বিশ্বকাপে দুই গোল মেশিনের গল্প : কামরুজ্জামান ইমন

মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮

১৯৩০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপের ২০টি আসর গত হয়েছে। এবার রাশিয়ায় ২১তম বিশ্বকাপের আসর বসছে। জার্মানির মিরো¯øাভ ক্লোস এবং ব্রাজিলের রোনাল্ডোর মধ্য সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন দখলের লড়াইটি ছিল বেশ উপভোগ্য। ব্রাজিল বিশ্বকাপে ক্লোসা রোনাল্ডোর রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েন।

মিরোসøাভ ক্লোসা : পোল্যান্ডের অ্যাপোল শহরে জন্মগ্রহণ করেন মিরো¯øাভ ক্লোস। বাবা জোসেফ এবং মা বারবারা ক্লোসার বয়স যখন নয় বছর, তখন তারা ছেলেকে নিয়ে পোল্যান্ড থেকে জার্মানিতে পাড়ি জমান। পাড়ি জমানোর মূল্য উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। ক্লোসার মা বারবারা পোল্যান্ডে থাকাকালীন হ্যান্ডবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বাবা জোসেফ পোলিশ লিগে খেলেছেন বেশ কয়েক বছর। লম্বাটে ক্লোসা মায়ের পথে অগ্রসর না হয়ে বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। ২০০২ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে জার্মানির বিস্ময় বালক ক্লোসা ফুটবলে হাতেখড়ি জার্মানে। শৈশব থেকেই তার মনে বিখ্যাত ফুটবলার হওয়ার সাধ জাগে। শুধুমাত্র দিবা স্বপ্নে বিভোর না থেকে স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার প্রত্যয় নিয়ে কঠোর অনুশীলনে মনোনিবেশ করেন। একবার যা দেখতেন তা না করা পর্যন্ত চেষ্টার পর চেষ্টা করে যেতেন। ক্লোসা শৈশব পেরুনোর সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক ফুটবলের সব কলাকৌশল রপ্ত করে ফেলেন।

বুন্দেসলিগায় প্রথম বছর খেলতে এসেই জার্মান ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নেন। ছেলেটির অপূর্ব ফুটবল সেন্স সবাইকে বিমোহিত করলো। হেড ওয়ার্ক, শট পাওয়ার, সময় মতো বলের জোগান দেয়া, স্থান পরিবর্তন করা সর্বোপরি ডিফেন্স তছনছ করার চমৎকার কৌশল সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়। বালকের (ক্লোসা) বিস্ময়কর প্রতিভা দেখে অনেকে অনেক মন্তব্য করলেন। কেউ বললেন, এই বালক আগামী দিনে জার্মানিকে বিশ্বকাপ এনে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। বেকেন বাওয়ারের পর এই বালকই হবে জার্মানির সেরা খেলোয়াড়।

১৯৯০ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ে সমর্থ হয়। জার্মানির পক্ষে সেই বিশ্বকাপে রুডিফলার অসাধারণ ফুটবল কারিশমা প্রদর্শন করেছিলেন। ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে খেলার টিকিট যাতে জার্মানি পায় সেই টিকিট প্রাপ্তির স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য রুডিফলারকে জার্মানির কোচ নির্বাচিত করা হয়। প্রিয় মাতৃভূমিকে বিশ্বকাপের ছাড়পত্র এনে দিতে প্রতিভা তালাশে জার্মানির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ান রুডিফলার। প্রতিভা সন্ধানের কর্মসূচি হিসেবে বুন্দেসলিগার কেনো এক ম্যাচ দেখার সময় মিরো¯øাভ ক্লোসার খেলা তার ভালো লাগলো। অভিজ্ঞ জহুরি যে জহর চিনতে ভুল করেন না, তার প্রমাণ একটু পরে পাওয়া যাবে। লম্বাটে বালকের আক্রমণাত্মক ফুটবল কৌশল কোচ রুডিফলারকে মুগ্ধ করে। ম্যাচ শেষে জনৈক কর্মকর্তাকে বলেন, জাতীয় দলের জন্য ওই বালককে আমি চাই। একটু ঘষামাজা করলে ছেলেটির কাছ থেকে নান্দনিক ফুটবলশৈলী আশা করা যাবে। জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়ে ছেলেটি আরো উজ্জীবিত হলো। রুডিফলারের তত্ত্বাবধানে ক্লোসার নতুন অধ্যায় শুরু হলো। ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপ তারকার সান্নিধ্য পেয়ে নিজেকে বিশ্বকাপ জয়ী তারকা ভাবতে শুরু করে ছেলেটি। রুডিফলারের কাছে ক্যাম্পে ডাক পেয়ে যা শিখেছেন তা প্রয়োগের জন্য বেছে নিলেন উয়েফা কাপকে। মিরো¯øাভ ক্লোসা উয়েফা কাপের সেমিফাইনালে যেভাবে বিপক্ষের ডিফেন্স একের পর এক ভেঙে চুরমার করে দিলেন তা দেখে কোচ রুডিফলার আরও অনুপ্রাণিত হলেন। ডেঞ্জারম্যান ক্লোসাকে পেয়ে কোচ খুশি হয়েছিলেন, এ কারণে কিছুদিন ধরে জার্মান দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় অলিভার বিয়েরহফ এবং ক্রিশ্চিয়ান ইয়াংকারের ফর্ম আগের মতো নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গতিও কমে গেছে। নয়া ছেলেটির মাঝে কোনো কিছুর কমতি নেই। রুডিফলারের প্রিয়পাত্র ক্লোসাকে নিয়ে বছরখানেক আগে দুদেশের মধ্যে কম টানাহেঁচড়া হয়নি। জার্মান কোচ রুডিফলার এবং পোলিশ (পোল্যান্ড) কোচ জার্জি এঞ্জেল নিজ নিজ দলে ক্লোসকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। এই টানাহেঁচড়ার জন্য দায়ী ক্লোসার যৌথ নাগরিকত্ব। জন্মসূত্রে পোলিশ, বসবাসকারী হিসেবে জার্মানি। যাকে নিয়ে এতো টানাহেঁচড়া সেই ক্লোসাই বিতর্কের পরিসমাপ্তি টানেন। কীভাবে বিতর্কের অবসান হলো। প্রশ্ন জাগতেই পারে। তাহলে উত্তর ক্লোসার মুখ থেকেই শুনুন। ‘আমি পোল্যান্ডে জন্ম নিলেও মনে ও মননে শুধু জার্মানি। তাছাড়া বুন্দেসলিগায় খেলে থাকি। জার্মানির হয়ে খেলার স্বপ্ন আমার অনেক দিনের।’

মিরো¯øাভ ক্লোসা জার্মানির হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামেন ২০০১ সালের ২৪ মার্চ। আলবেনিয়ার সঙ্গে সেই ম্যাচের অন্তিম লগ্নে জয়সূচক গোল করে অভিষেক খেলায়ই তারকা খ্যাতি পেয়ে যান তিনি। খেলা শেষ হওয়ার দুমিনিট আগে যদি জয়সূচক গোলটি না আসত তাহলে স্বদেশি সমর্থকদের গালমন্দ শুনতে হতো কোচকে। পরের সপ্তাহের ঘটনা জার্মানির সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষার ম্যাচে মুখোমুখি হয় গ্রিস। সমানতালে খেলা এগিয়ে চলছে। কিছুক্ষণ পর অন্তিম বাঁশি বাজাবেন রেফারি। তীব্র প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ ম্যাচটি ২-২ গোলে অমীমাংসিতভাবে এগিয়ে চলছে। রুডিফলারের ছায়া যার ওপর সেই ক্লোসা উড়ন্ত বলে মাথা ছুঁয়ে (হেডের সাহায্যে) জয়সূচক গোলটি করেন। আনন্দে ফেটে পড়ে জার্মানি সমর্থকরা।

শতাব্দীর প্রথম বিশ্বকাপে জার্মানির এই তরুণ স্ট্রাইকার ইতিহাসের পাতায় নিজের নামটি স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নেন। ক্যারিয়ারে প্রথম ওয়ার্ল্ডকাপে তিনি স্বপ্নের মতো যাত্রা শুরু করেন। অনেক রথী-মহারথীর ভিড়ে ক্লোস যে খেলা দেখিয়েছেন তা স্বপ্নকেও হার মানিয়েছে। বিশ্বকাপে জার্মানির প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেন। ক্লোস সেদিন তিনটি গোলই করেছিলেন হেডের সাহায্যে। বড় আসরে এসেই হ্যাটটিক ভাবতে অবাক লাগছে। ২০০২ থেকে ২০১৪ চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৬ গোল করে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড দখল করেছেন মিরো¯øাভ ক্লোসা।

রোনাল্ডো : বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে এক বিরল প্রতিভার নাম রোনাল্ডো। ব্রাজিলের রাজধানী রিওডি জেনিরোর শহরতলি বেন্টোরিরেইরোতে ১৯৭৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক হতদরিদ্র পরিবারে হয় জন্ম তার। এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পুরো নাম রোনাল্ডো লুইস নাজারি ওডিলিমা। শৈশবে বামা-মায়ের বিচ্ছেদ, দুবেলা অন্ন সংস্থানে মায়ের উদয়াস্ত পরিশ্রম, সংকীর্ণ বাসস্থানে তিন ভাইবোনের সংসারে বেড়ে ওঠা রোনাল্ডোর ডাক নাম ডাডাডো। রোনাল্ডোর বয়স যখন চৌদ্দ তখনই জক্তিনির সুনজরে পড়েন। কে এই জক্তিনি? ১৯৭০ সালে ব্রাজিলিয়ান বিশ্বকাপ স্কোয়াডের নন্দিত খেলোয়াড় জক্তিনিও প্রথম দেখায় রোনাল্ডোর খেলা দেখে মুগ্ধ হন। বালক রোনাল্ডোকে একটু গাইড দিলে যে সে বিখ্যাতদের কাতারে পৌঁছতে পারবেন এ বিশ্বাস জক্তিনিওর মনে জন্মে। গ্রেট ফুটবলারের পৃষ্ঠপোষকতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের মধ্য দিয়ে রোনাল্ডোর পথ চলা শুরু হয়। ১৯৮৯ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে সোসিয়াল রামোস ক্লাবের পক্ষে খেলার মধ্য দিয়ে ফুটবল ক্যারিয়ারের সূচনা করেন তিনি। ততদিনে হাঁটা বাদ দিয়ে গাড়িতে করে অনুশীলনে আসতে শুরু করেন। প্রতিভার দ্যোতি ছড়িয়ে সোসিয়াল রামোস ছেড়ে ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সাও ক্রিস্টোভাওয়ে যোগ দিয়ে ৫৪ খেলায় করেন ৩৬ গোল। দুবছর পর প্রথম বিভাগের ক্লাব ক্রুজেইরোতে যোগ দিয়ে ৬০ খেলায় ৫৮ গোল করার মধ্য দিয়ে আলো ছড়াতে শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে জক্তিনিওর পরামর্শে হল্যান্ডের পিএসভি আইন্দহোফেন ক্লাবে যোগ দেন। দু-দুটি মৌসুম হল্যান্ডে কাটানোর পর তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড ১৯.২ মিলিয়ন ডলার পরিমাণ ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে হল্যান্ড ছেড়ে স্পেনের বার্সিলোনা ক্লাবে যোগ দেন। ডাচ লিগে পিএসভি আইন্দহোফেনের হয়ে খেলার আগে ব্রাজিলিয়ান লিগে ক্রুজেরিওর দুমৌসুমে ৬০ ম্যাচে ৫৮টি গোল করেছিলেন। ডাচ লিগে ৩৮ ম্যাচে করেছিলেন ৩৩টি গোল। এমন গোল মেশিনকে বিশ্বরেকর্ড ১৯.২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে দলে ভিড়িয়ে বার্সিলোনা ক্লাব যে ভুল করেনি তার প্রমাণ স্পেনিশ লিগ টাইটেল অর্জন। সে সময় রোনাল্ডোকে দলে ভেড়ানোর জন্য বার্সিলোনার সঙ্গে রিয়েল মাদ্রিদ এবং ইন্টার মিলানের তীব্র লড়াই হয়েছিল। অপর দুই প্রতিদ্ব›দ্বীকে টেক্কা দিয়ে ব্রাজিলিয়ান বিরল প্রতিভাকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছিল বার্সিলোনা।

১৯৯৪ সালের ২৪ মার্চ চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনাল্ডোর অভিষেক ঘটে। তার অসাধারণ নৈপুণ্য দেখে তৎকালীন ব্রাজিলিয়ান কোচ আলবাটো পেরেইরা রোনাল্ডোকে বিশ্বকাপগামী স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৯৯৪ সালে আমেরিকা বিশ্বকাপে দলভুক্ত হলেও বয়স কম হওয়ার কারণে কোচ তাকে মাঠে নামাননি। সাইট লাইনে বসে বসে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ বিজয় দেখা ছাড়া রোনাল্ডোর আর কোনো কাজ ছিল না। ১৯৯৪ সালে এপ্রিলে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল করেন আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপ ১৯৯৪ সালে না খেলার দুঃখ ভুলার দারুণ সুযোগ পান। সফলতার সঙ্গে ফ্রান্স বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর যাত্রা শুরু হয়। ফ্রান্সে আসার আগে রোনাল্ডো তার মাকে কথা দিয়েছিলেন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে গোল করবেন। ফ্রান্স আসরে ব্রাজিল সেদিন উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জিতেছিল। মাকে দেয়া প্রতিশ্রæতি রক্ষা করতে দ্বিতীয় মরক্কোর বিপক্ষে ১০ মিনিটের বেশি সময় নেননি। মরক্কোর বিরুদ্ধে ৯ মিনিটের মাথায় গোল আদায় করেন। ১৯৯৮-এর বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ১২ ঘণ্টা আগে ব্রাজিলিয়ান দলের ফিজিও জানান, রোনাল্ডো অসুস্থ। সারাবিশ্বে ব্যাপারটা (অসুস্থতা) নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়। কিন্তু অসুস্থতা সত্ত্বেও রোনাল্ডো ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ফাইনালে মাঠে নামেন। কিন্তু মাঠে নামলে কি হবে? তিনি সেদিন তার অপরূপ ফুটবলশৈলী প্রদর্শনে চরমভাবে ব্যর্থ হন। ফলে ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। ব্রাজিল স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হলো। রোনাল্ডো ব্যর্থ মানেই ব্রাজিল ব্যর্থ এ সত্য তখন প্রতিষ্ঠিত হলো। বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে রোনাল্ডো ৪টি গোল করতে সমর্থ হন। অপূর্ব ফুটবলশৈলী প্রদর্শনে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে রোনাল্ডো সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ব্রাজিলকে ফ্রান্স বিশ্বকাপে শিরোপা এনে দিতে না পারলেও ১৯৯৯ সালে কোপা আমেরিকাতে ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এনে দিয়েছিলেন। টুর্নামেন্টে রোনাল্ডো ৫টি গোল করতে সমর্থ হন। মূলত রোনাল্ডোর ম্যাজিকে ভর করে কোপা আমেরিকা কাপ জিতে ব্রাজিল।

২০০২ সালের বিশ্বকাপকে রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ বললে বোধ হয় বাড়িয়ে বলা হবে না। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেকের ধারণা ছিল ইনজুরি থেকে উঠে আসা রোনাল্ডোকে কোচ স্কলারি হয়তো প্রথম ম্যাচে তুরস্কের বিরুদ্ধে মাঠে নামাবেন না। রোনাল্ডো যে কী জিনিস স্কলারি তা ভালো করেই জানতেন। কোচের আস্থার প্রতিদানস্বরূপ তুরস্কের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিলকে রোনাল্ডো দ্বিতীয়ার্ধে গোল উপহার দিয়ে ১-১ গোলে সমতা ফিরিয়ে আনেন। ওই খেলায় ব্রাজিল ২-১ গোলে তুরস্ককে পরাজিত করতে সমর্থ হয়। দ্বিতীয় ম্যাচে চীনের বিরুদ্ধেও গোল করেন রোনাল্ডো। প্রথম রাউন্ডে শেষ ম্যাচে মানে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে ৮ ও ১৩ মিনিটের মাথায় দুটি গোল করে রোনাল্ডো দেখিয়ে দেন তিনি এখনো ফুরিয়ে যাননি। দ্বিতীয় রাউন্ডে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত এক গোল করেন। ফলে ৪ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ৫টি। গোল্ডেন বুটের সন্ধানে বহুদূর এগিয়ে যান। ১৯৯৮ সালের ফাইনালে পুষিয়ে দেন তিনি। রুডিফলারের জার্মানিকে বিশ্বকাপের ফাইনালে একাই বিধ্বস্ত করেন রোনাল্ডো। জার্মানির খেলোয়াড়রা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে কড়া মার্কিংয়ে রেখেও সুবিধা করতে পারেননি। টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক অলিভার কানকে দু-দুবার ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান রোনাল্ডো। নতুন শতাব্দীর বিশ্বকাপ ব্রাজিলের ঘরে যায়। রোনাল্ডোর ভাগ্যে জোটে গোল্ডেন বুট। বিশ্বকাপের ফাইনালে দুগোলসহ ৭ খেলায় রোনাল্ডো গোল করেন ৮টি। ২০০২ বিশ্বকাপ শেষে ইতালির ইন্টারমিলান ক্লাব ছেড়ে তিনি ৪৬.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে স্পেনিশ ক্লাব রিয়েল মাদ্রিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ২০০৬-এর জার্মান বিশ্বকাপ রোনাল্ডোর ৩টি গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ (১৫টি) গোলদাতার স্থান দখল করেছিলেন ২০১৪ সালে জার্মানির ক্লোসা ১৬ গোল করে রোনাল্ডোর রেকর্ড ভেঙে দেন।

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj