মাহমুদ আব্বাস মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার অযোগ্য : যুক্তরাষ্ট্র

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০১৮

ট্রাম্পকে আব্বাস : টাকা দিয়ে মর্যাদা কেনা যাবে নাকাগজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের যথেষ্ট সাহস বা ইচ্ছাশক্তি নেই বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো নেতৃত্বের কাছে যাবে না যার শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার যথেষ্ট যোগ্যতা নেই। এদিকে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস তার মুখপাত্রের মাধ্যমে বলেছেন, টাকা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা কেনা যাবে না।

বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ইসরায়েলঘেঁষা। এরইমধ্যে জেরুজালেমকে এককভাবে ইসরায়েলি রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে তিনি কার্যত দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করেছেন। এমন বাস্তবতায় ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী মানতে নারাজ। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আব্বাসের সমালোচনা করেন নিকি হ্যালি। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার যথেষ্ট সাহস বা ইচ্ছা নেই। এর খানিকক্ষণ আগে দাভোসের ইকোনমিক ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শান্তি প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের ভূমিকার সমালোচনা করেছিলেন।

গত ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তে সারাবিশ্বে নিন্দার ঝড় ওঠে। এ নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোট হলে মার্কিন স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১২৮টি দেশ। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৯টি দেশ। ভোটদান থেকে বিরত ছিল ৩৫ দেশ। গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমরা তাদের কোটি কোটি ডলার দিয়ে সহায়তা করি। কিন্তু তারা আমাদের ভাইস প্রেসিডেন্টকে অসম্মান করেছে। আমরা এত অর্থ ও সহায়তা দেই কিন্তু কারও ভ্রæক্ষেপ নেই। এদিকে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস হুঁশিয়ার করেছেন, মার্কিন সহায়তা বন্ধের হুমকিকে পরোয়া করে না তার দেশ। ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ না নিলে আবারো মার্কিন সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। আব্বাস তার মুখপাত্রের মাধ্যমে বলেছেন, টাকা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা কেনা যাবে না। বৃহস্পতিবার দাভোসে ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গের পার্শ্ব বৈঠকের খানিকক্ষণ আগে ফিলিস্তিনকে হুমকি দিয়ে বলেন, শান্তি আলোচনায় অংশ না নিলে তাদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। তিনি বলেন, টাকা আলোচনার টেবিলে রাখা আছে। তারা শান্তি আলোচনায় না বসা পর্যন্ত ওই টাকা তাদের হাতে যাবে না। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি প্রশ্নে আগের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়ে ট্রাম্প জানান, আলোচনার জেরুজালেম ইস্যুটি নিয়ে আর আলোচনার সুযোগ নেই।

সহায়তা বন্ধের হুমকি দেয়ায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনাহ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

ট্রাম্পের হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর এ হুমকি নীতি প্রয়োগ করে কাজ হবে না। জেরুজালেম ইস্যুটি একটি পবিত্র ইস্যু। এটি এই অঞ্চলের যুদ্ধ ও শান্তির মূল ইস্যু। গোটা বিশ্বের টাকা দিয়েও এটি বেচাকেনা করা যাবে না।

বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ইসরায়েলঘেঁষা। এরইমধ্যে জেরুজালেমকে এককভাবে ইসরায়েলি রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে তিনি কার্যত দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করেছেন। এমন বাস্তবতায় ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী মানতে নারাজ। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক ফিলিস্তিনি আলোচনাকারী সায়েব এরেকাত। তিনি বলেন, ট্রাম্প তার টাকা দিয়ে অনেক কিছুই কিনতে পারেন, কিন্তু আমাদের দেশের মর্যাদাকে কিনতে পারবেন না।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj