হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সেমিনার : বিএনপির অভিযোগে খুলনা সিটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না

রবিবার, ৩ জুন ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভিত্তিহীন অভিযোগে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। কিছু সংগঠন আছে যাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি নেই, তারা বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন : খুলনা থেকে গাজীপুর’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। একই সঙ্গে নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হবে এবং নির্বাচন ঘিরে সরকারের কোনো নীতিমালা না থাকার বিষয়টিও সেমিনারে তুলে ধরেন তারা।

বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মিজানুর রহমান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী, অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মিসবাহ কামাল।

সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সাংস্কৃতিক জোটের প্রেসিডেন্ট গোলাম কুদ্দুস, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দোপাধ্যায়সহ আরো অনেকে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সেমিনারে ওয়ালিউর রহমান তার বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে অবাধ সুষ্ঠু। সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কিন্তু কিছু সংগঠন আছে যাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি নেই, তারা প্রায় বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করার নামে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগগুলোর যুক্তি খণ্ডন করেন।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের কেন্দ্রে দেখতে না পাওয়ার কারণ ছিল তাদের দলের প্রতি প্রতিশ্রæতিবদ্ধ না থাকা। বিএনপির যে কোনো কর্মসূচিতে জনশূন্যতাই এটা প্রমাণ করে। এ ছাড়া বিএনপি যেসব কেন্দ্রের ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে এর বাইরে অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে যদি তাদের বক্তব্যানুসারে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়- সেখানে তো বিজয়ী হতে পারত। কিন্তু এমনটিও ঘটেনি। সুতরাং, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। এ ছাড়াও তিনি নির্বাচন কমিশনের শক্তিশালী কাঠামো এবং নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রশংসা করেন। ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রের ৪০০ গজের বাহিরে থেকে কোনো সংগঠন যদি কোনো মন্তব্য করে তা অসম্পূর্ণ। এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে বৈপরীত্য, ধূ¤্রজাল সৃষ্টি এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ক্ষেত্র তৈরি করে। সুতরাং, এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে ভূমিকা পালন করতে হবে।

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হবে তার কোনো নীতিমালা নেই। সামগ্রিক চিত্র না তুলে ধরে সারাদিন শুধু দুএকটি কেন্দ্রের অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ করতে থাকলে তা মানুষের মনস্তত্বে প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, খুলনায় ভালো প্রার্থিতা, দলীয় ঐক্যবদ্ধতা এবং জাতীয় উন্নয়নের ফলে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে।

আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, যে কোনো নির্বাচনে ভোটাররা প্রার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং যে দলের পক্ষে প্রার্থী নির্বাচন করছে, সে দলের পক্ষে জনমতের অবস্থান মূল্যায়ন করে। খুলনায় যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে তারাই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। আমাদের এই অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

সেমিনারে রোকেয়া কবির বলেন, কিছু দল ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রতিহত করতে চায়। নির্বাচন কমিশনকে এ ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে হবে। গোলাম কুদ্দুস বলেন, শেখ হাসিনা যেসব উন্নয়ন করছেন তার প্রভাব খুলনা সিটি করপোরেশনে পড়েছে। সেমিনারের অন্য বক্তারাও নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj