নির্বাচনের প্রস্তুতি : দেড় হাজার কোটি টাকার মালামাল কিনছে ইসি

রবিবার, ১১ মার্চ ২০১৮

এন রায় রাজা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচনীসামগ্রী কেনাকাটা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে পাঁচ সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সামগ্রীও কিনছে সংস্থাটি। আর এসব কেনাকাটা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারের কাছ থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬শ কোটি টাকা। এ ছাড়া আসন্ন চার সিটি নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচনের পরপরই অনুষ্ঠেয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য আরো ৬শ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। আর জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আরো তিনশ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইসি।

ইসির প্রস্তুতিমূলক এক চিঠিতে স¤প্রতি অধিদপ্তরকে বলা হয়, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসব নির্বাচন হলেও তিন ভোট সামনে রেখে এ বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে সব কাগজ সংগ্রহ করে রাখতে হবে। এজন্য দ্রুত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে ইসি।

জানা গেছে, কেবল কাগজ কেনার জন্যই নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা চেয়ে গত সোমবার চিঠি পাঠিয়েছেন মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের বাংলাদেশ স্টেশনারি অফিসের উপপরিচালক মো. ছরোয়ার হোসেন।

গাজীপুর, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য চলতি বছরের মার্চ থেকে অক্টোবরকে সম্ভাব্য সময় ধরে এগুচ্ছে ইসি। এ নির্বাচনের জন্য এপ্রিল মাসের মধ্যে কাগজ সংগ্রহ করতে হবে বলে জানিয়েছে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর। আবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে এ বছরের ৩০ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে। এ নির্বাচনের জন্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার রিম কাগজ প্রয়োজন হবে, যা জুন মাসের মধ্যে সংগ্রহ করতে হবে।

পিপিআর মেনে মালামাল সংগ্রহে কয়েক মাস সময় লাগে জানিয়ে অধিদপ্তর থেকে ইসিকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন শুরুর ৫-৬ মাস আগেই কাগজ সংগ্রহের যাবতীয় কার্যক্রম নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে একাদশ সংসদের মুদ্রণ কাজ শুরুর অন্তত তিন মাস আগে কাগজের মজুদ নিশ্চিত করতে হবে।

মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর বলেছে, ইসি ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে কাগজ সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করেছে। কিন্তু অর্থ না পাওয়া পর্যন্ত অধিদপ্তর টেন্ডারে যেতে পারে না। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করা প্রয়োজন।

এদিকে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে আগামী বছরের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে। এ বছরের ডিসেম্বর থেকে মুদ্রণ কাজ শুরুর সম্ভাব্য সময় ঠিক করেছে ইসি। এ নির্বাচনে ১ লাখ ২০ হাজার রিম কাগজ দরকার হবে। সে ক্ষেত্রে নভেম্বরের মধ্যে মজুদ নিশ্চিত করতে চায়

অধিদপ্তর। ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন পরিচালনা খাতে বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের পারিশ্রমিক, নির্বাচনী মালামাল (স্ট্যাম্প প্যাড, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল, লাল গালা, আম কাঠের প্যাকিং বাক্স, অমোচনীয় কালি ইত্যাদি) কেনায় ব্যয় হবে। এ ছাড়া ব্যালট পেপার, বিভিন্ন ফরম, প্যাকেট, নির্দেশিকা, ম্যানুয়াল, মনিটরিং সেল, প্রচারণা, ভোটকেন্দ্র- ভোটকক্ষ নির্মাণ, কক্ষ সংস্কার, ভোটকেন্দ্রের বেষ্টনী নির্মাণ, ভোটকেন্দ্রের মনোহারী দ্রব্য কেনা, পরিবহন খরচ, কর্মকর্তাদের ডাক, তার, বার্তাবাহক, জ্বালানিসহ বিভিন্ন নির্বাচনীসামগ্রী কেনায় অর্থ ব্যয় হবে। সেই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নির্বাচনী ফলাফল আদান-প্রদান, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও মামলা পরিচালনা, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জ্বালানি খরচ, সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের যাতায়াত ব্যয় যোগ হবে এর সঙ্গে।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, জাতীয় নির্বাচনে বিশাল অর্থের প্রয়োজন হয়। সে কারণে অর্থ দ্রুত ছাড়ের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে আগে থেকে বলে রাখতে হয়। চাহিদা অনুযায়ী যেন দ্রুত অর্থ পাই, সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ইসিতে আগামী বাজেট প্রস্তুতির আগে নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেড় হাজার কোটি টাকার মতো বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা করেছেন সিইসি।

দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ইসির জন্য সবকিছু মিলিয়ে ১ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫শ কোটি টাকা। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেই একই রকম বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তবে উপকরণের দাম বাড়ায় এবার ৬শ কোটির মতো ব্যয় ধরা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেড় হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে ইসি। এ অর্থ ছাড় পেলেই সব ধরনের প্রস্তুতি জোরদার করা হবে।

দশম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। তবে এই নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে প্রতিদ্ব›দ্বী না থাকায় নির্বাচন করতে না হওয়ায় ব্যয় কমে ধরা হয় ৩০০ কোটি, যার মধ্যে ব্যয় হয় ২৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে ব্যয় হয় ১৪৭ কোটি টাকা এবং ১৪৪ কোটি ৫১ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয় হয় আইনশঙ্খলা রক্ষায়।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj