উৎসবেও কালো রঙে!

রবিবার, ২৭ মে ২০১৮

** ইমন নাজমুল **

পোশাকে রঙিন হয়ে ওঠে বাঙালির উৎসব। তবে, তাতে চাই নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য। ডিজাইনাররাও থেমে নেই। প্রতিনিয়ত চলছে নিরীক্ষা। শুধু শোকের পোশাক কালো হবে এমনটা নয়, ঈদ বা উৎসবের পোশাকও হতে পারে কালো। ডিজাইনারদের মুন্সিয়ানাতে কালো পোশাকও মাঝে মাঝে উজ্জ্বল হয়ে উঠে। আর তাই এবার ঈদের নতুন ট্রেন্ড হতেই পারে কালো রঙের পোশাক। পুরুষ-নারী এমনকি শিশুদের পোশাকের তালিকায় রঙটি এবার বেশ চোখে পড়বে। কী রঙের পোশাক পড়ছেন তা পুরোটাই নির্ভর করবে আপনি যা চাইবেন।

মুঠোফোনের পর্দায় জানা যায়, ফ্যাশন নিয়ে এখন কী নিরীক্ষা চলছে বা নতুন কী আসছে এবারের উৎসবে। বয়স আর রুচির সঙ্গে মিলিয়ে ফ্যাশনের নানা দিক খোঁজার চেষ্টা। তবে, বয়সভেদে ট্রেন্ড সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল।

প্রকৃত ফ্যাশন হলো সেটি, যার প্রতিটি ধাপে আর্ট থাকে। আর্ট বা শিল্প এমন একটি বিষয়, যা চিন্তাভাবনা পাল্টে দেয়, নতুনত্ব আনতেও সহায়তা করে। তাই বলা যায়, উৎসবের আড়ালে চারদিকে মানুষ ট্রেন্ডি ফ্যাশনে ঝুঁকে আছে।

ফ্যাশন সিজনাল। সামার, উইন্টার, স্প্রিং-আরও কত কিছু। সেক্ষেত্রে বলতে পারি, ফ্যাশনের ধাপ ঋতুর সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করি, ৯০ দশকের ফ্যাশন খানিকটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান ফ্যাশন জগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এখনকার কাট পাট্যার্ন নিয়ে ডিজাইনারদের নিরীক্ষা বেশি।

বর্তমানে কিছু ফ্যাশন তরুণদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছে। যেমন সাদা-লাল বা কালো। এটাকে মিনিমাল ফ্যাশন ট্রেন্ডও বলা যেতে পারে। যারা শাড়ি ছাড়াও ফিউশন কামিজ, কুর্তা বা বটম পছন্দ করেন কিংবা চাকচিক্য পাঞ্জাবিতে অভ্যস্ত নয় তাদের জন্য ফ্যাশনে এবার থাকছে সিম্পল প্যাটার্ন ও ¯িøমফিট কাট।

দিনে বা উৎসবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে গেছে পোশাকের ঢং বা রং। আর্বিভাব ঘটেছে নিত্য-নতুন ফ্যাশনের। টেলারিং জামা-কাপড়ের পরিবর্তে বাজারে এসেছে হরেক রকমের রেডিমেড ব্র্যান্ড। নতুনের আগমনে অস্তিত্ব বাঁচাতে বেসিক ইনস্টিংক্ট বজায় রেখে পালটে গেছে ফ্যাশনের স্টাইল। যার জেরেই পরিবর্তন, বৈচিত্র্য সর্বত্র।

হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন ফ্যাশনে ‘পরিবর্তন’ এসেছে ডিজাইনারদের মুন্সিয়ানাতেই। তবে, কিছু কিছু উৎসবের পোশাকে দেখা যায় বিশেষ রঙের উপস্থিতি। যেমন পহেলা ফাল্গুনে সবার পরনে দেখা যায় হলুদ ও বাসন্তী রঙের পোশাক। একুশে ফেব্রুয়ারির পোশাকে ব্যবহৃত হয় সাদা-কালো রং। বৈশাখের পোশাক মানেই যেন সাদা-লাল রঙের খেলা। কিন্তু কেমন হয় যদি এবার ঈদের পোশাকটিই হয় এ রঙকে কেন্দ্র করে। সাথে থাকতে পারে ধূসর, লাল বা সাদার নানা শেডও!

তাই কেউ যদি নিজেকে আলাদা লুকে প্রকাশ করতে চায়, তবে এবারের ঈদে কালো রঙের পোশাক তাকে দিবে ভিন্নতা। পুরুষদের পাঞ্জাবি কিংবা ফরমাল ড্রেস শার্ট-প্যান্টের পাশাপাশি ম্যান্ডারিন ভেস্ট থাকতে পারে তালিকায়। ঠিক নারীদের ক্ষেত্রেও একই। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, লং কুর্তা কিংবা পাশ্চাত্য কাটের পোশাকে কালার কোড হতে পারে কালো। শিশুদের বেলাতেও বাদ যাবে না। আবার কেউ ইচ্ছা করলে গোটা পরিবারের ঈদের কালার কোড কালো রাখতে পারেন। এমনিতেও জুতো কিন্তু বেশিভাগ মানুষের কালো রঙেরই পছন্দ। এক্ষেত্রে কালো এগিয়ে। হাতঘড়ি ফিতা, কোমরের বেল্টের রঙে কালোর সংখ্যাই যেন বেশি। তাই একটু গুছিয়ে ঈদে ট্রেন্ডে ভিন্নতা আনতে চাইলে কালোকে যে কেউ বেছে নিতে পারে।

অনেকেই হয়তো বলবেন, ঈদে আবার কালো রং কেন? উৎসবে চাই উজ্জ্বল পোশাক। কিন্তু ব্যাপারটা অতীতের মতো নেই, পরিবর্তন হচ্ছে সব সময়। ঈদের দিন বা তারপর দিন সন্ধ্যার পর কোনো জমকালো অনুষ্ঠান থাকলে আপনি কিন্তু মনে মনে কালো রঙের পোশাকটিকেই আগে প্রাধাণ্য দিবেন। হয়তো অনেকে করবেন না। কিন্তু অনেকেই ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে রাখবে কালো রঙের পোশাক। তাই যদি সে রকমটাই হয় তবে ঈদ শপিং থেকে শুরু করে ঈদের ট্রেন্ড হিসাবে কালোকে প্রকাশ করা যেতেই পারে।

এবার আসি মানানসই ব্যাপারটিতে। কালো রং প্রায় নারী-পুরুষ সবার গায়েই উজ্জ্বল হয়ে উঠে। যারা ফর্সা তাদের জন্য অবশ্যই মানানসই পোশাকের রং আবার যারা শ্যামা কিংবা কালো তাদের জন্য কালো রং ভালো লাগার মতো একটি বিষয়। কালোকে সার্বজনীন

না বলে কিন্তু সবার্ধিক ভালো লাগার মতো একটি রং হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে। অঞ্জন’স এর শীর্ষ নির্বাহী শাহীন আহম্মেদ জানান, কালোর মধ্যে অভিজাত ব্যাপার রয়েছে। তাই উৎসবেও কালো রঙে নিজেকে ভিন্নভাবে প্রকাশ করা যেতেই পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে এধরণের রঙে মানাচ্ছে কিনা। পাশাপাশি কালো সাথে এখন ধূসর বা লাল সাদার সংমিশ্রন আলাদা দূত্যি ছড়াবে।

আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ঈদের আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, কালো রঙের পোশাক বেছে নেয়া যেতে পারে। ট্রেন্ড নিয়ে যখন সবারই মাতামাতি তখন একটু আলাদা হতে তো দোষের কিছু নেই। কারণ আলাদা বিষয়টি সব সময় আলাদা!

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj