শিশুর মানসিক বিকাশ

শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বাবা-মা ও শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাত্রছাত্রীর প্রতি একটু খেয়াল ও সতর্ক দৃষ্টি রাখলে সন্তান ভালো ফলাফল করতে পারে। কিছু নিয়ম, কিছু কৌশল, কিছু ধারণা শিশুকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এই জন্য দরকার-

১. সুষম খাদ্য

২. পরিমিত ঘুম

৩. আত্মবিশ্বাস

৪. নিয়মিত ব্যায়াম

৫. প্রশংসা (জবধিৎফ) (পজিটিভ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি)

৬. পড়ার কৌশল।

সুষম খাদ্য :

* ছোট শিশুদের জন্য মায়ের দুধ শিশুর স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে অপরিসীম ভূমিকা রাখে। এটা আল্লাহর নেয়ামক।

* কিশোর-কিশোরীদের জন্য পুষ্টি ও সুষম খাদ্য শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একান্ত দরকার । অনেক টিনএজ মেয়েরা ডায়েটিং করে থাকে। এতে স্মরণশক্তি (মেমোরি) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে।

* অনেক গবেষক মনে করেন, বাদাম (grandnut) দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সকালে খাওয়ানো যেতে পারে।

* তাজা/ফ্রেশ ফলমূল যেমন : আম, পেঁপে, পেয়ারা, তরমুজ ইত্যাদি বেশি বেশি খাওয়ানো উচিত।

* শিশুর আয়রন ও জিংক ঘাটতি থাকলে স্মরণশক্তির সমস্যা হতে পারে। সে দিকে খেয়াল রেখে জিংক ও আয়রন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে খাওয়ানো যেতে পারে।

* ওমেগা ও ফ্যাটি এসিড বুদ্ধি ও স্মরণশক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে বলে বিশ্বাস করা হয়, অতএব এগুলো বেশি খাওয়ানো উচিত।

ব্রিটেনে একটি গবেষণায় দেখা গেছে কম মনোযোগী বাচ্চাদের ভরংয ড়রষ/ মাছের তেল খাওয়ানোর পর তাদের বিহেভিয়ার ও স্কুল চবৎভড়ৎসধহপব-এর উন্নতি হয়েছে।

তাই এগুলো পরিমাণে সামান্য কম, তাই ভাত, সবজি, মাছ খাওয়াই ভালো।

ঘুম :

পরিমিত ঘুম খুবই দরকার। এ জন্য পরীক্ষার আগে সারারাত জেগে পড়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হচ্ছে না। রুটিনমাফিক পড়াই উত্তম। পড়ার পর বিশ্রাম স্মরণশক্তি বাড়ায়। অর্থাৎ ঘুম স্মরণশক্তি বাড়ায়।

ব্যায়াম :

ব্যায়াম স্মরণশক্তি বাড়ায়। বাচ্চাকে বড় বড় করে শ্বাস নিতে বলুন। পেটভরে শ্বাস নেয়া হলে ব্রেনের থিটা ওয়েব বেশি ধপঃরাধঃব হবে। ব্রেনে ০২ বেশি সঞ্চালন হবে। স্মরণশক্তি বাড়বে।

আত্মবিশ্বাস :

আমি পারব- এই ধারণা শিশুকে আরো সামনে নিয়ে যেতে উৎসাহ জোগাবে।

সময় করে দেয়া (ঞরসব ইড়ী) :

এতটুকু সময়ে এই পরিমাণ পড়বে- এই জন্য টাইমবক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রিপিট :

মনে মনে ওই পড়াটা আবার স্মরণ করার অভ্যাস গড়তে হবে।

শিক্ষণ প্রদ্ধতি :

* স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির প্রধান শর্ত হলো শিক্ষণ। শিশুকে যতটুকু পড়াবেন তা যেন শিশু বুঝে বুঝে পড়ে এবং পড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকে এমন কিছু মিলিয়ে উদাহরণ দিয়ে কোনো ক্ষেত্র তৈরি করে পড়ানো উচিত।

* ছন্দ ও সুর করে পড়া ভালো।

আবৃত্তি করে পড়া :

মৃদু জোরে জোরে পড়লে দুটি ইন্দ্রীয় কাজ করে থাকে বিধায় মনোযোগ বেশি থাকে- শিশুর জন্য এটি দরকারি।

রুটিন প্রদ্ধতি :

* প্রতিদিন নিয়মিত পড়লে খুব অল্পতে পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যায়।

* পরীক্ষার আগে অনেক মানসিক চাপ থাকে- এই চাপের কারণে পড়া শেষ হয় না অতএব রুটিনমাফিক পড়া উচিত।

বিশ্রাম :

একটানা দীর্ঘ সময় পড়ার পর মাঝখানে একটু বিশ্রাম নেয়া ভালো। তাতে আবার পূর্ণ শক্তি পাওয়া যায়।

জবারবি করা :

* পড়ার পর, মাঝখানের থেকে প্রশ্ন করতে হবে কী পড়লাম-

কী এবং কেন এই প্রশ্নটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ, এ বিষয়ে সাইকোলজিস্টদের মতে জবপরঃব যত বেশি হবে, তত বেশি মনে পড়বে। ধরুন একটি রাস্তা দিয়ে যত হাঁটবেন তত পায়ের ছাপ পড়বে। অতএব পড়াশুনা আর ব্যায়াম ঠিক এরকমই। নিজে নিজে প্রশ্ন করে উত্তর দেয়া- এতে কোনো বিষয়ে সামগ্রিক ধারণা তৈরি হবে এবং বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

* যদি খুব টেনশন লাগে তাহলে নিয়মিত মেডিটেশন করা যেতে পারে।

* কফি, ক্যান্ডি ও ফৎরহশ না খাওয়াই ভালো, আর খেতে হলে খেতে দিন পরিমিত পরিমাণে।

* ছোট ছোট শিশুদের- ঢ়ৎরুব ভড়ৎ ৎবসবসনবৎ-যেমন শিশুকে বলুন এই ছড়াটা মনে রাখতে পারলে এই উপহারটা পাবে।

শিশুর স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে :

একটি সোজা-সূত্র : ঝছ৩জ

ঝঁৎাবু অর্থ হলো এক নজরে একটা বিষয় সম্পর্কে ধারণা, মনে মনে একটি ম্যাপ তৈরি করা।

ছঁবংঃরড়হ অর্থ হলো বাচ্চা যতটুকু পড়ল তার মধ্যে নিজে নিজে প্রশ্ন করে উত্তর দেয়া এতে ওই ঃড়ঢ়রপ সম্বন্ধে বিভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

Meaningful reading হলো বুঝে বুঝে পড়া। কোনো কিছু না বুঝে পড়লে বেশিক্ষণ মনে থাকে না।

জবপরঃব আবৃত্তিসহ পড়া।

জবাবি করা।

ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন

সহকারী অধ্যাপক

আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, ঢাকা

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj