আফ্রিন লড়াই : তুরস্কের বিরুদ্ধে সিরীয় বাহিনীর সাহায্য চায় কুর্দিরা

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০১৮

কাগজ ডেস্ক : সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আফ্রিনে অভিযানের নামে তুর্কি বাহিনী এলাকাটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে অভিযোগ তুলে সীমান্ত রক্ষায় দামেস্ককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলারা। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা তুরস্কের অভিযানকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছে বলে খবর বিবিসির।

সপ্তাহখানেক ধরে চলা এ তুর্কি ‘আগ্রাসনে’ আফ্রিনের বেসামরিক মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য কুর্দি কর্তৃপক্ষের। বিবৃতিতে তারা বলেন, আফ্রিনের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব পালনে ও তুর্কি দখলদারিত্বের হাত থেকে সীমান্ত রক্ষায় সিরিয়ার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। কুর্দিদের এ আহ্বানের ব্যাপারে দামেস্কর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। অভিযানের প্রথম ছয়দিনে ওয়াইপিজির ৪২ গেরিলার পাশাপাশি তুর্কিঘনিষ্ঠ বিদ্রোহীদের ৪৮ সদস্য নিহত হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে। কুর্দি গেরিলাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে এলাকাটিতে তুর্কি বাহিনীর সফলতার গতিও ধীর।

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলাদের হাতে, যাদের সন্ত্রাসী অ্যাখ্যা দিয়ে গত সপ্তাহের শনিবার থেকে আফ্রিনে ‘অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ’ শুরু করে তুর্কি বাহিনী ও তাদের সিরীয় মিত্ররা।

ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের ‘সন্ত্রাসী’ মনে করে আঙ্কারা; তাদের সঙ্গে তুরস্কের ভেতর ধারাবাহিক হামলা চালানো নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) যোগাযোগ আছে বলেও অভিযোগ তাদের। সিরীয় কুর্দিরা অবশ্য শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সিরিয়ায় তুরস্কের এ সামরিক অভিযান বহুমাত্রিক সংঘাতে জর্জরিত এলাকাটিতে নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের পথ উন্মোচন করতে পারে বলে আশঙ্কা পর্যবেক্ষকদের। এই অভিযান সিরিয়া ঘিরে থাকা পরাশক্তিদের মধ্যেও দ্ব›েদ্বর সূচনা ঘটাতে পারে।

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী লড়াইয়ে ওয়াইপিজি গেরিলাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র; তখন থেকেই কুর্দি এ অংশের সঙ্গে পেন্টাগনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, যা নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি ন্যাটো মিত্র তুরস্কের। আফ্রিনে অভিযান শুরুর পর এ বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা গোপন রাখেনি ওয়াশিংটন। বুধবার এ নিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, টেলিফোনে ট্রাম্প তুরস্ককে অভিযানের মাত্রা কমিয়ে আনার অনুরোধ করেন।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj