বিপ্লবী আলী আসাদ ও তাঁর >>‘ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন ফ্রন্ট’ : হারুন হাবীব

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

পাকিস্তানি স্বৈরতন্ত্র, সেনা ও ধর্মশাসিত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাঙালি গণমানুষের সশস্র সংগ্রাম আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, যার মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের সৃষ্টি। ১৯৪৮ ও ১৯৫২ এর ধারাবাহিকতায় যে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার উন্মেষ ঘটে, সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনাই এগিয়ে নেয় বাঙালিকে। এরপর আসে ১৯৬২ ও ১৯৬৬, যার পথ ধরে বাঙালি জাতীয়তাবাদ অগ্রসর হয়। এর পরিপূর্ণ বিকাশ ও বিস্তার ঘটে ১৯৬৯-এর গণজাগরণ, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে; যার চূড়ান্ত ও মূল নেতৃত্ব দান করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কিন্তু এর বাইরেও পাকিস্তানি সেনাতন্ত্র বা শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে কিছু কিছু মানুষ তৎপর হয়েছিলেন বিচ্ছিন্নভাবে, যাঁরা নিজেদের জীবনের সবকিছু দিয়ে বাংলা মায়ের সেবা করেছেন। এদেরই একজন আলী আসাদ, ওরফে ‘কালা খোকা’, যাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছিল ‘ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন ফ্রন্ট’ বা ‘ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন পার্টি’, যা এক বিচ্ছিন্ন বা ক্ষণস্থায়ী প্রচেষ্টা হলেও ইতিহাসে স্থান পাবার দাবি রাখে।

গোপন এই দলটির সদস্য সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। কিন্তু এরা সকলেই সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের কথা ভেবেছিলেন, সে লক্ষ্যে তৎপরতা চালিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মাটিতে গিয়ে এরা সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন। সময়ের বাস্তবতায় এই উদ্যোগগুলো কখনোই ব্যাপক উদ্যোগে পরিণত হয়নি, কিংবা ব্যাপক জনসংখ্যাকেও এতে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু এই প্রচেষ্টাগুলো ফেলনা নয় ইতিহাসে।

আলী আসাদ বা ‘কালা খোকা’ ছিলেন সৃষ্টিকালীন জামালপুর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা। ১৯৫৮ সালে সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানে যখন সামরিক শাসন জারি করা হয় তখন থেকেই এই তরুণ প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। তাঁরই নেতৃত্বে ‘ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন ফ্রন্ট’ বা ‘ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন পার্টি’ নামের যে উদ্যোগটির কথা শোনা যায় তার বিকাশ ঘটে বর্তমান জামালপুর ও শেরপুর জেলায়। এর সাংগঠনিক ভিত্তির তেমন প্রামাণিক দলিল পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের স্মৃতিচারণ বা দল থেকে প্রচারিত কিছু লিফলেট গবেষকগণ খুঁজে পান, যা থেকে এই উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব। তবে এটি যে কোনো জাতীয় ভিত্তিক সংগঠন ছিল না- সেটিও স্পষ্ট। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারির পর, ১৯৫৯ সালের দিকে, জামালপুরের মাটিতে এই দলটির পত্তন ঘটে। এই উদ্যোগের নেতাকর্মীরা ছিলেন প্রায় সকলেই আওয়ামী লীগ ও তখনকার ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সদস্য। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন পরিচালনার উদ্দেশ্য ছিল এইসব বিপ্লবীর। সে কারণে এই গোপন আন্দোলনের নেতাকর্মীরা একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও মওলানা ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। এটিও জানা যায় যে, তাদেরই একটি দল ভারতের মাটিতে, অর্থাৎ আসামে গিয়ে সেখানকার সরকারের সমর্থন লাভের চেষ্টা করেন। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় তাদের প্রত্যাশার পূরণ ঘটেনি।

এই সংগঠনটি যে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীকে ভীষণভাবে চিন্তিত করেছিল তার প্রমাণ মিলে সরকারি গোয়েন্দাযন্ত্রের তৎপরতায়। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের শুরুতেই এমন একটি বিপ্লবী আন্দোলনকে স্বাভাবিক কারণেই সরকার থেকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। কাজেই এই তৎপরতাকে নস্যাৎ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে থাকে সরকার। ফলে দলের অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন, নির্যাতিত হন। পুলিশি তৎপরতা যখন তীব্র হয় তখন পার্টির প্র্রতিষ্ঠাতা আলী আসাদসহ কয়েকজন কর্মী ভারতে চলে যান।

জামালপুরের ভাষা সংগ্রামী আখতারুজ্জামানের (মতি মিয়া) জবানিতে আলী আসাদের বিপ্লবী জীবনের কিছুু উপাখ্যান উঠে আসে। তাঁর ভাষ্য মতে : “একটি নাম আলী আসাদ। আজ সে আমাদের দ্রুবতারা। তাঁর দিকে চেয়ে আমাদের পথ চলতে হবে। ১৯৪৮ সাল থেকে সে ছাত্রলীগে যোগদান করে এবং বাংলাভাষা আন্দোলনে স্বক্রিয় অংশগ্রহণ করে জামালপুর মহকুমা ঘুরে ঘুরে বিরাট আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করায় প্রতিক্রিয়াশীল মুসলিম লীগ সরকার ১৯৫২ সালে তাঁকে গ্রেফতার করে এবং বিনাবিচারে ময়মনসিংহ কারাগারে আটকে রাখে। এরপর যতগুলো আন্দোলন হয় প্রত্যেকটিতে সে পুরোধারে ছিল।”

এই ভাষা সংগ্রামী আরো জানিয়েছেন, কীভাবে আলী আসাদ আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন করতে প্রথমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যান এবং পরবর্তী সময়ে শ্রীবর্দী সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে গোপন পথে আসামে প্রবেশ করেন।

ভারত থেকে দেশে ফিরেও এই আন্দোলনের নেতাকর্মীরা তাঁদের কাজ বন্ধ করেননি। তাঁরা গোপনে প্রচার কাজ চালিয়ে গেছেন। তাদের মত ও পথকে প্রকাশ করতে তাঁরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় লিফলেট বিতরণ করেছেন। এই পর্যায়ে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ নতুন করে তৎপরতা শুরু করে। অনেকেই আবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এই বিপ্লবীদের তৎপরতার কথা প্রয়াত রাজনীতিবিদ আলী আহাদের ভাষ্যেও কিছুটা উল্লেখ আছে। আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন, ১৯৬২ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এই দলের কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়, যারা সকলেই নির্যাতিত হয়েছেন।

ভারত থেকে ফিরে আসার পর আলী আসাদ কিছুদিন জেলে কাটান। বিপ্লবী দলটির সকলের বিরুদ্ধে তখন হুলিয়া জারি হয়। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হন। জেল থেকে বের হবার পর পুত্রের জন্য দেশে থাকা নিরাপদ না ভেবে তাসিরউদ্দিন মোক্তার তাঁর বন্ধু, ময়মনসিংহের সাবেক কংগ্রেস নেতা ও তখনকার পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ শ্রী সুরেন ঘোষের কাছে আলী আসাদকে গোপনে পথে ভারতে পাঠিয়ে দেন, যাতে সেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে পারেন। সেই যাওয়াই শেষ যাওয়া আলী আসাদের। তিনি আর দেশে ফেরেননি। বিপ্লবের যে পবিত্র ব্রত নিয়ে তিনি দেশ ছেড়েছিলেন তার পূরণ না হওয়ায় তিনি বিক্ষুব্ধ হন। জানা গেছে একসময় তিনি ভারত থেকে অন্য দেশেও পাড়ি দেয়ার চিন্তা করেন, যাতে তাঁর বিপ্লব সফল হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের লোকজন তাঁকে খোঁজ করেন। কিন্তু তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি, তিনি নিরুদ্দেশ হন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার ওপর তথ্য ও দলিল সংগ্রহের একটি শ্রমসাধ্য প্রকল্প হাতে নেই আমি কয়েক বছর আগে। সেই সুবাদে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয় রাজ্য ঘুরে ১৯৭১ সালের ঘটনাবলির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে থাকি। এ কাজে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় রাজ্যগুলোতে একটি করে গবেষক দল আমাকে সহায়তা করে। “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত- তথ্য ও দলিল” নামের তিন খণ্ডের বৃহদাকারের বইগুলো এবারের একুশে বইমেলায় আগ্রহী পাঠক পাবেন।

তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের শুরুর দিকে পূর্ববাংলা বা পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক শাসন অবসানের লক্ষ্যে সশস্ত্র আন্দোলন পরিকল্পনার কিছু বিচ্ছিন্ন প্রয়াসের কথা জানবার সুযোগ হয় আমার। জানতে পারি যে, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনার লক্ষ্যে পূর্ব পাকিস্তানের কিছু যুবক সে দিন ভারতের মাটিতে গিয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন।

আসামের প্রবীণ বামপন্থি রাজনীতিবিদ শৈলেন মেধি, যিনি ১৯৭১ সালে আসাম আইন সভার সদস্য ছিলেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন, এই তৎপরতার কথা আমার গবেষক বন্ধু ও আসামের সুপরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব স্মীতা মিশ্রকে জানান। তাঁর সাক্ষাৎকারে উঠে আসে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আরেক ভারতীয় সুহৃদ পান্নালাল দাশগুপ্তের ভূমিকা, উঠে আসে কীভাবে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মাটিতে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। সেসব প্রচেষ্টা সফল না হলেও সেগুলো কীভাবে ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে, সেটিও খুলে বলেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

আমার গ্রন্থনা ও সম্পাদনায় প্রকাশিত “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত” বইটির আসাম ও মেঘালয় খণ্ডে আমি শ্রী শৈলেন মেধির সাক্ষাৎকারটি পত্রস্থ করেছি। তিনি বলেছেন, “অনেক আগের কথা। একদিন ছয়জনের একটি দল গুয়াহাটিতে এল। ওরা এসেছিল ওদের সংগ্রামের জন্য অস্ত্র-শস্ত্রের খোঁজে। ওরা প্রথমেই কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃস্থানীয় কয়েকজন লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। কিন্তু বন্দুকের সঙ্গে পরিচয় না থাকা আসামের কমিউনিস্ট পার্টি তাদের জানিয়ে দিল যে অস্ত্র সংগ্রামে ওরা বিশ্বাস করে না, তাই পূর্ব পাকিস্তানের আন্দোলনে সাহায্য করার জন্য ওরা অপারগ। তখন মুক্তিবাহিনীর লোকেরা কমলা মজুমদারের বাড়িতে হাজির হলো। মজুমদার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করল। তারপর ওদের কোলকাতা নিয়ে গিয়ে পান্নাবাবুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থা করা হলো।”

শ্রী মেধির বয়ান আরো চমকপ্রদ হয় যখন তিনি বলেন : “উরিষ্যা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নন্দিনী সৎপথির সঙ্গে পান্নাবাবুর পুরোনো বন্ধুত্ব ছিল। সেই সূত্রেই পান্নাবাবু ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। প্রয়াত ফখরুদ্দিন আলী আহমদ সাহেবের সহযোগিতায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনেক মন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ করার সুযোগ ঘটলো। ইন্দিরা গান্ধী পান্নাবাবুকে আসাম গিয়ে বিমলা প্রসাদ চলিহার (আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী) সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিলেন। এই কথাও বললেন যে, আন্তর্জাতিক রীতিনীতির জন্য ভারত সরকার পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্রোহীদের প্রকাশ্যে সাহায্য করতে পারবে না। শ্রী বিমলা চলিহার সঙ্গে পান্নাবাবুর আগে থেকেই পরিচয় ছিল। চলিহা বাবুকে পান্নাবাবু ওর পরিকল্পনার কথা জানান। পরিকল্পনাগুলো হলো- ১। আসাম ও ত্রিপুরা সীমান্তে যুবকদের অস্ত্রশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়া। ২। প্রচারপত্র আর গোপন রেডিওর সাহায্যে পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণের মধ্যে সচেতন করা। ৩। মুক্তিবাহিনীর জন্য খাদ্য, বস্ত্র, অস্ত্র, ওষুধ ইত্যাদি সাপ্লাই করা।”

আসাম বিধান সভায় বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানি গণহত্যা নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয় ২৬ মার্চ ১৯৭১। এরপর একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস করা হয় বাংলাদেশের সমর্থনে। সেই সময়ও শৈলেন মেধি পুরনো দিনের ঘটনাটি বর্ণনা করেন। কিন্তু কিছু সদস্যের প্রবল প্রতিবাদে সেই কথাগুলো সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেয়া হয়।

শ্রী মেধির ভাষায় : “সেই সময় আমিও বিধান সভার একজন সদস্য। চারদিকে উত্তেজনা। মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চলিহা অসুস্থ। তাঁর জায়গায় মহেন্দ্র মোহন চৌধুরী বাবু রাজ্যের শাসন ভার চালাচ্ছেন। নতুন বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানাবার জন্য বিধান সভায় একটি প্রস্তাব নেয়া হলো। সেই সময় আমি এত উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম যে সেই অভিনন্দন প্রস্তাবের ওপরে ভাষণ দিতে গিয়ে আগের মুক্তি বাহিনীকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী চলিহা বাবুর আগের অবদানের কথাও বলে দিলাম। —- চারদিকে হৈচৈ লাগল। অধ্যক্ষ বাবু চলিহা বাবুর কথা উল্লেখ থাকা অংশটা আমার ভাষণ থেকে বাদ দেয়ার জন্য রুলিং দিতে বাধ্য হলেন। কেননা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির জন্য ভারতবর্ষের এক অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অন্য এক সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে এমন কাজ করতে পারেন না। এটা নীতি বিরুদ্ধ।”

আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, জামালপুরের আলী আসাদ বা তাঁর বিপ্লবী দলের সদস্যরাই সে দিন আসামে গিয়েছিলেন অস্ত্রের খোঁজে।

‘ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন ফ্রন্ট’ বা ‘ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন পার্টি’ যাই হোক না; এই ধারা নিশ্চিতভাবেই একটি বিচ্ছিন্ন বিপ্লবী ধারা, যা মূল রাজনীতিধারা থেকে আলাদাভাবে বিকশিত হবার প্রত্যয়ে জন্ম নিয়েছিল। তবে বিচ্ছিন্ন হলেও আলী আসাদের দলটি ইতিহাসের একটি জায়গা দখল করে আছে, যে ইতিহাস পাকিস্তানি শাসন-শোষণ থেকে বাংলার মানুষের মুক্তিচিন্তার ইতিহাস, যা গণমানুষের বিদ্রোহকে প্রকাশ করে। আমাদের জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থেই এইসব বিচ্ছিন্ন প্রয়াসগুলো সংরক্ষণ জরুরি।

২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj