটি হ্যাটট্রিক এবং সর্বোচ্চ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন পর্তুগালের ইউসাবিও। তার নেতৃত্বে পর্তুগিজরা সেবার তৃতীয় স্থান লাভ করে। বিশ^কাপের অষ্টম আসরে খলনায়ক ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্রিসলেনকো।

১৯৭০ সালের বিশ^কাপ : শিরোপা জিততে না পারলেও ১৯৭০ সালের বিশ^কাপে দুটি হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০টি গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন জার্মানির গার্ড মুলার। ইতালির গোলকিপার এনরিকো আলবার্টোসি পুরো বিশ^কাপে ভালো করলেও ফাইনালে বাজে গোলকিপিং করার ফলে ফাইনালে ৪-১ গোলে হারে।

১৯৭৪ সালের বিশ^কাপ : বিশ^কাপের শিরোপা জিততে না পারলেও ১৯৭৪ সালের আসরে সর্বোচ্চ ৭টি গোল করেন পোল্যান্ডকে তৃতীয় স্থানের মর্যাদা এনে দিয়ে নায়ক হয়েছিলেন গ্রেজিগোর্জ ল্যাটো। দ্বিতীয় রাউন্ডে লাল কার্ড পাওয়া ব্রাজিলিয়ান সাবেক ফুটবলার লুইস পেরেইরা সেবারের খলনায়ক ছিলেন।

১৯৭৮ সালের বিশ^কাপ : ১৯৭৮ সালের বিশ^কাপে সর্বোচ্চ ৬টি গোল দিয়ে গোল্ডেন বুট লাভের মাধ্যমে সেবারের আসরের হিরো হয়েছিলেন আর্জেন্টিনার মারিও ক্যাম্পেস। ফাইনালে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি গোল করেন তিনি। নেদারল্যান্ডের ডিক নেনিনগা পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে খলনায়কে পরিণত হন।

১৯৮২ সালের বিশ^কাপ : গোল্ডেন বুট এবং গোল্ডেন বল দুটি পুরস্কার পেয়ে ১৯৮২ সালের বিশ^কাপের নায়ক ছিলেন চ্যাম্পিয়ন ইতালির ফরোয়ার্ড পাওলো রসি। ১৯৭৮ সালের বিশ^কাপ জয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা ৮২ আসরের খলনায়ক ছিলেন।

১৯৮৬ সালের বিশ^কাপ : কোয়ার্টার ফাইনালে দুটি এবং সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুটি গোল করে বিশ^কাপের সেবারের আসরে নায়ক হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। সেবার কথিত ঈশ^রের হাত দিয়ে তিনি গোল করেন। কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে মেক্সিকোর ফুটবলারকে ফাউল করে লাল কার্ড পেয়ে খলনায়ক হন জার্মানির থমাস বার্থোল্ড।

১৯৯০ সালের বিশ^কাপ : ১৯৯০ সালের বিশ^কাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পেনাল্টিতে জয়সূচক গোলটি করে সেবারের নায়ক হন জার্মানির আন্দ্রেস ব্রাহ্মে। সেবারের বিশ^কাপে খলনায়ক ছিলেন নেদারল্যান্ডের ডিফেন্ডার ফ্রাঙ্ক রিজকার্ড। জার্মানির বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় ফাউল করার পাশাপাশি বাজে ব্যবহারের জন্য লাল কার্ড দেখেন।

১৯৯৪ সালের বিশ^কাপ : ১৯৯৪ বিশ^কাপে দলকে গ্রুপ পর্ব থেকে করতে না পারলেও পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৬টি গোল করে সেবারের নায়ক হন রাশিয়ার ওলেগ সালেনকো। তিনি গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচেই ৫টি গোল করেছিলেন। প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারকে অপ্রত্যাশিতভাবে ফাউল করার ফলে লাল কার্ড পায় সুইডেনের অধিনায়ক জোনাস থের্ন। সেই সঙ্গে খলনায়কে পরিণত হয়।

১৯৯৮ সালের বিশ^কাপ : সেবার ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হলেও ১৯৯৮ সালের বিশ^কাপে নায়ক ছিলেন ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড দেভর সুকের।

সর্বোচ্চ ৬টি গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে তৃতীয় স্থান এনে দেন তিনি। ফ্রান্স-ব্রাজিল মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচে ৪৮ এবং ৬৮ মিনিটে হলুদ কার্ড খেয়ে লাল কার্ড দেখেন ফ্রান্সের মার্শেল দেশাইলি।

২০০২ সালের বিশ^কাপ : ২০০২ সালে জার্মানির বিপক্ষে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রোনাল্ডোর জোড়া গোলে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। সর্বোচ্চ ৮টি গোল করে সেবার বিশ^কাপের নায়ক হন। স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক মিডফিল্ডার পার্ক জি সাং-কে ফাউল করায় লাল কার্ড পেয়ে সেবারের বিশ^কাপের খলনায়ক হন পর্তুগালের সাবেক ফরোয়ার্ড জোয়া পিন্টো।

২০০৬ সালের বিশ^কাপ : ফ্যাবিও গ্রোসোর গোলে স্বাগতিক জার্মানিকে সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হারায় ইতালি। ফাইনালে পেনাল্টিতে জয়সূচক গোল করে সেবারের বিশ^কাপে নায়ক হন তিনি।

ফাইনাল ম্যাচে প্রতিপক্ষ ইতালির মার্কো মাতারাজ্জিকে মাথা দিয়ে গুতো দিয়ে লাল কার্ড পান ফ্রান্সের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। এ ঘটনার কারণে সেবারের খলনায়কে পরিণত হন জিদান।

২০১০ সালের বিশ^কাপ : নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে জয়সূচক গোলটি করে স্পেনকে প্রথম শিরোপার স্বাদ এনে দিয়ে সেবার নায়ক ছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। উরুগুয়ে-ঘানার মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে শেষ মিনিটে খেলায় নিজেদের জালে বল জড়ানোর আগে হ্যান্ডবল করে ফুটবলের সৌন্দর্যে ব্যাঘাত ঘটান উরুগুয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। বিশ্লেষকরা তাকে খলনায়ক বলেন। কিন্তু ম্যাচে জয় পাওয়ার উরুগুয়ে তাকে সাদরে গ্রহণ করে।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ : বিশ^কাপের বিংশতম আসরের ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন নায়ক রুপে আবির্ভাব হয়েছিলেন জার্মানির মারিও গোটজে। এদিকে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি নেইমারকে আকস্মিক ফাউল করলে সেবারের ভিলেনে পরিণত হন কলম্বিয়ার জুয়ান জুনিগা।

-মুকুল মুর্শেদ

আরও সংবাদ...'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj