উন্নয়ন রম্য : আলম তালুকদার

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

‘উন্নয়ন’ শব্দটি বিশেষ্য পদভুক্ত। এর অর্থ উত্তোলন, উন্নতিসাধন, উন্নতি। এই শব্দটির বিশেষণ হলো, উন্নয়নমুখী, যাতে উন্নয়ন বা উন্নতি হয় এমন, উন্নতির কাজে নিয়োজিত। উন্নয়নশীল, শক্তিবৃদ্ধি, উন্নতি সাধনে সচেষ্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। অন্যদিকে ‘রম্য’ শব্দটির অনেক অর্থ। যেমন; মজা, হাসি-ঠাট্টা, আনন্দ, কৌতুক, তামাশা রঙ্গ, রগড় ইত্যাদি, ইত্যাদি। উন্নয়ন নানা অর্থে নানা ভাবার্থে ব্যবহিত হয়ে থাকে। ব্যক্তি হতে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র পর্যন্ত এর উপস্থিতি খুব প্রকট। সবাই নিজের উন্নয়ন চায় এবং জীবন যায় সেই চেষ্টায়।

একবার এক বয়স্ক লিফটম্যান বিশতালায় এক যুবককে তুলে নামিয়ে দিয়ে বলেছিল, ‘আমি তোমার বাপের কাজ করে দিলাম’। কীভাবে? ‘কেন, আমি তোমাকে উপরে তুলে দিলাম!’ এই উপরে তুলে দেয়া বা উপরে ওঠাও এক ধরনের উন্নয়ন। সব সরকারের আমলেই দাবি করা হয়, ‘দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে’। এই কথা শুনতে শুনতে এক বয়স্ক লোক বড় এক গাছের মগডালে উঠে চারিদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকলে কাহিল হয়ে গাছের ডাল ভেঙে নিজে পড়ে পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বলল, হ্যাঁ উন্নয়নের জোয়ারে আমি ভাসতে ভাসতে হাসপাতালে এসে ঠেকেছি! গাছে উঠা মানে উপরে ওঠা। অনেকে উপরে উঠতে পারে ঠিক। কিন্তু ঠিক হালে নামতে পারে না।

এক গ্রামের আত্মীয় বাড়িতে এক আত্মীয় এসেছে। তাকে দেখে চালকুমড়ার ভাজি খাওয়াবে এই আশায় চালকুমড়া পাড়ার জন্য টিনের চালে উঠেছে। নামার সময় পা পিছলে দুম করে মাটিতে পড়ে গিয়ে কেক্কুৎ করে শব্দ করেছে। তো ঐ আত্মীয় দৌড়ে এসে তাকে মাটি হতে তুলে আর বলে, আহা, খুব ব্যথা পেয়েছেন, তাই না?

আরে না না, আমরা তো চাল হতে এই ভাবেই নামি!

পদোন্নতিও এক প্রকার উন্নতি। যারা এর সঙ্গে সংযুক্ত বা যারা ভুক্তভোগী তারা জানেন যে, ঠিক সময়ে পদোন্নতি না হলে এর মর্ম যাতনার বিষ কতদূর ছড়াতে পারে। একবার এক কর্মকর্তার পদোন্নতি হয় না, হয় না। বিশ বছরে মাত্র একবার পেয়েছিল। তিন বছর যাবৎ শুনে আসছে এই হয়, হচ্ছে। পরিবারের কাছেও নাজুক অবস্থা। তো একদিন সে তার আপন বউকে নিজের কাছে আদর করে ডেকে খাটে বসিয়ে তার কাঁধের উপর দুই পা তুলে দিয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলো। তো তার বউ বিস্মিত হয়ে বলল, এটা কি করলা? কেন? আমি আমার নিজের পদোন্নতি করে নিলাম। উল্লেখ্য, এই ঘটনার পরদিন তার পদোন্নতির আদেশ জারি হয়েছিল। সারা জীবন আফসোস করে যাচ্ছে, আহা কেন আমি আরো দুই বছর আগে ঐ কাজটি করিলাম না!

‘বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ’। আমার তো মনে হয় আবেগ আরো বাড়ছে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম এক কবিতায় মানে ‘সংকল্প’ কবিতায় লিখেছেন, ‘বিশ্বটাকে দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় ভরে’।

কবিরা যে ভবিষ্যৎ দেখতে পান তার প্রমাণ এই মোবাইল ফোন। ডিজিটাল বাংলাদেশ। উন্নয়নের চূড়ান্ত প্রমাণের এটি একটি মোক্ষম প্রমাণ। কিন্তু যন্ত্রের সঙ্গে যে যন্ত্রণা আছে। আধুনিক সুবিধায় আধুনিক অসুবিধা। আজকে তেরো কোটির ওপরে মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে। তার মানে ষোল কোটির মধ্যে তেরো কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে! কিন্তু মোবাইলের মধ্যে যে অনেক বিষয় ঢুকিয়ে দিয়ে সর্বনাশের বারোটা বেজে যাচ্ছে। প্রায়শ খবর পাওয়া যায়, মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাসের নিচে বা ট্রেনের নিচে পতিত! কী যন্ত্রণা! এটা কি উন্নয়নের দোষ? নাকি আচরণের দোষ? বেশি বেশি কোনো কিছুই ভালো নয়। হজম না হয়ে বদহজম! সুখ যেমন সবাই সহ্য করতে পারে না, সবাই সব জিনিস হজমও করতে পারে না।

কিছু ডিজিটাল যন্ত্রণা।

ঘরে ঘরে, জনে জনে মোবাইল। এক ফকির একজনের কাছে ভিক্ষা চেয়েছে। সে বলে ভাংতি নাই। মানে সে দিবে না। তখন সে বলল, ঠিক আছে এই নেন আমার কার্ড। আমার নাম্বারে বিকাশে টাকা পাঠাইয়া দিবেন। আবার এক বুয়া এক বাসায় কাজ করতে এসে বাসার ম্যামকে বলে, আমি আপনাকে চিনি। কেমনে? কেন ভালো করে খিয়াল করেন, আমি আপনার ফেইস বুক ফেরেন্ড!

এক বাসায় পাতিলের ঢাকনা হারিয়ে গেছে। খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন বুয়া বলে, আম্মা অত চিন্তা না করে গোগুলে সার্চ দ্যান!

গ্রামের এক দিনমজুর অনেক কষ্টে একটা কমদামি মোবাইল সেট কিনেছে। একবার তার গিন্নী বলল, দাও তো ফোনটা মায়ের সঙ্গে একটু কথা কই। তখন তার মোবাইলে ব্যালেন্চ নাই। বউ তো রাইগা-পাইদা শেষ। তখন তার বিশ্বাস অর্জনের জন্য ঐ নাম্বারে কল দিলে এক মহিলা বলে যাচ্ছে, ‘এই কলটি করার জন্য আপনার যথেষ্ট পরিমাণ ব্যালেন্চ নেই’। এই কথা শুনে তো ঐ মহিলা আরো ক্ষেইপা ভূত। সে বলে, ‘আমি তোমার বিয়া করা বউ তোমার ফোনে টাকা নাই, তা ঐ মহিলা জানে আর আমি জানি না! আমি তোমার লগে ঘরই করুম না’! লে হালুয়া! এইডা হলো গিয়া ডিজিটাল উন্নতির ডিজিটাল ‘ফোনফোনানী’!

এইবার একটু রাজনীতির জোকস বলি। বাঙালি হলো জন্মগতভাবেই রাজনৈতিক প্রাণী। দিনে একবার রাজনীতির প্যাচাল যদি না করে, চায়ের দোকানে বসে যদি রাজা উজির না মারে তো তার পেটের ভাত হজম হবে না।

জনসভায় এক নেতা জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে শেষে বলল, ‘আপনারা যদি আমাকে ভোট দিয়া জয়যুক্ত না করেন, তাহা হইলে আমি ওয়াদা করছি, প্রতিটি ঘরে ঘরে হাসপাতাল বানিয়ে আমি আপনাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করিব’।

এইটা ভারতের দুই মন্ত্রীর গ্প্প। একদিন এক মন্ত্রীর বাসায় তার এক বন্ধু মন্ত্রী নিমন্ত্রণ খেতে গেছেন। খানিদানির পর খোশ-গল্প। তা দিনকাল কেমন যাচ্ছে। বেশ ভালো। বাসার পিছনে নিয়ে তার বন্ধুকে বাইরে তাকাতে বলল, কী দেখছো। একটা বিশাল ব্রিজ দেখছি। এই ব্রিজের ২০% কমিশন আমার পকেটে! এক মাস পর ফিরতি দাওয়াত। তিনি তার বন্ধুকে খানিদানি করানোর পর বাসার পিছনে নিয়ে দেখতে বললেন। তিনি কিছুই দেখতে পেলেন না। শুধু ফাঁকা মাঠ। মানে কী? কয়েকশ কোটি টাকার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প ছিল। পুরো ব্রিজ আমার পকেটে!!!

একবার চার বন্ধুর তর্কযুদ্ধ। বন্ধুদের একজন ডাক্তার, একজন, ইঞ্জিনিয়ার, একজন রাজনীতিবিদ, আরেকজন আমলা। কার পেশা পৃথিবীতে আগে এসেছে। ডাক্তার বললেন, আমার। কীভাবে? ঐ যে আদম এলেন, তারপর একা। তাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য বিবি হাওয়া। বুকের পাঁজর হতে বিবি হাওয়ার সৃষ্টি। তো এখানে সার্জারির প্রয়োজন ছিল। হু হু। তাই আমার পেশা আগে। এবার প্রকৌশলী বন্ধুটি বললেন আরো আরো আগে যেতে হবে। সৃষ্টিকর্তা যখন এই দুনিয়া সৃষ্টি করলেন। মানে ‘কুন’ বললেন তো দুৃনিয়া হয়ে গেল। কিন্তু তার আগে সব ডিসঅর্ডার ছিল। তিনি পাহাড়-পর্বত সাগর-মহাসাগর নদীনালা নদ-নদী এসব সাজিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তার মানে ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রেন এখানে কাজ করছে। ডিসঅর্ডার হতে ইনঅর্ডারে এনছেন। হু হু হু। অত সোজা নহে। এবার রাজনীতিবিদ বন্ধুর পালা। তিনি অতীব ধীরেসুস্থে বললেন, সবই তো বুঝিলাম। আমার একটা কথার জবাব দাও। ঐ যে বললে, ডিসঅর্ডার ছিল। হিসাব করে বলো তো ঐ ডিসঅর্ডারটা কে করেছিল? সবাই চুপ! কিছুক্ষণ পরে আমলা বন্ধুটি কেশে বললেন, আমার কাছে সবার কার্যকলাপের রেকর্ড সংরক্ষিত আছে।

এগুলো নিছক জোকস। পৃথিবীর ইতিহাসে বা সভ্যতার ইতিহাসে, যা কিছু পরিবর্তন, উন্নয়ন, জনগণের দাবি-দাওয়া পূরণের জন্য রাজনীতিবিদরাই এগিয়ে এসেছেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। রাজনীতি না থাকলে বাংলাদেশই হতো না। আর আমরা বাংলা ভাষায় কথাই বলতে পারতাম না। যেখানে আলো, তার সঙ্গেই থাকে কালো, ভালো-মন্দের এই দুনিয়ায়, সবাই ভালো করতে চায়, থাকতে চায়। তো এত এক আরেকজনকে বলছেন, ‘চলেন কীভাবে?। জবাবে বললেন, আরে ভাই নিজেও চলি, আল্লায়ও চালায়। তো এই আধুনিক ডিজিটাল দুনিয়ায়, আমাদের কারা চালাচ্ছে? সকালে ফেসবুক, পেপার, টিভি, গুগলে আমাদের চালাচ্ছে। নিজেরা নিজেদের চালানোর সময়ই পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশে এমন একটা গ্রাম খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যে গ্রামে দুএকটা গাড়ির মালিক নেই। প্রায় সব বাড়িতে বিল্ডিং। বাড়ি হতে বের হলেই পাকা রাস্তা। বাড়িতে বাড়িতে বিদ্যুৎ। ঘরে ঘরে ফ্রিজ, টিভি। তাও কালার! মোবাইলের কথা বলতে হবে না। ধরেই নিতে হবে বাচ্চা-কাচ্চা বাদে সবার হাতে মোবাইল ফোন আছে। রাস্তা বাড়ছে, গাড়ি বাড়ছে। ট্রাফিক জ্যাম বাড়ছে। কামাই রুজি বাড়ছে। সহ্য শক্তি বাড়ছে। ভেজালও বাড়ছে। অসুখও বাড়ছে। হাসপাতালও বাড়ছে। রাস্তা পাকা হচ্ছে। গাড়ি বাড়ছে। দুর্ঘটনা বাড়ছে। অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। অপরাধ বাড়ছে। মামলা বাড়ছে। পুলিশ বাড়ছে। উকিল বাড়ছে। খরচও বাড়ছে। মানুষও বাড়ছে। আবার গড় আয়ু বাড়ছে। শুধু আবাদি জমি কমে যাচ্ছে! আগে কাঁচা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল, তবে পাকা শিক্ষক ছিলেন। এখন সব পাকা, সব পাকা। পাকাপাকি খুবই বেড়ে যাচ্ছে। যেসব মন্দভাবে বাড়ছে, সেসব সঠিক রাস্তায় পরিচালিত করতে পারনে একমাত্র রাজনীতিবিদরাই। আমাদের জাগতিক পরলৌকিক ভরসা যেমন সৃষ্টিকর্তা। দেশের উন্নয়নের ভরসা ও শান্তির ভরসাও রাজনীতিবিদরা।

উন্নয়ন মানে আর্থিক উন্নতি হলে মানুষ কতটা চালাক আর কৌশলী হয়ে যায় তার একটা গল্প দিয়ে আজকের উন্নয়ন রম্য শেষ করছি। গরিব এক কাঠুরিয়া দৈনিক বনে যায়, কাঠ কাটে, বাজারে যায়, বিক্রি করে, চাল-ডাল ইত্যাদি কিনে বাড়িতে ফিরে। বউ রান্না করে দুজনে হাসি-কান্নার জীবনযাপন করে। কোনো সন্তান ঘর উজ্জ্বল করেনি। একদিনের ঘটনা। সারা বন ঘুরে কাটার মতো কাঠ না পেয়ে মন খারাপ। হঠাৎ দেখে একটা বিরাট গর্ত। তো সে কুড়াল হাতে গর্তের কাছে গিয়ে উঁকি দিয়েছে। হঠাৎ তার হাত হতে ফসকে কুড়াল গর্তের মধ্যে পড়ে গেল। এবং অনেক নিচে পানিতে পড়ে টুব্বুস করে একটা শব্দ হলো। কাঠুরিয়ার আত্মার পানি শুকাইয়া গেল! এখন উপায়? কুড়াল না থাকলে কাঠ পাবে না। কাঠ না হলে খাবার জুটবে না। সে হতাস হয়ে মাথায় হাত দিয়ে ঐ গর্তের পাশে বসে হাউ-মাউ করে কান্না শুরু করে দিলো। ঐ বিরাণ বনে তার কান্না কে শুনে? প্রায় ঘণ্টাখানি কান্নাকাটি করার পর একজন তার কান্নায় সারা দিল। যে হাজির হলো সে একটা দৈত্য! হুমহাম করে তারে জিগাস করে, এই বেটা কান্নাকাটি কেন করা হচ্ছে? সমুস্যা কী? বেচারা দৈত্য দেখে আর তার গমগমা আওয়াজ শুনে আরো ভরকাইয়া ভিতরে ভিতরে মইরাই গেল। যাক মিনিট পাঁচ পরে সে তার সমস্যার কথা দৈত্য বলতে পারলো। সব কিছু শুনে দৈত্য বলল, ঘাবরাও মাৎ। ব্যবস্থা করিতেছি। এই বলে দৈত্যটা গর্তের পানিতে ডুবে গেল। একটু পরে একটা সোনার কুড়াল নিয়ে হাজির। বলল, এইটা তোর কুড়াল? সোনার কুড়াল দেখে সে বলল, না হুজুর। এইডা আমার না? দৈত্য আবার ডুব দিয়ে একটা রুপার কুড়াল সামনে ধরে বলল, এইটা তোর কুড়াল? না হুজুর। তো আবার ডুব। এবারে সেই আসল লোহার কুড়াল নিয়ে হাজির। কাঠুরিয়া তার আসল কুড়াল দেখে খুশিতে ডগমগ। জি হুজুর জি হুজুর এইডাই আমার কুড়াল। এবারে দৈত্য তার সততায় মুগ্ধ হয়ে বলল, ‘বেটা তুমি গরিব হলেও সৎ লোক।

আমি তোমার সততায় খুশি হয়ে তোমাকে তিনটি কুড়ালই দান করে দিলাম। কাঠুরিয়া খুশি মনে তিনটা কুড়াল নিয়ে বাড়িতে চলে গেল। তারপর আর তাকে পিছনে তাকাতে হয়নি। তিন কুড়ালের জাদুতে সে এক বছরেই এলাকায় একজন ধনী ব্যক্তি হয়ে গেল। তাদের সন্তানও এসেছে। তার বউকে সেই দৈত্যের কথা সেই গর্তের কথা সব বলেছে। তার বউ একবার আবদার করল, সে ঐ গর্তটা দেখবে। তো বউকে নিয়ে সেই গর্তের কাছে গিয়ে উঁকি দিতেই তার বউ গর্তের মধ্যে ধপাস করে পড়ে গেল। আবার গগনবিদারী কান্না। ঘটনাস্থলে সেই দৈত্য হাজির। সমস্যা জেনে দিল ডুব। দৈত্য প্রথমেই তার বউ হিসেবে যাকে হাজির করল, সে তার বউ নয়। নায়িকা মাধুরী দীক্ষিত। তাকে দেখেই কাঠুরিয়া বলল, জি হুজুর এইডাই আমার বউ। দৈত্য তো রেগে কাঁই! এই ব্যাটা! তুইতো বদলাইয়া গেচ্ছ। তোর চরিত্র নষ্ট হয়া গেছে। সততা নাই! তো কাঠুরিয়া কাকুতি মিনতি করে বলল, আমার কথা শুনে আপনি বিচার করুন। বল, তোর কী কথা? হুজুর আমি তো জানি আপনার স্বভাব। আমি যদি বলতাম এইডা আমার বউ না। আপনি ডুব দিয়ে আবার আরেকজন নিয়ে আসতেন। আমি বলতাম এইডাও না। শেষে আপনি আমার আসল বউ হাজির করতেন। আমি যদি হিসাব মতে সব করতাম তা হলে, আপনি আমার সততায় মুগ্ধ হয়ে তিনটা বউ আমাকে দিয়া দিতেন তাই না? কিন্তু আমি তো হুজুর একটা বউকেই সামলাইতে পারি না। তার মধ্যে আরো দুইটা? দৈত্য কিছুক্ষণ ঝিম ধরে থেকে বলল, ব্যাটা এই এক বছরে বেশ টাকার মালিক হয়ে, চালাক চতুর হয়েছ! তোমার চরিত্রে, তোমার মনের বেশ উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তুমি যেটা চিরদিনের জন্য হারালে তাতে তুমি অন্যরকমের অশান্তিতে প্রতিনিয়ত ভুগিতে থাকিবে। এই বলে দৈত্যটা অদৃশ্য হইয়া গেল!

২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj