ঢালী আল মামুনের একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু

রবিবার, ১১ মার্চ ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : ড্রয়িংকে নিরেট অনুশীলনের জন্য বা দৃশ্যভাষার সহযোগী হিসেবে বিবেচনায় নেইনি। বরং ভেবেছি স্বতন্ত্র স্বয়ংভু ও স্বাধীন প্রকাশ মাধ্যম, যা ভাবনা উপলব্ধি এবং অভিজ্ঞতার এক ধরনের মানচিত্রীকরণ। এবারের প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া অধিকাংশ ড্রয়িংয়ের নির্মাণ উপকরণ চা, নীল কিংবা লবঙ্গ। কেবল বিষয় ভাবনার দৃশ্যরূপ বা অবয়ব বিবৃতকরণের সহযোগী ছিল না। তারা একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক সূত্র ইতিহাসের বয়ান এবং অর্থকারক হিসেবে বিবেচিত।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইকবাল রোডের কলা কেন্দ্রে ঢালী আল মামুনের ‘ড্রয়িং এন্ড থিংকিং, থিংকিং এন্ড ড্রয়িং’ শিরোনামে একক শিল্প প্রদর্শনীতে এভাবেই নিজের শিল্পকর্ম সম্পর্কে বলছিলেন শিল্পী।

ঢালী আল মামুন আরো বলেন, ঔপনিবেশিক ও সা¤্রাজ্যবাদী প্রভুদের সেই লোভ-লালসায় আক্রান্ত দেশ, মানুষ ও পরিবেশ। বুর্জোয়া অর্থনীতির অশুভ চক্রে আবর্তিত সাধারণ অবহেলিত মানুষের নিষ্পেষণের গল্প আমাকে তাড়িত করে। তাই তাদের প্রতি সহমর্মিতা চিত্রিত হয় আমার কাজে। যে কারণে বারবার ঔপনিবেশিক সময়কালীন ইতিহাসের বয়ান উঠে আসে আমার কাজে। ঔপনিবেশিক উপকরণ চা, নীল, লবঙ্গ তারই অনুসঙ্গ।

প্র্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন চিত্রশিল্পী নিসার হোসেন। উদ্বোধনকালে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রদর্শনীর কিউরেটর শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান। এ সময় ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তসহ বিশিষ্ট শিল্পী ও শিল্পবোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। শিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, ঢালী আল মামুন তার সৃজনশক্তিকে নিয়োজিত করেন দেশ, সমাজ আর বিশ্ব-রাজনীতির নানা পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদের শিল্পিত উপস্থাপনায়। তার এবারের কাজগুলোও বরাবরের মতোই গবেষণাধর্মী এবং এর ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। আরো আছে অর্গানিক ফ্লেভার।

নিসার হোসেন বলেন, গত শতকের আশির দশকে আমাদের চারুশিল্পে আবির্ভূত স্বনামধন্য কয়েক জন সৃজনশিল্পীর অন্যতম ঢালী আল মামুন। সমাজ বাস্তবতার ভাবনায় যারা নিরন্তর নিজের সৃজনকে মানবকল্যাণ ও সমাজ পরিবর্তনের পক্ষে নিয়োজিত করতে চেয়েছেন, তিনি তাদের মধ্যে ছিলেন নেতৃস্থানীয়।

ঢালীর এবারের ছবিগুলো গবেষণাধর্মী এবং শিল্পীর নতুন চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দৃষ্টিনন্দন ছবি আঁকার ধারা থেকে বেরিয়ে আসার মূল উদ্যোক্তা ঢালী আল মামুন। তরুণ প্রজন্মের যারা এখন নতুন ভাষায় ছবি আঁকছে তাদের ঢালী আল মামুন অনুপ্রাণিত করছেন। তার এবারের ছবিগুলোর পরতে পরতে দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতার জার্নি রয়েছে।

শিল্পী ঢালী আল মামুনের জন্ম ১৯৫৮ সালে। ১৯৮২ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় স্নাতকোত্তর এবং ১৯৯৩-৯৪ সালে জার্মান সরকারের বৃত্তি নিয়ে চারুশিল্পে উচ্চতর ডিএএডি কোর্স সম্পন্ন করেন। চারুশিল্পে বাংলাদেশের প্রধান স্বীকৃতিগুলোর অন্যতম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক পেয়েছেন তিনি ২০০০ সালে, ঢাকায় আয়োজিত দ্বাদশ এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে গ্র্যান্ড পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৬ সালে। ২০১৩ সালে ইতালির ভেনিসে আয়োজিত ৫৫তম বিয়েনালে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, জাপানের ফুকুওকা এশিয়ান আর্ট মিউজিয়াম, নরওয়ের ইবসেন মিউজিয়ামসহ দেশে-বিদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সংগ্রহে আছে তার শিল্পকর্ম। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক।

প্রদর্শনীতে ২৭টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনী প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। প্রদশনী চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj