আইসিসির ভাবনাজুড়ে টি-টোয়েন্টি

মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮

এস এম সায়েম :: ওয়ানডে এবং টেস্টের চেয়ে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণ টি-টোয়েন্টির প্রতি বেশি জোর দিচ্ছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। গত সপ্তাহে ভারতের কলকাতায় অনুষ্ঠিত হওয়া আইসিসির কার্যনির্বাহী সভায় যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে তাতে মিলেছে এমনই ইঙ্গিত। ২০২১ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ওই বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। অন্যদিকে ক্রিকেটের বিশ^ায়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে ১০৪টি দেশকে টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস দিয়েছে সংস্থাটি।

গত বৃহস্পতিবার ভারতের কলকাতায় আইসিসির কার্যনির্বাহী সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে যে কোনো ক্রিকেট খেলুড়ে দেশই এখন থেকে নিজেদের মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে পারবে। এতদিন ধরে ১২টি পূর্ণ সদস্য দেশ ছাড়া আর কেবল স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, হংকং, আরব আমিরাত, ওমান এবং নেপালের টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস ছিল। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বিশে^র সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস কার্যকর হবে। পাশাপাশি বিশে^র সব দেশকে টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস দিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দিকে নজরদারি বাড়াবে আইসিসি।

অন্যদিকে কলকাতায় অনুষ্ঠিত আইসিসির কার্যনির্বাহী সভায় ২০২১ সালে পূর্বনির্ধারিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে জানা যে ক্রিকেট বিশ^কাপের পর আইসিসির সবচেয়ে বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। গত বছর আয়োজিত হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ টুর্নামেন্ট। তখনই গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল যে ভবিষ্যতে আর কখনো আইসিসি চ্যাম্পিন্স ট্রফি আয়োজিত হবে না। অবশেষে গুঞ্জনই সত্যি হলো। এটিই ছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বশেষ আসর। কারণ ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইসিসির ফিউচার ট্যুরস প্রোগামে (এফটিপি) এই টুর্নামেন্টটি কথা উল্লেখ নেই।

চার বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরবর্তী আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বদলে সে সময় টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। গত সপ্তাহে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হওয়া আইসিসির সভার শেষ দিনে সংস্থাটির বোর্ড মিটিংয়ে অনুমোদন পেয়েছে এফটিপি। সেখানেই দেখা গেছে, ২০২১ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরিবর্তে রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০১৭ সালের পর এই আসরটি ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে তা আর হচ্ছে না। এর ফলে টানা তিন বছর তিনটি বিশ^কাপ আয়োজন করবে আইসিসি। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে ওয়ানডে বিশ^কাপ আয়োজনের পর ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ। এ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ অনুষ্ঠিত হবে পরের বছর আবারো। উল্লেখ্য, আইসিসির সদস্যদের সমর্থনেই চূড়ান্ত হয়েছে এফটিপি।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ আয়োজন এবং আরো ১০৪টি দেশকে টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস দেয়ার বিষয়টি থেকে স্পষ্ট যে ওয়ানডে এবং টেস্টের চেয়ে টি-টোয়েন্টির প্রতি অধিক জোর দিচ্ছে বিশ^ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। তাই বলা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ভাবনায় ক্রিকেটের প্রাচীনতম সংস্করণ টেস্ট কিংবা ৫০ ওভারের ওয়ানডে নয়, বরং আইসিসির ভাবনায় এখন গুরুত্ব পাচ্ছে কেবল ক্রিকেটের নবীন সংস্করণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট।

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj