আ.লীগে শেখ সেলিম একক প্রার্থী, বিএনপিতে একাধিক

রবিবার, ১১ মার্চ ২০১৮

** ভোটের মাঠে হেভিওয়েট লড়াই : গোপালগঞ্জ-২ **

বছরের শেষপ্রান্তে জাতীয় নির্বাচন। এরই মধ্যে সারা দেশে বইছে ভোটের হাওয়া। দলগুলোতে প্রস্তুতির তোড়জোড়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে। নির্বাচনী এলাকায় ঘন ঘন ছুটছেন বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট নেতারাও। কেমন তাদের প্রস্তুতি, মাঠের অবস্থাইবা কি? এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগের অন্যতম ভোট ব্যাংক গোপালগঞ্জ জেলা। এখানে বরাবরই আওয়ামী লীগের একক অবস্থান। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে অন্য কারো তেমন প্রতিদ্ব›িদ্বতা হয় না। বরাবরই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন আ.লীগ প্রার্থী। আর তাই বরাবরের মতো এবারো এখানে নির্বাচনী উত্তাপ নেই তেমন একটা। কিন্তু নির্বাচনী আমেজ আছে। তবে বঙ্গবন্ধুর নৌকার ঘাঁটি এ জেলায় অন্য কোনো দল বা প্রতীকের প্রতি তেমন একটা আগ্রহ নেই সাধারণ ভোটারদের। যে কারণে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রতিবারই জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে আসছেন। আর সেই থেকে আসনগুলো বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। কারণ একটাই, তাহলো গোপালগঞ্জ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ জেলা। এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষই মনেপ্রাণে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকাকে। সে কারণে এখানকার মানুষ বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগকেই বরাবর নির্বাচিত করে আসছে। এখানে বিএনপিসহ অন্য দলগুলো নিয়ম রক্ষার জন্যই মূলত নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এবং কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-২ আসন। এ আসনে বরাবরের মতো এবারো আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমান এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি টানা ৩৭ বছর ধরে জাতীয় সংসদে এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ আসনে তার রয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা। বিগত সময়ে তিনি সফলভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক ও যোগাযোগ। তিনি নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত আসেন, খোঁজখবর নেন গরিব-দুঃখী সাধারণ মানুষের। যোগ দেন নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে। এসব করে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। তা ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় রাস্তাঘাট ও ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ, স্কুল-কলেজের উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখায় জনগণ বেশ খুশি। এমন কি তার অবর্তমানে তারই বড় ছেলে এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এবং ছোট ছেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম প্রতি মাসে দুয়েকবার গোপালগঞ্জ সফর করেন। বিভিন্ন খেলাধুলা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিয়ে থাকেন। এ দুই যুব নেতার সঙ্গে রয়েছে গোপালগঞ্জ-২ আসনের হাজারো তরুণ নেতাকর্মী। এ ছাড়াও রয়েছেন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা। এ ছাড়াও শেখ ফজলুল করিম সেলিমের পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগসহ সব সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী কাজকর্ম করে যাচ্ছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে শেখ ফজলুল করিম সেলিমই একক প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

এ আসনে অন্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এম এইচ খান মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক এম মুনসুর আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পিনু সম্ভাব্য প্রার্থী। এর মধ্যে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ব্যবসায়িক কারণে ঢাকায় অবস্থান করেন। মাঝেমধ্যে গোপালগঞ্জে আসেন, বিভিন্ন গ্রামে যান। খোঁজখবর নেন নেতাকর্মীদের। তার নেতৃত্বে বর্তমানে বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষক পার্টির সভাপতি আলহাজ সাহিদুর রহমান টেপা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আলমগীর হোসেনের নামও শোনা যাচ্ছে। জাসদ (ইনু) গোপালগঞ্জ জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ মাসুদুর রহমান, এডভোকেট সহীদুল হকের (আম্বিয়া) নামও শোনা যাচ্ছে। তবে জোট-মহাজোটভিত্তিক নির্বাচন হলে এ আসনে মহাজোটের একক প্রার্থী হবেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

নির্বাচন নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, বিএনপি যদি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয় আর নির্বাচনী মাঠ যদি সমতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় তাহলে বিএনপি গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই একটা গ্রহণযোগ্য ভোট পাবে। এমনকি জনগণ যদি তাদের ভোটাধিকার প্রযোগ করতে পারে, তবে এবার তারা বিএনপিকেই জয়ী করবে।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক বলেন, গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এই ঘাঁটটিতে রয়েছে নৌকার মাঝি। এই ঘাঁটিতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের হানা দেয়া বা ভাঙন ধরানো সম্ভব নয়। গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই আওয়মী লীগ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে থাকে। আগামী নির্বাচনেও তাই হবে। কারণ বর্তমান সরকারের যে উন্নয়নের ধারা, সেই ধারায় গোপালগঞ্জের যে সাংসদরা আছেন, তারা গোপালগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। যে উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান, তাতে আগামীতেও গোপালগঞ্জে সব কয়টি আসনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয় সুনিশ্চিত।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার মানুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। জাতীয় নির্বাচনে বরাবরই তারা নৌকা মার্কা চেনে। অন্য কোনো মার্কা ভোটাররা খোঁজে না। উন্নয়ানের মার্কা নৌকাকে ভোট দিয়েই গোপালগঞ্জবাসী যে কোনো মূল্যে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে হ্যাট্রিক করতে চায়। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত। এখানে গোপালগঞ্জ-১ আসনে বর্তমান সাংসদ ও আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, গোপালগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমান সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বর্তমান সাংসদ বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন করবেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সহযোগী সব সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj