গ্রন্থ ও যোগাযোগ পরিপূরক শিল্পমাধ্যম : মজিদ মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সা¤প্রতিককালে গ্রন্থ নিয়ে মিডিয়ার একটি ভোজবাজি- যার ইন্দ্রজাল ও মায়া অন্যান্য দেশের মতো আমাদের পাঠক-খরার দেশেও আছড়ে পড়েছিল। দেশের বই না বিকেলেও ইংরেজি-বাংলা মিলে এই বিদেশি বইয়ের কাটতি এখানে নেহায়েত মন্দ ছিল না। বইটি প্রকাশের শুরু থেকেই হুজুগে ইংরেজ জাতি বেশ মেতে উঠেছিল। এই বইয়ের প্রথম খণ্ড প্রকাশকালেই নিউইয়র্ক টাইমসের মতন পত্রিকা চার কলাম নিউজ ছেপেছিল। ব্রিটিশ লেখিকার বইটি খোদ আমেরিকাতেও প্রথম মুদ্রণে ছাপা হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি কপি। কিশোরপাঠ্য গ্রন্থটি সংগ্রহের জন্য শিশু ও তাদের অভিভাবকরা নির্দিষ্ট স্টলগুলোতে আগের রাত জেগে লাইন দিয়েছিল।

জে কে রাউলিংয়ের বইটি সত্যিই প্রকাশনা জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। বিক্রয়ের হিসেবে হ্যারি পটার সর্বকালের রেকর্ড ছেড়েছে আগেই। বই বিক্রির খবর নিঃসন্দেহে আনন্দদায়ক। তবু কী এমন ছিল বইটিতে- এ প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়া যায় না কিছুতেই। পাশ্চাত্যের অনেক লেখক-চিন্তাবিদই তাদের রচনার মাধ্যমে জ্ঞানের রাজ্যে ঝড় তুলেছেন বহুবার। সে তুলনায় রাউলিং অনেক বেশি অপ্রতিভ। আর কাহিনী বিস্তারে ঠাকুরমার ঝুলির কাছাকাছি হলেও রামায়ণ-মহাভারতের নিচে। তবু টেলিভিশন কম্পিউটার ইন্টারনেটের যুগে শিশু-কিশোরদের বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার সর্বজনীন অভিযোগের মধ্যে গ্রন্থের প্রতি এ আগ্রহের মূল্য কম নয়। এ আগ্রহ সৃষ্টির প্রধান নিয়ামক মিডিয়া সে উল্লেখ অবান্তর। কেবল রাউলিংয়ের গ্রন্থটি নয়, সা¤প্রতিক সময়ে যেসব বইয়ের লেখক ও প্রকাশকের ভাগ্যের শিকে ছিঁড়েছে তার পশ্চাতে রয়েছে মিডিয়া। গ্রন্থ প্রচারের ক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা নতুন নয়। ভিক্টোরিয়ান যুগে বায়রনের কবিতার বই প্রকাশের খবরে অন্তঃপুরের মহিলারাও নাকি লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু তার সংখ্যা দশ হাজারের বেশি নয়।

বইয়ের জগতের এ খবর আমাদের যুগপৎ আনন্দিত ও হতাশ করে। কারণ বই-বাণিজ্যের খবর বাস্তব হলেও গ্রন্থ নিয়ে সর্বজনীন চিরন্তন ধারণাটি জায়গা বদল শুরু করেছে মিডিয়ার কল্যাণে। একই সঙ্গে তথ্যগ্রাহী সমাজ নতুন করে মিডিয়ার আধিপত্যবাদী শিকারে পরিণত হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে চিন্তার জগতে নতুন উপনিবেশবাদ। তবে প্রকৃত গ্রন্থ ও গ্রন্থকারের জন্য এটি মোটেও ভীতির কারণ নয়। গ্রন্থ প্রাচীন, মিডিয়া অর্বাচীন। গ্রন্থ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে টিকে থাকবার অসম্ভব সহ্যক্ষমতা। মানব জাতির সবচেয়ে বিস্ময়কর আবিষ্কার লিপি। লিপির আশ্রয় গ্রন্থে। লিপি গ্রন্থের ক্ষুদ্র অংশ। মানুষ তার চিন্তা-চেতনাকে ধরে রাখার জন্য, অনুপস্থিত মানুষের কাছে তথ্য সরবরাহের জন্য যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সফলভাবে লিপি, চিহ্ন কিংবা প্রতীকের উদ্বোধন ঘটায়। যদিও তার আজকের রূপ পরিগ্রহ করতে বিবর্তন পর্ব ছিল হাজার হাজার বছরের। তবু লিপির চেয়ে অধিক কোনো আশ্চর্য সৃষ্টি মানুষ করতে পারেনি। মানবের যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারাবাহিকতার ইতিহাস লিপিকে আশ্রয় করেই জীবন্ত ও সক্রিয় হয়ে ওঠে- অনুপস্থিত ও অনাগত মানুষের জন্য ধরে রাখে অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ভাণ্ডার। আজকের যুগের রেকর্ড প্লেয়ারের চেয়ে এর বিস্ময়কর দিক কম নয়। মানুষ কেবল প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং চারপাশের জড়বস্তুর মধ্যেই বসবাস করে না- তাকে বাস করতে হয় বিশেষ একটি ভাষার অনুকম্পার মধ্যে- যে ভাষা তাদের জনসমাজের ভাব প্রকাশের বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর লিপি হলো ভাষার নীরব রূপ এবং যোগাযোগের প্রধান প্রতীক। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে বার্তা পৌঁছাবার জন্য লিপি প্রধান মাধ্যম। লিপি আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উন্নয়নের ক্ষমতা বেড়ে যায় বহুগুণ। কারণ মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ ও বিতরণ স্থায়ী রূপ পায়। লিপিজ্ঞান যে ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত এ বিষয়টি তৎকালীন সামন্ত স¤প্রদায় বুঝতে পেরেছিল। যে কারণে লিপিজ্ঞানের অধিকার অবারিত ছিল না। এমনকি অষ্টাদশ পুরাণ, রামের চরিত ব্রাত্যজন পাঠ করলে তাকে অনন্তকাল রৌরব নরকে পুড়তে হবে বলেও অনুশাসন জারি করা হয়েছিল। লিপি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ। ফলে এই সম্পদের ক্রয় এবং অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেছে উচ্চবিত্তের মানুষ। সে ক্ষেত্রে মিডিয়াই লিপির ছুৎমার্গতা ঘুচিয়ে দিয়ে শ্রেণিপাতের অবসান ঘটাতে সহায়তা করে।

গ্রন্থের জগৎ মূলত দুজনের সৃষ্ট জগৎ। এক লেখক, দুই পাঠক। যে গ্রন্থের একজনও পাঠক নেই কিংবা একজনও পাঠ করেনি তাকে গ্রন্থ বলা যায় না। সুতরাং গ্রন্থ লেখক এবং পাঠকের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এসব বিবেচনায়, মিডিয়াকে গ্রন্থ থেকে আলাদা করা দুষ্কর; বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়া। মিডিয়াকে তথ্য পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করলে সংবাদপত্র ও গ্রন্থের দায়িত্ব প্রায় কাছাকাছি এসে যায়। তবে মুদ্রণপ্রযুক্তি ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার উদ্ভাবন এবং অভাবনীয় উন্নতির ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে বিপ্লব সাধিত হয়েছে তাতে গণমাধ্যম হিসেবে গ্রন্থের উল্লেখ প্রায় অবান্তর। তাছাড়া গ্রন্থ ও মিডিয়ার উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যের মধ্যেও পার্থক্য ছিল শুরু থেকেই। যদিও যিশুর জন্মের আগেই গ্রিক ও রোমানরা তথ্য জ্ঞাপন করতে সংবাদ ইশতেহারের ব্যবহার জানতো, তবু সংবাদপত্রের আধুনিক রূপ নিতে লেগেছে কয়েক হাজার বছর। মূলত মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবের পর, বিশেষ করে উনিশ শতকের মাঝামাঝি বাণিজ্যবাদের নানা ধরনের তথ্য আদান-প্রদানের প্রয়োজনে এ শিল্পের বিকাশ ঘটে দ্রুত।

তবে লক্ষণীয়, শুরু থেকেই কোনো না কোনোভাবে লেখকরা ওতপ্রোতভাবে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। কেবল বাণিজ্যিক লেনদেনের সর্বসা¤প্রতিক তথ্যের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক মতামত, রচনা ও জনপ্রিয় সাহিত্যের জন্যও এ মাধ্যমটি মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর প্রাথমিক যুগেও ইংল্যান্ডে এডিসন, স্টিল, স্যামুয়েল জনসন ও ডানিয়েল ডিফোর মতো দক্ষ লেখক-সাংবাদিক এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থেকে পাঠকের চাহিদা মেটান। ফরাসি বিপ্লবের পরে ব্যবসায়-বাণিজ্যের ব্যাপকতর প্রসারের ফলে পারস্পরিক যোগাযোগের প্রশ্নে পত্রিকা এবং মিডিয়ার প্রচার ও প্রসার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে পত্রিকা জনপ্রিয় হয়েছে মূলত সাহিত্য-সংস্কৃতি-ফিচারের মাধ্যমে।

বাংলা সংবাদপত্রের প্রকাশ ও বিকাশ এর ব্যতিক্রম নয়। রামমোহন, বঙ্কিম, মীর মশাররফ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম সরাসরি পত্রিকা প্রকাশের সঙ্গে জড়িত থেকে নিজেদের সাহিত্য ও চিন্তা-চেতনার দ্যুতি পাঠকের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সংবাদপত্র যে সাহিত্যের সহায়ক শক্তি একালের মতো সেকালেও লেখকরা বুঝতে পেরেছিলেন। এই শিল্প বিকাশের পর একজন লেখকের লেখা প্রকাশের প্রাথমিক আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সংবাদ ও সাময়িকপত্র। আধুনিককালে সংবাদপত্র বইয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি। এই মাধ্যমের ব্যবহার ব্যতিরেকে বইয়ের কথা পাঠককে জানান দেয়া প্রায় অসম্ভব। পত্রিকায় লেখা প্রকাশ এবং আলোচনা-সমালোচনা ছাড়াও বইয়ের খবর জানাতে অন্য কোনো পণ্যের মতো বইয়ের বিজ্ঞাপনও পাঠক ও লেখক-প্রকাশকের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ গড়ে তুলছে।

প্রায় দেড়শ বছর আগে, আঠারো বছর বয়সে লেখা বঙ্কিমের প্রথম রচনা একটি ক্ষুদ্রাকৃতির কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা পুরাকালিত গল্প তথা মানস’ ১৮৫৬ সালে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরগুপ্তের সংবাদ প্রভাকরে বিজ্ঞাপিত হয়। যার ভাষা ছিল “ললিতা ও মানস’ উক্ত উভয় পুস্তক পয়ারাদি বিবিধ ছন্দে মতকর্তৃক বিরচিত হইয়া সংপ্রতি প্রকাশ হইয়াছে। যাঁহার প্রয়োজন হয় প্রভাকর যন্ত্রালয়ে অথবা পটলডাঙ্গার ৮৬নং নিউ ইন্ডিয়ান লাইব্রেরিতে তত্ত্ব করিলে পাইতে পারিবেন। ঐ পুস্তকদ্বয় একত্রে বন্ধন হইয়াছে। মূল্য ছয় আনা। শ্রীবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।”

বঙ্কিমের নিজের সম্পাদিত পত্রিকা ‘বঙ্গদর্শনে’ও নিয়মিত বইয়ের বিজ্ঞাপন ছাপা হতো। বঙ্কিম প্রায় ১৩ বছর এই পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। এ সময়ে কোনো গ্রন্থসংক্রান্ত তাঁর মতামত সংবলিত পত্রও বিজ্ঞাপন আকারে ছাপা হতে দেখা যায়। যেমন ডাক্তার যদুনাথ মুখোপাধ্যায়ের ‘ধাত্রীশিক্ষা’ নিয়ে বঙ্কিম লিখিত পত্রটি লেখক বিজ্ঞাপন আকারে পুরোটাই ছেপে দিয়েছিলেন। বঙ্গদর্শনের সময় থেকে বাংলা বইয়ের পাইরেট কপির কথাও জানা যায়। বঙ্গদর্শনের একটি সংখ্যায় এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছিল- ‘সতর্ক করা যাইতেছে- যে বঙ্কিমবাবুর পুস্তকের ওপর তাহার স্বাক্ষর থাকে। যাহাতে তাহার স্বাক্ষর নাই, কিংবা সঞ্জীববাবুর স্বাক্ষর নাই তাহা বিনা অনুমতিতে মুদ্রিত, এইরূপ কোনো পুস্তক, কোনো দোকানে পাইলে তাহা ধৃত করা হইবে।’ আজও অনেক জনপ্রিয় বইয়ের বিশেষ করে পাঠ্যপুস্তকের লেখক-প্রকাশককে নকল বই ধরতে বিভিন্ন বইয়ের দোকানে অভিযান চালাতে দেখা যায়।

বই প্রকাশের বাণিজ্য আধুনিককালের, বিশেষ করে মুদ্রণযন্ত্রের যুগে, সেই সঙ্গে মিডিয়ার প্রসারের পরে। বইয়ের ক্ষেত্রে নকল শব্দটি আগে এত বাজে কাজ বলে বিবেচিত হয়নি। হয়তো লেখকরা তাতে বিরক্ত না হয়ে আনন্দিতই হতেন। অনেক সুলতান, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বইয়ের নকল-নবিশি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে আমরা ইতিহাসে জানতে পারি। বই প্রচারের ক্ষেত্রে নকল-নবিশি ছিল অন্যতম পন্থা। আজো কিন্তু বই প্রচারে নকল বা পাইরেসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন ক্লিনটন কিংবা হিলারি, অরুন্ধতি, ঝুম্পা কিংবা হেনা দাস এদের বইয়ের আসল কপি কিনে পড়ার মতো সামর্থ্য আমাদের মতন দেশে অনেকেরই নেই। তা ছাড়া আসল এবং নকলের সূ²তা ও চেনার ক্ষমতাও কম। অগত্যা পাইরেসিই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়। সহজে ও কমমূল্যে বইটি হাতের কাছে পৌঁছে যায়। আমরা যারা পাঠক তাদের পক্ষে লেখক বা প্রকাশকের বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে সব সময় বইপড়া কী সম্ভব! ব্যাজস্তুতি করলে, বই প্রচারের ক্ষেত্রে পাইরেসিও একটি মিডিয়া।

রবীন্দ্রনাথ নিজে ভারতী, হিতবাদী, সাধনা প্রভৃতি পত্রিকা প্রকাশের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। পত্রিকার অগ্নিগর্ভ ক্ষুধা মেটানোর জন্য নিয়মিত দু’হাতে লিখতে হয়েছে তাঁকে। বই প্রচারের ক্ষেত্রে আলোচনা- সমালোচনার পাশাপাশি পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের আশ্রয়ও নিতে হয়। বইয়ের গুণাগুণ, কনসেশন, প্রাপ্তিস্থান এসবই বিজ্ঞাপনে উল্লেখ থাকতো। বিজ্ঞাপনকে মনোহারি করে তুলে ধরার প্রবণতা তখনো লক্ষ করা গেছে। বরং সা¤প্রতিক সময়ে বইয়ের বিজ্ঞাপন অপেক্ষাকৃত কম চোখে পড়ে। বর্তমানে কোনো কোনো পত্রিকা বইয়ের বিজ্ঞাপন প্রকাশের ক্ষেত্রে কনসেশন রেট দিয়ে থাকলেও সৃজনশীল বইয়ের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার চেয়ে চড়া। রবীন্দ্রনাথের বইয়ের বিজ্ঞাপনের একটি নমুনা এখানে হাজির করা যায়, ১৮৮৬ সালে ভারতী পত্রিকায় এটি ছাপা হয়। “নূতন কবিতা পুস্তক! নূতন কবিতা পুস্তক! কড়ি ও কোমল। শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রণীত। মূল্য ডাক-মাসুল সহিত এক টাকা মাত্র। ইহাতে শতাধিক কবিতা আছে। এত বড় গীতিকাব্য বাঙ্গালায় আর প্রকাশিত হয় নাই। …রবীন্দ্রনাথের কবিত্ব শক্তির কি পরিচয় দিতে হইবে।”

এ দিক দিয়ে বাঙালি মুসলমান লেখকরাও পিছিয়ে ছিলেন না। ইংরেজ রাজত্বে অপেক্ষাকৃত বঞ্চনার শিকার হয়েও নিজেদের স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠায় সংঘবদ্ধ প্রয়াস হিসেবে পত্রিকা প্রকাশকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন তারা। ১৮৭৪ সালের এপ্রিল মাসে মীর মশাররফ হোসেন ‘আজীজন নেহার’ নামে একটি পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। মীর মশাররফ হোসেনের শক্তিশালী লেখনী ও সম্পাদনার গুণে পত্রিকাটি আলোড়ন তুলেছিল তা আমরা জানতে পারি তৎকালের এডুকেশন গেজেট, কাঙাল হরিনাথ সম্পাদিত ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র সংবাদ থেকে। এ ছাড়া সুধাকর, মিহির, কোহিনুর, হিতকরী, প্রচারক, লহরী, নবনূর, বাসনা প্রভৃতি পত্রিকার মধ্য দিয়ে মুসলমান লেখকরা নজরুল-পূর্ব বঙ্কিম-রবীন্দ্র যুগে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।

কাজী নজরুল ইসলামের কবিত্বশক্তির কথা আমরা যত বড় করে জানি, সাংবাদিক সত্তার কথা হয়তো ততখানি মনে রাখি না। এর মধ্যে যে সত্য লুকিয়ে আছে, তা হলো সাংবাদিক সত্তা যত বড়ই হোক না কেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয়তা সমকালীন। সমকালীন প্রয়োজন মেটানোর জন্য, অতিপ্রয়োজনীয় খবরের পাশাপাশি গ্রন্থ ও গ্রন্থাংশের তথ্য দ্রুত প্রদানের জন্য সংবাদপত্রের ভূমিকা অতুলনীয়। সাংবাদিক হিসেবেও নজরুল তার কাব্যপ্রতিভার মতোই সৃজনশীল ও চলিষ্ণু। তাঁর প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ পরিচালনায় প্রকাশিত ‘নবযুগ’, ‘সেবক’, ‘ধূমকেতু’ ও ‘লাঙল’ পত্রিকা একই সঙ্গে যেমন তার উল্লেখযোগ্য রচনার বাহন হয়ে দাঁড়ায়, তেমনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সভ্য ও সাধারণ মানুষের মুখপত্র হয়ে ওঠে এই পত্রিকাগুলো। এসব পত্রিকার মাধ্যমেই নজরুল এই উপমহাদেশে সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার ডাক দেন। ‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতার জন্য নজরুলের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ আনা হয় এবং তাঁকে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

নজরুলোত্তর যুগে সাহিত্যের ক্ষেত্রে সাময়িকপত্র আরো জোরদার ভূমিকায় চলে আসে। আজকে যাকে আমরা তিরিশোত্তর সাহিত্য বলি, তার পুরোধা ছিল একটি পত্রিকা। এটি কম আশ্চর্যের কথা নয়, একটি পত্রিকাকে কেন্দ্র করে সাহিত্যের একটি আন্দোলন সংগঠিত হয়ে ওঠে। মাত্র সাড়ে সাত বছর পরিচালিত ‘কল্লোল’ নামের একটি মাসিকপত্রের নামে সাহিত্যের একটি আন্দোলন ও যুগকেই চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। আজকের যুগেও শামসুর রাহমান, আল মাহমুদসহ গ্রন্থের রচয়িতারা সংবাদ ও সাময়িকপত্র নির্ভর।

বাংলা সাহিত্য তথা গ্রন্থ প্রসারের ক্ষেত্রে বাংলা সংবাদ ও সাময়িকপত্রের ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। ১৮১৮ সালে প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলে। যার ধারাবাহিকতা ও প্রভাব বলয় ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। এই ক্ষমতা ও প্রভাবের কথা বিবেচনা করে সংবাদপত্র বিকাশের মধ্যযুগে জেমস গার্নার নামের এক স্বেচ্ছাচারী সম্পাদক ১৮৩৬ সালে তার পত্রিকায় লেখেন, ‘বইয়ের দিন খতম- রঙ্গশালার দিন ছিল- দিন ছিল ধর্মালয়গুলির। কিন্তু সেদিন এখন বাসি। মানুষের চিন্তা ও সভ্যতার সকল আন্দোলনেই কেবল খবরের কাগজকে নেতৃত্ব দেয়া যায়। যুগপৎ টাকা বানানোর সঙ্গে সঙ্গে একটি খবরের কাগজই পারে নিউইয়র্কের তাবৎ চার্চ আর ধর্মশালার চেয়ে অনেক বেশি আত্মাকে স্বর্গ পাঠাতে, অনেক বেশি আত্মাকে নরক থেকে বাঁচাতে।’ পত্রিকা প্রকাশের মালিকানা উদ্দেশ্যের তেমন পরিবর্তন না হলেও গার্নারের দম্ভোক্তিরও সত্যতা প্রমাণ হয়নি। সংবাদপত্র ও গ্রন্থ কেউ কারো শত্রু নয়। বরং পারস্পরিক সহযোগিতায় দুটি মাধ্যমই নিজেদের পুষ্টি জুগিয়ে চলেছে। গ্রন্থের প্রাথমিক প্রকাশ ও প্রসারের ক্ষেত্রে প্রিন্টিং মিডিয়া আজ অপরিহার্য। বইয়ের খবর জানতে চাওয়ার আকাক্সক্ষা যে মানুষের কম নয় তার প্রমাণ সারা পৃথিবীতেই বিভিন্ন পত্রিকার পাতায় বিভিন্নভাবে বইয়ের খবর গুরুত্ব সহকারে ছাপা হয়ে থাকে। যেমন ‘নিউইয়র্ক টাইমস বুক’ বলে একটি স্পেশাল করে থাকে। যেখানে বুক রিভিউ, বেস্ট সেলার লিস্ট, বুকস অফ দ্য টাইমস, সানডে বুক রিভিউ, রিডিং অপিনিয়নস, চিল্ড্রেন্স বুক, হ্যান্ডকভার ফিকশন, পেপারব্যাক ফিকশন, নন পেপারব্যাক ফিকশন, জয়েন ডিশকাশন নামে বিভিন্ন কলাম প্রকাশিত হয়ে থাকে।

এতক্ষণ বইয়ের ক্ষেত্রে মূলত প্রিন্ট মিডিয়ার ভূমিকা ও সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে এখন আর মিডিয়া বলতে এককভাবে প্রিন্ট মিডিয়া বা সংবাদপত্রকে বোঝায় না। প্রিন্ট মিডিয়ার চেয়ে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার দাপট আজ অনেক বেশি এবং ভয়াবহ রকম আগ্রাসী। কয়েক হাজার বছর ধরে গ্রন্থ মানবমনে যেভাবে ক্রিয়া করে আসছিল, গত শতকের মাঝামঝি মানব কণ্ঠস্বর ও তার শরীরী প্রতিরূপ দূরে প্রক্ষেপণের প্রযুক্তি আয়ত্তের মাধ্যমে সে ধারণা যে কিছুটা ব্যাহত হতে শুরু করেনি জোর করে বলা যাবে না। সংবাদপত্রে গ্রাহক শ্রেণিকে যেমন ভালোমতো লিপি আয়ত্ত করতে হতো, ইচ্ছে করলেই যে কেউ এই মিডিয়ার সুবিধা পেতে পারতো না। কিন্তু ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সেই দূরত্ব মুহূর্তেই ঘুচিয়ে দিল। টিভি নেটওয়ার্ক ক্যাবল টেলিভিশনের সর্বগ্রাসী বিস্তারের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ও চিন্তার ক্ষেত্রে নতুন করে তৈরি হয়েছে তাত্তি¡ক প্যারাডাইম। গার্নার সংবাদ পত্রের ক্ষেত্রে যে দম্ভোক্তি করেছিলেন, আকাশ মিডিয়ার ফলে সত্যিই গ্রন্থের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছিল। বই এতোকাল বিনোদন ও অবসর যাপনের উপায় হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। তার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা হ্রাস পেলেও বইয়ের জায়গা টিভি রেডিও কিংবা ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট ও চলচ্চিত্র দখল করতে পারেনি। এটা প্রমাণিত হয়েছে ভিজ্যুয়াল মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়া কেউ কারো বিকল্প নয়। আমরা পারিপার্শ্বের দৃশ্য জগতের মধ্যেই বেড়ে উঠি। কিন্তু দৃশ্যের বাইরে আমরা বইয়ের জগৎটি নির্মাণ করি। যার স্বাদ ও উপলব্ধি দৃশ্যজগৎ থেকে ভিন্ন। বই তো দূরের কথা ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার ফলে সংবাদপত্র নিয়ে যে আশঙ্কা করা গিয়েছিল, তাও সত্য হয়নি। এমনকি ইন্টারনেট ওয়েবসাইটে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরির মালিক হওয়া সত্ত্বেও বইয়ের আকাক্সক্ষা কমে না। বরং বই পাঠের ক্ষেত্রে এই মাধ্যমটি সহায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ চাহিদা স¤প্রসারণের পাশাপাশি বইয়ের চাহিদাও সমান তালে বেড়ে চলে। হ্যারি পটারের বিক্রি সংখ্যা সেই সত্যকে অনেক বেশি মাত্রায় তুলে ধরেছে। আমাদের ভুললে চলবে না যে বই একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বাণিজ্যিক পণ্য। যার প্রচারের সঙ্গে প্রসার জড়িত। লেখক উপেক্ষা করলেও একটি ভালো বইয়ের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উপেক্ষা করা যায় না। কেউ না কেউ বই থেকে ফায়দা লুটবে এটিই স্বাভাবিক। আমরা শুরুতেই দেখেছি, মিডিয়ায় বইকে ব্যবহার্য পণ্যের সঙ্গে বিজ্ঞাপিত করার প্রবণতা আমাদের নমস্য লেখককুল দেখিয়েছেন।

বই পাঠের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বইকে বিজ্ঞাপিত করার ক্ষেত্রে, বইয়ের মাহাত্ম্য ও ভালোমন্দ তুলে ধরার ক্ষেত্রে মিডিয়া যেমন বড় সুযোগ এনে দিয়েছে, তেমন মিডিয়া যে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়নি তা কিন্তু বলা যায় না। পাঠকের সীমিত পাঠচাহিদা সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সহজেই দখল করে নিতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দখল করে নিয়েছেও। সমাজের মধ্যবিত্তের দিকে তাকালে এর সত্যতা মিলবে। উনিশ ও বিশ শতকের বিকাশমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবারগুলোর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল পারিবারিক লাইব্রেরি, তা না হলেও অগত্যা কিছু বই লক্ষ করা যেতো। জমিদার কিংবা বিত্তবানদের উদ্যোগের বাইরেও পাড়া-মহল্লার তরুণদের লাইব্রেরি গড়ার উদ্যোগ নিতে দেখা যেতো। বর্তমানে শহরের উঠতি ধনিক শ্রেণির মধ্যে ফ্যাশন হিসেবে লাইব্রেরি গড়ার একটি প্রবণতা দেখা গেলেও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে সে উদ্যোগ তিরোহিত হয়েছে। মধ্যবিত্ত বাঙালি রমণীকুল, উঠতি তরুণ-তরুণীরা ছিল বইয়ের অন্যতম গ্রাহক। তাদের অধিকাংশ আজ টেলিভিশন সেটে, ভিডিও গেমে, ইন্টারনেটে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে।

লেখক তৈরির ক্ষেত্রে মিডিয়া সুফলের পাশাপাশি কুফলেরও জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে মিডিয়ার এই জয়জয়কার যুগে মিডিয়ার অগ্ন্যাশয় ভরবার জন্য এক শ্রেণির লেখক তৈরি হচ্ছে, যাদের আমরা লেখক না বলে স্ক্রিপ্ট রাইটার বলতে পারি। যারা গল্প কবিতার পরিবর্তে সংবাদপত্রের ফিচার রচনা করছে। একজন লেখকের পরিপক্কতা পাওয়ার আগেই মিডিয়া তাকে নিংড়ে নিতে চেষ্টা করে। সেই সঙ্গে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার তারকাখ্যাতি লেখককেও পেয়ে বসেছে। ব্যবসায়িক সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মিডিয়ার সর্বগ্রাসী বিস্তারের সঙ্গে লেখক পেরে উঠছে না সত্য। কিন্তু লেখককে যেমন মিডিয়ার কাছে যেতে হচ্ছে, তেমনি মিডিয়াকেও লেখকের কাছে আসতে হচ্ছে। সুতরাং দুপক্ষের একটি রফা বই পাঠ ও প্রচারকে তুঙ্গে নিয়ে যেতে পারে। কেবল আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন একমাত্র নিয়ামক হতে পারে না। সঙ্গে সঙ্গে দরকার সামাজিক ও মনোজাগতিক উন্নয়ন। বই এবং একমাত্র বই-ই পারে আমাদের সে পথে পরিচালিত করতে।

বই পাঠকে উৎসাহিত করার জন্য মিডিয়ার পৃষ্ঠপোষকতাকে আজ আর উপেক্ষা করা যায় না। আগের দিনে যে বই এবং লেখকের ভাগ্যে রাজানুগ্রহ কিংবা বিগ্রহ জোটেনি সে বই পাঠকের কাছে সহজে পৌঁছতে পেরেছে বলে মনে হয় না। প্রাচীন ও মধ্যযুগে রাজ-রাজড়া বইয়ের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। এখন সে দায়িত্ব এসে পৌঁছেছে মিডিয়ার ওপর। কারণ মিডিয়ার অনুগ্রহে আজ প্রায় প্রতিটি পরিবার একটি তথ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মিডিয়া সমাজ এবং পরিবারের রুচি তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখে চলেছে। সমাজ যত জটিল হয়ে উঠছে- সমাজের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ততই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ফলে মিডিয়ার অনুকম্পার ওপর তাকে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। শত সহস্র বইয়ের মধ্য থেকে একটি ভালো বইয়ের সন্ধান মিডিয়াই কেবল তাকে দিতে পারে। কাঁচাবাজারের সঙ্গে নতুন বইয়ের খবর প্রতিটি গৃহে মিডিয়া পৌঁছে দিতে পারে।

বই এবং মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে এখনো শেষ কথাটি বলা যাবে না। টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, চলচ্চিত্র, ওয়েবসাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থার সঙ্গে বই কীভাবে মানিয়ে চলবে তা দেখার জন্যও আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। আজকের অবস্থার যে পরিবর্তন আসবে না তা কিন্তু হলপ করে বলা যায় না। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মানুষ আশ্চর্য হবে, প্রাচীনকালে মানুষ কীভাবে হাতে লিখত। এমনকি এই হাতের লেখার কৌশল রপ্ত করতেও তাদের রীতিমতো কসরত করতে হবে। তবে মিডিয়ার স¤প্রসারণ এখন পর্যন্ত বইয়ের অনুক‚ল বলেই বিবেচিত হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকার পাঠক পরিসংখ্যান দেখেই তা অনুমান করা যায়।

সকল পরিবর্তনের মধ্যেও বই ও যোগাযোগকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজ টিকে থাকবে।

২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj