পারমাণবিক বোমা বানানোর হুমকি সৌদি যুবরাজের

শনিবার, ১৭ মার্চ ২০১৮

কাগজ ডেস্ক : আঞ্চলিক প্রতিদ্ব›দ্বী ইরান পারমাণবিক বোমা বানানোর সক্ষমতা অর্জন করলে সৌদি আরবও পিছিয়ে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। হুমকি মোকাবেলায় দ্রুত নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলার সক্ষমতা রিয়াদের আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের প্রতি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বলে খবর বিবিসির।

সৌদি সিংহাসনের পরবর্তী এ উত্তরাধিকার বলেন, তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আগ্রহী নয়। কিন্তু ইরান যদি একটিও পারমাণবিক বোমা তৈরি করে ফেলে, তাহলে কোনো সন্দেহ নেই, আমরাও যত দ্রুত সম্ভব তাদের অনুসরণ করব। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে চুক্তির সূত্র ধরে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করে আনার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান; ওই চুক্তিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সফলতা হিসেবে দেখছিলেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও শুরু থেকেই এ চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাজে’ এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসারও ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত সপ্তাহে বরখাস্ত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে অবশ্য চুক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতেই দেখা গেছে। যদিও তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাওয়া মাইক পম্পেও প্রেসিডেন্টের মতোই ইরান পারমাণবিক চুক্তির ঘোর বিরোধী। মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুন্নিপ্রধান সৌদি আরব ও শিয়াপ্রধান ইরানের দ্ব›দ্ব বহু পুরনো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়া ও ইয়েমেনের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ বিন সালমান গত নভেম্বরে ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের নয়া হিটলার’ বলারও ব্যাখ্যা দেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে তার নিজস্ব প্রকল্প তৈরি করতে চান, অনেকটা হিটলারের মতোই, যিনি সে সময়ে বিস্তার ঘটাতে চেয়েছিলেন। ইউরোপ এবং বিশ্বের অনেক দেশই ঘটনা ঘটার আগে হিটলার কতখানি বিপজ্জনক, তা বুঝতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যেও এমনটা ঘটুক দেখতে চাই না আমি, বলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব ১৯৮৮ সালেই পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ বিরোধী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যদিও পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে তাদের বিনিয়োগ আছে বলে ধারণা করা হয়। ২০১৩ সালে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান আমোস ইয়াদলিন সুইডেনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, যদি ইরান পারমাণবিক বোমা বানিয়েই ফেলে, তাহলে সৌদি আরব এক মাসও অপেক্ষা করবে না। তারা এর মধ্যেই দাম চুকিয়ে দিয়েছে; তারা শুধু পাকিস্তানে যাবে, আর যা তাদের প্রয়োজন তা নিয়ে আসবে। পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ বিরোধী চুক্তিতে ইরানেরও স্বাক্ষর আছে; যদিও সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, গোপনে পারমাণবিক বোমা নির্মাণের পথেই হাঁটছে তেহরান। ইরান বলছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে চুক্তিতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার শর্তে শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচির লাগামও অনেকখানি কমিয়ে আনার দাবি করছে তারা। ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে সরে যেতে চাইলেও ইউরোপীয় মিত্ররা তাতে আপত্তি জানিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইসরায়েলকেই পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়; যদিও এ বিষয়ে কখনোই মুখ খোলেনি তেলআবিব।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj