কে কার প্রতিদ্ব›দ্বী? : মুহম্মদ শফিকুর রহমান

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

প্রাককথন

এ মূহূর্তে যদি প্রশ্ন করা হয় আগামী নির্বাচনে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন? সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন গৎ বলবেন বিএনপি এবং খালেদা জিয়া। প্রফেসর এমাজ উদ্দিন যিনি মনে করেন তারেক রহমান বিএনপি চিফ এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়া দরকার। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিন্তু অন্য রকম। শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী হবেন, নতুন করে শপথ নেবেন, তার মন্ত্রিসভা নতুন করে শপথ নেবে এ পরিবর্তনটাই হতে যাচ্ছে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে। এটাই বাস্তবতা। পাবলিক পারসেপশন।

নির্বাচন ২০১৮

নির্বাচন হতেই হবে এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এবং নির্বাচনটি হবে বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষের আগের ৯০ দিনের মধ্যে। সেদিক থেকে নির্বাচনটি হবে ২০১৮-এর নভেম্বর-ডিসেম্বরে। সেই লক্ষ্য নিয়ে এরই মধ্যে প্রস্তুতিও চলছে দল এবং জোটগুলোর মধ্যে। নমিনেশন প্রত্যাশীরা স্ব-স্ব দলের কেন্দ্রীয় নমিনেশন বোর্ডের অনুগ্রহ অর্জন প্রচেষ্টায় তৎপর। বিশেষ করে দলীয় প্রধানের। প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা এরই মধ্যে দলীয় নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। এবারো হজরত শাহজালাল রহ.-এর পণ্যভূমি সিলেট থেকে। খালেদা জিয়াও নামছেন। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেস দুর্নীতি মামলায় রায় হবে বলে আদালত ঘোষণা করেছেন। খালেদা জিয়া এবং তার দলবল সেই দুশ্চিন্তায় কাতর। কি হবে রায়? সাজা হবে? নাকি খালাস পাবেন! কোনটা? মাঝে মাত্র একদিন তবে হ্যাঁ, কিছু সুশীল বাবু আছেন যাদের মনোজগতে এখনো চাঁদ তারা পতাকা। তারা যা বলছেন তা হলো সরকার ২০১৪-র ৫ জানুয়ারির মত খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে বাইরে রেখে খালি মাঠে গোল দিতে চাইছেন। ‘চোরকে চোর বলিও না, মনে কষ্ট পাইবে’। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তার একটা মানমর্যাদা আছে না? ছেলে যখন হাওয়া ভবন বানিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে টাকার পাহাড় বানাচ্ছিলেন, বিদেশে পাচার করছিলেন, পাচার না করলে সিঙ্গাপুর থেকে ২০ কোটি টাকা ফেরত আসল কীভাবে? এমনি এমনিতো আর সিঙ্গাপুর টাকাটা বাংলাদেশকে দেয়নি, তখন মানসম্মান কোথায় ছিল। না কি সে সব মিথ্যা? ২০ কোটি টাকাও কি মিথ্যে? ছোট ছেলে আরাফাত ইন্তেকাল করেছেন, আমরাও সমব্যাথি, পুত্রবধূ সন্তানদের নিয়ে কীভাবে মালয়েশিয়ার মতো দেশে বসবাস করছেন, পড়ালেখার খরচই বা জোগান দেন কোন গৌরীসেন, এ প্রশ্ন বাজারে আছে। বাজারে এটিও আছে তারেক রহমান নিয়মিত ক্যাসিনোতে যান, জুয়া খেলেন এবং জুয়ার টাকা দিয়ে স্ত্রী কন্যা নিয়ে লন্ডনের মতো শহরের পশ এলাকায় বসবাস করছেন, একাধিক দামি গাড়ি ব্যবহার করছেন। ছেলেটি কি তবে জুয়ার ভাগ্য নিয়ে জন্মেছেন যে একদিনও হারেন না? আমরা তো শুনেছি জুয়া খেলে কেউ আলটিমেট গেইন করতে পারে না। অন্তিমে মূলে ঘাটতি। তাহলে ধরে নেয়া যায় খালেদা জিয়ার সাজা হোক বা না হোক তারেক পরিবার লন্ডনে কিংবা কোকোর পরিবার কুয়ালালামপুরে আয়েশী জীবন কাটাতে কোনো বেগ পেতে হবে না। যদি ওভারঅল ইনভেস্টিগেশনে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক তাহলে দুশ্চিন্তার কারণ অবশ্যই আছে। তখন খালেদা জিয়ার নির্বাচন ভাবনা যন্ত্রণায় রূপ নেবে। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি অংশ না নিয়ে যে ভুল করেছেন, ৫ বছর ধরে ভুলের খেসারত দিচ্ছেন, সে সবের পুনরাবৃত্তিও হতে পারে। সে সময় কত কিছুইতো দেখা গেছে- সেদিনও দেখা গেল হাইকোর্টের সামনে প্রিজন ভ্যান ভেঙে আসামি লুটে নিতে এবং পুলিশের ওপর ফ্লাইং কিক দিতে।

বিএনপির নির্বাচন

নির্বাচন এলে বিএনপি অংশ নেয় না, গণতন্ত্রের কথা বলে/নির্বাচন প্রতিরোধ করতে আগুন সন্ত্রাসী রাজপথে নামায়/পেট্রল বোমা মেরে বাস-ট্রেনযাত্রী, রিকশা-ভ্যানযাত্রী হত্যা করে, কর্তব্যরত পুলিশ হত্যা করে, প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা করে, নির্বাচন ঠেকানোর নামে শত শত প্রাথমিক বিদ্যালয় জ্বালিয়ে ছাই করে। পেট্রল বোমা মেরে গরু পুড়িয়ে ছাই করে/সংখ্যালঘুরা যাতে ভোট না দেয়, দেশত্যাগ করে, সে জন্য তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়/দেশ অচল করার টার্গেট নিয়ে গাছ কেটে রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। মানুষ যাতে ভোট কেন্দ্রে না যায় ভোটদানে বিরত থাকে সে লক্ষ্যে ভয়ভীতি প্রচার প্রচারণা চালায়/শাপলা চত্বরে বিরাট সমাবেশ ঘটিয়ে গোটা মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, বিজয় নগর, জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে। এমনকি বায়তুল মোকাররম বই মাকেট বেশির ভাগই ধর্মীয় গ্রন্থাদি) পুড়িয়ে দেয়া হয়/ স্বপ্ন ছিল বঙ্গভবন দখলের উদ্দেশ্যে রাতভর শাপলা চত্বরে রাত কাটিয়ে কাকডাকা ভোরে অভিযান শুরু করবে/ ‘একই মায়ের পেটের দুই সহোদর ছাত্রদল-ছাত্রশিবির’ নামিয়ে নাশকতা চালানো হয়। খালেদা জিয়া রাজপথে না নামলেও জঙ্গি গোষ্ঠী ছাত্রদল-শিবিরকে ছদ্মবেশে নাশকতা চালাতে নির্দেশ প্রদান করে/বিদেশি ক‚টনীতিকদের ডেকে এনেও কান্নাকাটি করে/মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় প্রেসক্লাবে কাঁথা বালিশ নিয়ে এসে সাধারণ সম্পাদকের (শিবির) কক্ষে আস্তানা গাড়ার চেষ্টা করে / প্রেসক্লাব চত্বরে গণতন্ত্র মঞ্চ স্থাপন করে সরকার উৎখাতের অলিক স্বপ্ন দেখে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে ২০১২-১৩ এবং ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী ৯০ দিনের ঘটনাবলি, যাতে একজন প্রিসাইডিং অফিসার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ঘুমন্ত বাস-হেলপারসহ দেড় শতাধিক নাগরিককে হত্যা করা হয়। এর আগে ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দেশরতœ শেখ হাসিনার সমাবেশে লাগাতার গ্রেনেড গুলি হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত, যাতে শেখ হাসিনা আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেলেও তার এক কানের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৩ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে নিহত হন। কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকার প্রথম সরাসরি নির্বাচিত মেয়র মুহম্মদ হানিফ, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রাজ্জাক, শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গ্রেনেডের ইসপ্লিন্টার নিয়ে ইন্তেকাল করেন। সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ অফিস চত্বরে ছিল রক্তের বন্যা। যাদের রক্ত ঝরেছিল এবং যারা এখনো বেঁচে আছেন কি যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন সে কেবল তারাই জানেন। তখন ক্ষমতায় ছিল খালেদা জিয়া, বিচার করাতো দূরের কথা বরং পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছেন ‘শেখ হাসিনা ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটান (?)’

২০০১-এর নির্বাচন

২০০১-এর নির্বাচনে কারচুপি করে (এক কোটি ২৪ লাখ ভুয়া ভোট) নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে দেশব্যাপী অত্যাচার-নির্যাতন এমন মাত্রায় চালিয়েছিল যে, সংখ্যালঘুদের ওপর তো বটেই, নৌকায় ভোট দেয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া, পুকুরের মাছ-গোয়ালের গরু-বনের গাছ-গাছালি লুট, নারী নির্যাতন, কী অত্যাচার না করেছিল, যা বর্ণনারও অতীত। চোখ তুলে ফেলা হয়েছে, হাতের কবজি কেটে ফেলা হয়েছে, কী ভয়ংকর ছিল সেগুলো। যা পাকিস্তানি বর্বরতাকে মনে করিয়ে দেয়। খালেদা জিয়ার মনোজগতে এখনো চাঁদ তারা পতাকা। এইতো সেদিন দলের নির্বাহী কমিটির সভায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাকা চৌধুরীর নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

মানুষ রাজপথে নামেন না

বাংলার মানুষকে রাজপথে নামাতে পারেনি খালেদা জিয়া। বরং শেখ হাসিনার টার্গেট অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছে এবং গত ৪ বছরের অধিককাল শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তথা জাতি-রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী ঈর্ষণীয় রোল মডেল- সেদিন নির্বাচন হয়েছিল বলে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে / এখন দিনের ২৪ ঘণ্টায় বড় জোর ১/২ বারে কয়েক মিনিট লোডশেডিং হয়, সব দিন হয়ও না/ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, রপ্তানিও হচ্ছে/ মঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, কাহাত, আকাল ইত্যাদি শব্দাবলি এখন ডিকশেনারিতে উঠে গ্যাছে- জীবনে নেই/ জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ৭-এর ওপরে/মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলার বা ১,২৮,০০০ টাকা/ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার/ শিক্ষার হার ৭২%/ গড় আয়ু ৭১ বছর/মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ, এবার ৩য় হবে/আাগমী মার্চ মাসে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ। তারপর মধ্যম আয়ের দেশ, তারপর উন্নত বাংলাদেশ/ভারতের সাথে সীমান্ত সংকট সমাধান/সমুদ্রসীমানা নির্ধারণ/রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক ও ক‚টনৈতিক মোকাবিলা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত/শেখ হাসিনা এখন বিশ্বের ৫ জন সৎ রাষ্ট্র নেতার মধ্যে ৩য় /শেখ হাসিনার মত প্রধানমন্ত্রী যুগে যুগে জন্মায় না / শেখ হাসিনা বিশ্বের ১০ জন ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনেতার অন্যতম/ শেখ হাসিনা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত কিংবা সর্বজন শ্রদ্ধেয় কবি বেগম সুফিয়া কামালের উত্তরসূরি হিসেবে অদ্বিতীয়। কেবল যে মেধাবী তা নয়, এখনো রাত জেগে লেখাপড়া। আমি মাঝেমধ্যে শ্রীলংকার কলম্বো থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা অঝঅওঅঘ ঞজওইটঘঊ-এ লিখি। অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব ও লেখক গবেষক রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী আমাকে ওই অনলাইনে লিখতে উৎসাহিত করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে পর বিএনপি-জামায়াত জোটের হত্যা, নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, হিন্দুদের ওপর অত্যাচার এর ওপর একটি কলাম লিখি এবং কলামের শিরোনামের ছিল ঐরহফঁং ধৎব ঃযব ংড়হং ড়ভ ইধহমষধফবংয ংড়রষ এশিয়ান ট্রিবিউন এটিকে লিড আইটেম হিসেবে প্রকাশ করে। শেখ হাসিনা তখন বিরোধী দলীয় নেতা। সারাজীবন বাংলা সাংবাদিকতা (ইত্তেফাক) করেছি, এশিয়ান ট্রিবিউনে ইংরেজিতে কলাম লিখলাম, যার একটা প্রিন্ট আউট হাতে ছিল। নেত্রীর সাথে দেখা করলাম। তিনি লেখার হেডিং দেখেই বলে দিলেন ‘ওটা তো পড়ে ফেলেছি।’ তিনি কতখানি সিরিয়াস পাঠক! পোশাক-আশাকে কথাবার্তা আচার-আচরণে ধর্মাচারে একেবারেই বঙ্গনালী, ধার্মিক সেক্যুলার মুসলিম।

কে কার প্রতিপক্ষ

শেখ হাসিনার প্রতিপক্ষ দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা বিএনপির আজন্ম পাপ। লেখাপড়া ছাড়া ব্যবসা করা যায়, তাও আধুনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়তে হলে বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান থাকতে হয়। নইলে হাওয়া ভবন বানিয়ে লুটপাট করতে হয়। যে কারণে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে অন্তত একটা হলেও মনে রাখার মতো উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারতেন। তাছাড়া জ্ঞানের দীনতার কারণেই অনেক সময় অসংলগ্ন কথা বলে ফেলেন যেমন ২০০১-এর ইলেকশনের আগে বললেন : আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে/ মসজিদে আযান হবে না, উলুধ্বনি হবে/ মসজিদে তালা ঝুলবে / টুপি মাথায় দেয়া যাবে না।

যে কারণে তিনি বহুবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, মানুষকে রাজপথে নামাতে পারেননি, এবারও পারবেন না।

প্রশ্ন করেছিলাম ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী। তখন কি বাংলাদেশ ভারত হয়েছিল? তখন কি মসজিদে আযান হয়নি? তখন কি মসজিদে উলুধ্বনি হয়েছে? তারপরও এমন কথা বলা মূর্খ হিসেবে নিজিকে প্রতিষ্ঠিত করা নয় কি? পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময় মুসলিম লীগ ফতোয়া দিয়েছিল আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে বিবি তালাক হয়ে যাবে। মুসলিম লীগ ভেবেছে এটি বললে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে এবং তারা মেজরিটি পেয়ে যাবে এবং তরতর করে ক্ষমতায় চলে যাবে। কিন্তু হয়েছে উল্টোটাই, মুসলিম লীগের ভরাডুবি ঘটেছিল। এবার খালেদা জিয়া যা বললেন, তাতে পাগলেও হেসে কুটিকুটি হবে। বললেন : জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে, কেউ উঠবেন না, রিস্ক আছে।

সন্দেহ হয় না

তিনি জানেন না নির্মাণশৈলীই হলো মেঘা প্রজেক্টগুলো জোড়া দিয়েই হয়। একটা পার্টের সাথে আরেকটা পার্ট। কিন্তু তালি আসল কীভাবে? এটা হাস্যকর নয় কি? তবে পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল না করার তার আহ্বানের একটা পজিটিভ দিক আছে এবং তা হলো পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শেষ হতে হতে বিএনপি নামক ক্লাবটির অস্তিত্ব থাকবে না। তখন খালেদা জিয়া ‘নৌকা’য় চড়বেন এবং পদ্মা পার হবেন। সম্প্রতি তিনি আরেকটি কথা বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের অর্থ খরচ করে দুটি সাবমেরিন কিনে এনেছেন। উদ্বোধনের পর ২টিই ডুবে গেছে। তিনি জানেনই না যে, সাবমেরিন পানির নিচ দিয়ে চলে। বস্তুত তার ‘সন্দেহ’ হয় না। ইংরেজি পত্রিকার এক রিপোর্টারের রিপোর্ট এডিট করতে করতে নিউজ এডিটর সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারকে বললেন, তোমার যখন সন্দেহ হবে তখন ডিকশেনারি কনসাল করবে। রিপোর্টার উত্তর দিলেন, ‘আমার সন্দেহ হয় না।’

তার বিকল্প তিনিই

আগামী নির্বাচনে কে জিতবে, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন প্রশ্ন করা হলে সুশীল সমাজের একটি অংশ যারা কখনো ক্ষমতার স্বাদ পায়নি তারা বলবেন জিতবে বিএনপি প্রধানমন্ত্রী হবেন খালেদা জিয়া। তারা দুইটি রাজনৈতিক চালাকি সামনে নিয়ে এসেছেন- গণতন্ত্র ও সংলাপ। এই দুটিই বর্তমান বিএনপির কেন্দ্রীয় চরিত্র। তাদের কেউ কেউ বলেন, বর্তমান সরকার নাকি বেশি উন্নয়ন কম গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। তারা বোঝেনই না। এতে করে নিজের পায়েই কুড়াল মারছেন। তারা ভাবেন বাংলার জনগণ উন্নয়নও বোঝেন না গণতন্ত্রও বোঝেন না। আজ গ্রাম হাওর অঞ্চল বা পাহাড় একজন পশ্চাৎপদ মানুষও গণতন্ত্রও বোঝেন উন্নয়ন বোঝেন। সে যখন দেখে যাকে ভোট দিয়েছেন সে তার চাল-ডাল-তেল-লবণ-চিনির দাম স্থিতিশীল রাখছেন, সে যখন দেখে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ চলে গেছে, চাষের উপকরণ যথাসময়ে সহজে তার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে; কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসক আছে, ওষুধের সংকট নেই, জটিল রোগ হলে পরামর্শ দেয়ার লোক আছে- তখন সে বোঝে তার গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একটি আরেকটির পরিপূরক। তারা মনে করে শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথই সত্যিকার পথ এবং এ পথেই তাদের চলতে হবে। যারা বলেন সরকার-গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না তখন সে তাদের মিথ্যুক বলে।

গণতন্ত্র ও সংলাপ নিয়ে যারা গলা ফাটান তাদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কত আসন পেতে পারে? তারা বলবে বড়জোর ৩০ আসন? এরা কেউ সাংবাদিক কেউ শিক্ষক কেউ রিটায়ার্ড সরকারি কর্মকর্তা। বস্তুত এদের মনোজগতে আজও ‘চাঁদ-তারা পতাকা’- এই চারা গাছটি রোপণ করে গেছেন মিলিটারি জিয়া আর তাতে পানি ঢেলে বিষবৃক্ষে পরিণত করেছেন জিয়া পতœী খালেদা জিয়া। এই তথাকথিত সুশীলসমাজ বা টকশোর বুদ্ধিজীবীরা যখন বলেন আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না তখন তাদের বলার পেছনে কুটবুদ্ধি আছে- মানুষ যখন শুনবে আওয়ামী লীগ ৩০ আসন পারে, তখন সে ভাববে আওয়ামী লীগ তো ক্ষমতায় আসছেন না, অতএব এবার বিএনপির দিকে ঝুঁকে যাবে- পাগল আর কাকে বলে? বাংলাদেশের মানুষ কি দেখছে না খালেদা জিয়াও তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিরেন, ফলাফল অশ্বডিম। আরেকজন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে কতখানি উচ্চতায় ওঠে এসেছে এবং সম্মান-মর্যাদার দিক দিয়ে কতখানি অর্জন হয়েছে। জনগণকে বোকাভাবে বোকারাই। যিনি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত মেধাহীন তাকে তাকে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড় করানো মতলববাজি।

২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj